×

বিনোদন

নগ্ন ফটোশুটে বিতর্ক, অথচ মডেলিং ছিল না মধু সাপ্রের স্বপ্ন

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫৫ পিএম

নগ্ন ফটোশুটে বিতর্ক, অথচ মডেলিং ছিল না মধু সাপ্রের স্বপ্ন

ছবি : সংগৃহীত

ভারতের নব্বইয়ের দশকের অন্যতম জনপ্রিয় সুপারমডেল মধু সাপ্রেকে আজও অনেকেই মনে রাখেন একটি বহুল আলোচিত বিজ্ঞাপনচিত্রের কারণে। ১৯৯৫ সালে মডেল-অভিনেতা মিলিন্দ সোমানের সঙ্গে একটি জুতার বিজ্ঞাপনে তাঁর সাহসী উপস্থিতি দেশজুড়ে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল। সেই একটি কাজ যেমন তাঁকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসে, তেমনি দীর্ঘ আইনি লড়াই, পেশাগত ক্ষতি এবং ব্যক্তিগত নানা চ্যালেঞ্জও বয়ে আনে। তবে মডেলিং নয়, ছোটবেলায় তাঁর স্বপ্ন ছিল একজন ক্রীড়াবিদ হওয়া।

খেলাধুলা থেকেই পথচলা

শৈশব থেকেই খেলাধুলার পরিবেশে বেড়ে ওঠেন মধু সাপ্রে। বাবার উৎসাহে জাতীয় পর্যায়ের অ্যাথলেট হিসেবে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে একাধিক পদকও জেতেন। ফ্যাশন অঙ্গনের সঙ্গে তখন তাঁর কোনো সম্পর্ক ছিল না। পরে এক অনুষ্ঠানে আলোকচিত্রী শান্তনু শিওরের নজরে পড়েন তিনি। তাঁর উৎসাহেই মডেলিংয়ে যাত্রা শুরু হয়। প্রথমে একটি পোশাক ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপনে কাজ করেন। এরপর ১৯৯২ সালে অনেকটা কৌতূহল থেকেই অংশ নেন ফেমিনা মিস ইন্ডিয়া প্রতিযোগিতায়।

সেই প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হওয়ার পর তিনি ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন মিস ইউনিভার্স আসরে। সেখানে দ্বিতীয় রানারআপ হয়ে ইতিহাস গড়েন, কারণ এর আগে কোনো ভারতীয় প্রতিযোগী শীর্ষ তিনে জায়গা করে নিতে পারেননি। খবর দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের।

ইংরেজিতে দুর্বলতা, কিন্তু আন্তরিকতায় জয়

মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতায় তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, এক দিনের জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী হলে তিনি কী করতেন। উত্তরে মধু বলেন, মাত্র এক দিনে দেশের দারিদ্র্য দূর করা সম্ভব নয়। তবে শিল্প ও ক্রীড়ার উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। নিজের খেলোয়াড়ি জীবনের অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি বলেন, দেশে পর্যাপ্ত মাঠ ও প্রয়োজনীয় ক্রীড়া সরঞ্জামের অভাব রয়েছে।

পরে তিনি স্বীকার করেন, ইংরেজিতে পুরোপুরি সাবলীল না হওয়ায় নিজের ভাবনা ঠিকভাবে তুলে ধরতে পারেননি। তবে আন্তরিকতার সঙ্গে দেওয়া সেই উত্তরই মানুষের মনে জায়গা করে নেয়।

যে বিজ্ঞাপন বদলে দেয় জীবন

মিস ইন্ডিয়া হওয়ার পর খুব অল্প সময়েই ভারতের শীর্ষ সুপারমডেলদের একজন হয়ে ওঠেন মধু। একের পর এক নামী প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন ও চলচ্চিত্রের প্রস্তাব আসতে থাকে। ঠিক সেই সময় ১৯৯৫ সালে টাফ শুজের একটি বিজ্ঞাপনে অংশ নেন তিনি।

সাদা-কালো ওই বিজ্ঞাপনচিত্রে মধু সাপ্রে ও মিলিন্দ সোমানকে নগ্ন অবস্থায় একটি অজগর সাপ জড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। প্রকাশের পরপরই এটি ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি করে। অশ্লীলতা এবং বন্য প্রাণী সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। প্রায় ১৪ বছর ধরে আইনি প্রক্রিয়া চলার পর শেষ পর্যন্ত দুজনই খালাস পান।

পরে কী বলেছিলেন মধু?

বহু বছর পর মধু সাপ্রে জানান, কাউকে আঘাত করার উদ্দেশ্যে তিনি কখনোই ওই ছবি তোলেননি। তাঁর মতে, আগে থেকে এত বড় বিতর্ক হবে জানলে তিনি এমন কাজ করতেন না।

তিনি আরও বলেন, প্রচার বা অর্থের জন্য নয়, বরং খ্যাতিমান আলোকচিত্রী প্রবুদ্ধ দাশগুপ্তের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ থেকেই তিনি ওই ফটোশুটে অংশ নিয়েছিলেন। এমনকি এর জন্য তিনি কোনো পারিশ্রমিকও নেননি।

থেমে যায় চলচ্চিত্রে সম্ভাবনা

বিতর্কের প্রভাব শুধু আদালতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। সে সময় বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, প্রযোজকদের সংগঠন মধুকে নিয়ে কাজ না করার পরামর্শ দিয়েছিল। মিলিন্দ সোমানের বিপরীতে অমোল পালেকরের একটি ছবিতে তাঁর অভিনয়ের পরিকল্পনাও শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি।

পরে আন্তর্জাতিক মডেলিংয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ায় এবং দীর্ঘ সময় লন্ডন ও প্যারিসে অবস্থান করায় তিনি নিজেও সেই প্রকল্প থেকে সরে দাঁড়ান।

আলোচিত সম্পর্কের ইতি

একসময় মিলিন্দ সোমান ও মধু সাপ্রে ভারতের সবচেয়ে আলোচিত তারকা জুটিগুলোর একটি ছিলেন। অনেকেই তাঁদের বিয়ের অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে মতপার্থক্যের কারণে তাঁদের সম্পর্কের বিচ্ছেদ ঘটে।

ইতালিতে নতুন অধ্যায়

২০০১ সালে ইতালীয় ব্যবসায়ী জিয়ান মারিয়া এমেন্দাতোরিকে বিয়ে করে ইতালিতে স্থায়ী হন মধু। সেখানে থেকেও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মডেলিং চালিয়ে যান। ২০০৩ সালে বুম চলচ্চিত্রের মাধ্যমে অভিনয়ে অভিষেক হলেও ছবিটি বাণিজ্যিকভাবে সফল হয়নি।

মাতৃত্বের জন্য ক্যারিয়ার থেকে বিরতি

দীর্ঘদিন মডেলিং ও অভিনয়ে ব্যস্ত থাকার পর ২০১০ সালে তিনি কাজ থেকে বিরতি নেন। কারণ, তিনি মা হতে চেয়েছিলেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ২০১২ সালে জন্ম হয় তাঁর কন্যা ইন্দিরার।

পরবর্তীতে অভিনয় ও মডেলিংয়ে ফেরার পরিকল্পনা থাকলেও ব্যক্তিগত জীবনের একের পর এক কঠিন অভিজ্ঞতা—বাবার মৃত্যু, মানসিক সংকট, বিবাহবিচ্ছেদ এবং পরে ভাইয়ের মৃত্যু—তাঁর জীবনকে ভিন্ন পথে নিয়ে যায়।

তবে সব প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি হাল ছাড়েননি। মধুর ভাষায়, ‘জীবন আমাকে বারবার মাটিতে ফেলে দিয়েছে, কিন্তু প্রতিবারই আমি নিজেই উঠে দাঁড়িয়েছি।’

এখন পরিবারই সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার

বর্তমানে ইতালিতেই বসবাস করছেন মধু সাপ্রে। মেয়ে ইন্দিরার দেখাশোনা, স্কুল ও খেলাধুলাসহ দৈনন্দিন জীবনের বেশির ভাগ সময়ই তিনি পরিবারের সঙ্গে কাটান।

তাঁর মতে, মিস ইন্ডিয়া হওয়া কিংবা আন্তর্জাতিক সুপারমডেল হিসেবে সাফল্য অর্জন নিঃসন্দেহে জীবনের বড় প্রাপ্তি। তবে মা হওয়ার পরই তিনি নিজেকে সবচেয়ে পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে অনুভব করেছেন।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

স্পিকারের বাসভবনে থাকবেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি

স্পিকারের বাসভবনে থাকবেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি

মোদির আশ্বাসেও থামছে না বিক্ষোভ, কোন পথে ভারতের আন্দোলন?

আলজাজিরার এক্সপ্লেইনার মোদির আশ্বাসেও থামছে না বিক্ষোভ, কোন পথে ভারতের আন্দোলন?

‘হাসপাতাল নয়, যেন উত্তর কোরিয়ায় ছিলাম’

সোনম ওয়াংচুক ‘হাসপাতাল নয়, যেন উত্তর কোরিয়ায় ছিলাম’

বিশ্বকাপের চমক ভোজিনিয়া যোগ দিলেন নতুন ক্লাবে

বিশ্বকাপের চমক ভোজিনিয়া যোগ দিলেন নতুন ক্লাবে

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App