১১তলা থেকে পড়ে গুরুতর আহত সেই শিক্ষার্থী অমিতের মৃত্যু
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের মালিবাগ ক্যাম্পাসের বহুতল ভবন থেকে পড়ে গুরুতর আহত দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী অমিত ঘোষ মারা গেছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
কলেজের দুজন শিক্ষক সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তারা জানান, রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটের দিকে অমিত কলেজের ৬ নম্বর ভবনের ১১তলা থেকে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হয়। দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে শ্যামলীর একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিল সে।
শিক্ষকরা জানান, সোমবার সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটে চিকিৎসক অমিতকে মৃত ঘোষণা করেন। তার মৃত্যুতে সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এদিকে, অমিতের মৃত্যুর খবর জানিয়ে সোমবার মালিবাগ শাখার বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের গ্রুপে শিক্ষকদের পক্ষ থেকে একটি বার্তা দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, ‘অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, আমাদের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী অমিত ঘোষ আর আমাদের মাঝে নেই। আজ সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটে অমিত ঘোষ ইহলোকের মায়া ত্যাগ করে পরলোকে পাড়ি জমিয়েছে। অমিতের অকাল প্রয়াণে সাউথ পয়েন্ট পরিবার গভীরভাবে শোকাহত।’
অমিত ঘোষ সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের ইংরেজি ভার্সনের ‘আইসোটোপ’ সেকশনের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
আত্মহত্যা নাকি দুর্ঘটনা, উঠছে প্রশ্ন
অমিত কীভাবে ভবন থেকে নিচে পড়ে গেল, তা নিয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি দুর্ঘটনা নাকি সে ইচ্ছাকৃতভাবে ভবন থেকে লাফ দিয়েছিল—এ নিয়ে শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে।
আরও পড়ুন: জিন্নাহর ছবি ভাঙচুর করা ব্যক্তি ঢাবির উর্দুর শিক্ষার্থী
কয়েকজন শিক্ষক দাবি করছেন, অমিত আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে ভবন থেকে লাফ দিয়েছিল। তবে অভিভাবকদের একটি অংশ এ ধারণার সঙ্গে একমত নয়। তাদের ভাষ্য, যে ভবন থেকে অমিত পড়ে গেছে সেটি নির্মাণাধীন। ১১তলা পুরোপুরি খোলা এবং সেখানে এখনো নির্মাণকাজ চলছে। শিক্ষার্থীদের ওই এলাকায় যাতায়াত নিষেধ ছিল। ফলে অমিত সেখানে কেন ও কীভাবে গিয়েছিল, সেটি তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।
ফেসবুক প্রোফাইল ঘিরে আলোচনা
অমিতের ব্যবহৃত ফেসবুক প্রোফাইলের বায়োতে তার জন্মতারিখের পাশাপাশি ‘13/09/2026’ তারিখটি মৃত্যুর তারিখ হিসেবে উল্লেখ ছিল বলে জানা গেছে। সেখানে আরও লেখা ছিল, ‘Stand proud. You're limited edition. Only one ever created.’
ঘটনার পর তার প্রোফাইলে আগে থেকেই মৃত্যুর তারিখ উল্লেখ থাকার বিষয়টি সামনে এলে শিক্ষক-অভিভাবকদের মধ্যে নানা আলোচনা শুরু হয়। কেউ কেউ এটিকে আত্মহত্যার ধারণার সঙ্গে মিলিয়ে দেখছেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রোফাইলে থাকা তথ্যের ভিত্তিতে তার মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করা যায় না।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন পুলিশের
ঘটনার পর রামপুরা থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে এ ঘটনায় সোমবার পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ জমা পড়েনি বলে জানিয়েছেন রামপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর।
তিনি বলেন, ‘ঘটনার পর খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ঘটনাটি নিয়ে সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. শামসুল আলম ও উপাধ্যক্ষ জেরিনা ফেরদৌসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।
