স্কুলে ভর্তি পরীক্ষার নতুন নিয়ম নিয়ে যা জানাল মাউশি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১১ পিএম
ফাইল ছবি
আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে দেশের সরকারি-বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে। দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ৫০ নম্বরের এবং ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির জন্য ১০০ নম্বরের পরীক্ষা নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। আগামী ১৭ ডিসেম্বরের পর যেকোনো দিন এসব ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) মাউশির কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।
মাউশি সূত্র জানায়, দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষার জন্য সময় থাকবে এক ঘণ্টা। অন্যদিকে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির পরীক্ষার্থীরা সময় পাবেন দুই ঘণ্টা।
মাউশির খসড়া প্রস্তাব অনুযায়ী, দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য ৫০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হবে। এর মধ্যে বাংলায় ১৫, ইংরেজিতে ১৫ এবং গণিতে ২০ নম্বর থাকবে। পরীক্ষার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে এক ঘণ্টা।
আরও পড়ুন: প্রধান শিক্ষক ছাড়াই চলছে ৬২ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
অন্যদিকে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে ১০০ নম্বরের পরীক্ষা নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। দুই ঘণ্টার এই পরীক্ষায় বাংলায় ৩০, ইংরেজিতে ৩০ এবং গণিতে ৪০ নম্বর থাকবে।
মাউশির কর্মকর্তারা জানান, ভর্তি কার্যক্রম শুরুর আগে আগামী নভেম্বরের মধ্যে দেশের সরকারি-বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোকে তাদের শূন্য আসনের তথ্য দিতে হবে। এসব তথ্য সংগ্রহের পর শিক্ষার্থী ভর্তির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।
ভর্তি নীতিমালা চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার মাউশিতে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাউশির মাধ্যমিক শাখার পরিচালক অধ্যাপক মো. সাখাওয়াত হোসেন খান বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।
বৈঠকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের একটি প্রস্তাবনা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবনাটি আরও যাচাই-বাছাইয়ের পর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এরপর শিক্ষা মন্ত্রণালয় চূড়ান্ত ভর্তি নীতিমালা জারি করবে।
১৭ ডিসেম্বরের পর পরীক্ষা নেওয়ার প্রস্তাব
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা ও বিজয় দিবসের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর আগামী ১৭ ডিসেম্বরের পর থেকে বিদ্যালয়গুলোর ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার প্রস্তাব করবে মাউশি। তবে পরীক্ষার চূড়ান্ত তারিখ ও অন্যান্য বিষয় নির্ধারণ করবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
মাউশির একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, খসড়া প্রস্তাব অনুযায়ী দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির জন্য এক ঘণ্টার ৫০ নম্বরের পরীক্ষা এবং ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির জন্য দুই ঘণ্টার ১০০ নম্বরের পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
আরও পড়ুন: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির ক্ষমতায় কাটছাঁট, আসছে নতুন নিয়ম
করোনা সংক্রমণের পর থেকে দেশের সরকারি-বেসরকারি বিদ্যালয়গুলোতে প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী ভর্তি লটারির মাধ্যমে হয়ে আসছিল। তবে নতুন শিক্ষাব্যবস্থায় ভর্তি প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গত নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার গঠন করলে শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন সব শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার ঘোষণা দেন। পরে সমালোচনার মুখে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষা বাতিল করে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী নেওয়ার সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়েছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘মাউশি থেকে একটি প্রস্তাবনা শিগগিরই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এরপর ভর্তি নীতিমালা জারি করবে মন্ত্রণালয়।’
ফলে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম লটারির পরিবর্তে পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ার পথেই এগোচ্ছে। তবে মাউশির প্রস্তাবের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও ভর্তি নীতিমালা শিক্ষা মন্ত্রণালয় জারি করবে।
