স্পেনে ২৪ ঘণ্টায় ৫০ হাজার মানুষের ঢল, ইউরোপজুড়ে উদ্বেগ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ আগস্ট ২০২৬, ১২:২৫ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
উত্তর আফ্রিকায় মরক্কো সীমান্তঘেঁষা স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত শহর সেউতায় মাত্র ২৪ ঘণ্টায় ৫০ হাজারের বেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীর ঢল নেমেছে। স্থল ও সমুদ্রপথে সীমান্ত পার হতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন বহু মানুষ। স্পেনের অংশে এ পর্যন্ত ৫৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরক্কোর দিকেও হতাহতের খবর পাওয়া গেছে।
স্পেন সরকার জানিয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় ৩৭ হাজার ৩০০ জনকে সীমান্ত থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে অথবা তারা স্বেচ্ছায় মরক্কোতে ফিরে গেছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সীমান্তজুড়ে অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।
বিশ্লেষকদের মতে, সেউতার স্বাভাবিক জনসংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি মানুষ একদিনে সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করায় সেখানে মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। আফ্রিকার সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একমাত্র স্থলসংযোগ হওয়ায় সেউতা ও মেলিলা দীর্ঘদিন ধরেই অভিবাসীদের প্রধান প্রবেশপথ হিসেবে পরিচিত।
উন্নত জীবন ও নিরাপত্তার আশায় আফ্রিকা থেকে ইউরোপে যেতে ইচ্ছুক অনেকেই মরক্কোর ফনিদেক বা বেলইউনেশ উপকূল থেকে সাঁতরে সেউতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পথ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় প্রায়ই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
আরো পড়ুন : সেউতায় মৃত্যুর মিছিল, মরক্কোতে ফিরছেন অভিবাসীরা
অল্প সময়ের মধ্যে এত মানুষের সীমান্ত অতিক্রমের কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, মরক্কো-স্পেন সম্পর্ক, পশ্চিম সাহারা ইস্যু এবং স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের সাম্প্রতিক আলজেরিয়া সফর এ ঘটনার পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।
অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের দাবি, স্পেনের সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক একটি রায় নিয়ে মানবপাচারকারী চক্র গুজব ছড়িয়ে বিপুলসংখ্যক মানুষকে সীমান্ত পার হতে উৎসাহিত করেছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে স্পেন সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করেছে। ঘটনাটি নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর মধ্যেও আলোচনা শুরু হয়েছে। ইতালি সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ আরো কঠোর করার আহ্বান জানিয়েছে, আর ফ্রান্সও স্পেন সীমান্তে তল্লাশি বাড়িয়েছে।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সাল থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে ৩৫ হাজারের বেশি অভিবাসনপ্রত্যাশী নিহত বা নিখোঁজ হয়েছেন। চলতি বছরের প্রথম সাত মাসেই এ সংখ্যা প্রায় দেড় হাজারে পৌঁছেছে।
