এসএসসির খাতা দেখায় অবহেলাকারী পরীক্ষকদের নিয়ে যা বললেন শিক্ষামন্ত্রী
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩০ পিএম
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।ছবি: সংগৃহীত
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, এসএসসি পরীক্ষার খাতা পুনঃনিরীক্ষণের পর ৩ হাজার ৭৯ জন শিক্ষার্থী নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে। পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে যারা অবহেলা করেছেন, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে (আমাই) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাবৃত্তি ও ভাইস চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘৩ হাজার ৭৯ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন। শিক্ষকরা আমার সামনে বসে আছেন। এটা কি আপনাদের মনে প্রশ্ন জাগায় না? হঠাৎ করে ৩ হাজার ৭৯ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়ে গেল। প্রশ্নটা হলো—কেন?’
তিনি বলেন, ‘আমি যদি পাবলিক পরীক্ষা অ্যাক্ট, ১৯৮০-তে খাতা পুনঃনিরীক্ষণের সুযোগ না রাখতাম, তাহলে এই ৩ হাজার শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ থেকে বঞ্চিত হতো কি না? অবশ্যই বঞ্চিত হতো। এর মধ্য দিয়ে প্রমাণ হয়, খাতা মূল্যায়নে সমস্যা ছিল বলেই এসব শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ থেকে বঞ্চিত হয়েছিল।’
আরও পড়ুন: প্রধান শিক্ষক ছাড়াই চলছে ৬২ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘এখান থেকে আমরা কী শিক্ষা পেলাম? পরীক্ষকদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আমাকে করাতেই হবে। যারা খাতা ঠিকমতো মূল্যায়ন করেননি, তাদের জবাবদিহির মুখোমুখি করতে হবে। শুধু নম্বর দিয়ে দিয়ে চুপচাপ বসে থাকলে হবে না।’
তিনি বলেন, আগে শুধু ট্যাবুলেশন শিটের যোগফল ঠিক আছে কি না, তা যাচাই করা হতো। কিন্তু খাতার ভেতরে পরীক্ষক সঠিকভাবে মূল্যায়ন করেছেন কি না, আন্ডারমার্কিং বা ওভারমার্কিং করেছেন কি না, তা যাচাইয়ের সুযোগ ছিল না। পুনঃনিরীক্ষণের সুযোগ দেওয়ার পর অনেকে এর অপব্যবহারও করেছেন। ফলে অনেক ক্ষেত্রে তাকে বেশি সংখ্যক খাতা দেখতে হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত প্রায় ৩ হাজার শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। তাদের ফল পরিবর্তন হয়েছে। তাহলে ত্রুটি পরীক্ষকদের মধ্যেই ছিল। আমাকে আবার ফিরে গিয়ে বিষয়টি যাচাই করতে হবে। আমি খাতাগুলো আলাদা করে রেখেছি।’
শিক্ষকদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘শিক্ষকতা পেশায় আসার পরও অনেক সময় আমাদের শিক্ষকরা হাল ছেড়ে দেন। এটা সব সময় তাদের দোষ নয়। তাদের প্রয়োজন যথাযথ দিকনির্দেশনা, অনুপ্রেরণা ও প্রশিক্ষণ। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতেই হবে। তা না হলে ভবিষ্যৎ অন্ধকার। এজন্য সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’
আরও পড়ুন: স্কুলে ভর্তি পরীক্ষার নতুন নিয়ম নিয়ে যা জানাল মাউশি
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা সচিব আবদুল খালেক। সভাপতিত্ব করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। এ ছাড়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাবৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত বিভিন্ন কলেজের শিক্ষকরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষাবৃত্তি কার্যক্রম আগে থেকেই চালু থাকলেও এবারই প্রথমবারের মতো ভাইস চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড চালু করা হয়েছে।
