এইচএসসি
ফেল করা শিক্ষার্থীদের সুখবর দিলেন শিক্ষামন্ত্রী
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১০ পিএম
সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এইচএসসি ও সমমানের ফলাফল প্রকাশসংক্রান্ত সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ছবি: সংগৃহীত
এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের হতাশ না হয়ে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, একটি পরীক্ষার ফল দিয়ে কারও সম্পূর্ণ যোগ্যতা বিচার করা যায় না, এমনকি তা ভবিষ্যৎও নির্ধারণ করে দেয় না। নিজের ওপর বিশ্বাস রেখে আবারও চেষ্টা করতে হবে। সরকার শিক্ষার্থীদের পাশে রয়েছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন। এদিন প্রকাশিত এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলের পর উত্তীর্ণ ও অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি এ বার্তা দেন।
প্রত্যাশিত ফল না পাওয়া শিক্ষার্থীদের সান্ত্বনা দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী লেখেন, ‘মন খারাপ হওয়াটা স্বাভাবিক। তবে এই সময়ে নিজেকে একা ভেবো না। পরিবারের সঙ্গে, শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলো। একটু সময় নাও, নিজের ওপর বিশ্বাস রেখো। আবার এগিয়ে যাওয়ার পথে আমরা তোমাদের পাশে আছি।’
পোস্টে শিক্ষামন্ত্রী জানান, এবার এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫ জন পরীক্ষার্থীকে এক মাসের মধ্যে শুধু ওই বিষয়গুলোতে আবার পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। একটি বা দুটি বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ার কারণে দীর্ঘ এক বছর অপেক্ষা না করে শিক্ষার্থীরা যেন দ্রুত প্রস্তুতি নিয়ে পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেন, সে লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা বজায় রেখে ফল প্রকাশের চেষ্টা করা হয়েছে। প্রকাশিত ফল শিক্ষার্থীদের শেখার অর্জন ও ঘাটতির প্রকৃত চিত্র তুলে ধরেছে। এখন এসব ঘাটতি কাটিয়ে শিক্ষার মান উন্নত করাই সরকারের লক্ষ্য।
আরও পড়ুন: এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলে বড় ধসের যেসব কারণ
শিক্ষামন্ত্রী লেখেন, ‘কম পাসের হার আমাদের অর্জন নয়। আমাদের সাফল্য হবে, যখন শিক্ষার্থীরা ভালোভাবে শিখে, আত্মবিশ্বাস নিয়ে পরীক্ষা দিয়ে, নিজের যোগ্যতায় ভালো ফল করবে।’
শিক্ষার্থীদের ফল বিপর্যয়ের দায় শুধু তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘শুধু শিক্ষার্থীদের ওপর দায় চাপিয়ে দায়িত্ব শেষ করা যাবে না। শ্রেণিকক্ষে যথাযথ পাঠদান হচ্ছে কি না, শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় সহায়তা পাচ্ছে কি না এবং প্রশ্নপত্র ও মূল্যায়ন যথাযথ হচ্ছে কি না, সবকিছু গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনা করতে হবে।’
শিক্ষকদের প্রতি শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা চিহ্নিত করে পরীক্ষার প্রস্তুতিতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানান শিক্ষামন্ত্রী। একই সঙ্গে অভিভাবকদেরও সন্তানদের মানসিক অবস্থার প্রতি যত্নশীল হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
অভিভাবকদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘সন্তানদের অন্যের সঙ্গে তুলনা না করে তাদের কথা শুনতে ও আশ্বস্ত করতে হবে। ফল যা-ই হোক, পরিবারে তাদের ভালোবাসা ও সম্মানের জায়গা অটুট রয়েছে, সেই বিশ্বাস দিতে হবে।’
পোস্টে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, তাদের সাফল্যের পেছনে নিজেদের পরিশ্রমের পাশাপাশি শিক্ষক ও পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।
