অ্যাজমা নিয়ন্ত্রণে যেসব খাবার খাবেন, যেগুলো এড়াবেন
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৩:০৬ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
অ্যাজমায় আক্রান্ত অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে—কিছু খাবার কি তাদের শ্বাসকষ্টের সমস্যা আরো বাড়িয়ে দিতে পারে? বিশেষজ্ঞদের মতে, খাদ্যাভ্যাস সরাসরি অ্যাজমার কারণ না হলেও কিছু খাবার উপসর্গ বাড়িয়ে দিতে পারে। আবার কিছু পুষ্টিকর খাবার ফুসফুসের সুস্থতা বজায় রাখতে এবং প্রদাহ কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখে। তাই কোন খাবার খাওয়া উচিত আর কোনগুলো এড়িয়ে চলা প্রয়োজন, তা জানা থাকলে অ্যাজমা নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই সহজ হতে পারে।
খাবার কি অ্যাজমার উপসর্গ বাড়াতে পারে?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অ্যাজমা একটি দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসতন্ত্রের রোগ, যা শ্বাসনালীকে সংকুচিত করে এবং শ্বাস নিতে কষ্ট সৃষ্টি করে। যদিও কোনো খাবার সরাসরি অ্যাজমা তৈরি করে না, তবে কিছু নির্দিষ্ট খাবার সংবেদনশীল ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে উপসর্গ বাড়িয়ে দিতে পারে।
অ্যাজমা রোগীদের সালফাইটযুক্ত খাবার—যেমন শুকনো ফল, ওয়াইন এবং প্রক্রিয়াজাত আলু—এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়। পাশাপাশি হট ডগ, টিনজাত মাংস, হ্যাম, পেপারোনি ও সসেজের মতো প্রিজারভেটিভযুক্ত মাংসও কম খাওয়াই ভালো।
এ ছাড়া যাদের দুধ, ডিম, চিনাবাদাম, শেলফিশ বা অন্য কোনো খাবারে অ্যালার্জি রয়েছে, তাদের সেই খাবারগুলো এড়িয়ে চলা উচিত। কারণ এসব খাবার অনেক সময় অ্যাজমার উপসর্গকে আরো তীব্র করে তুলতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিজের ব্যক্তিগত ট্রিগারগুলো শনাক্ত করে সেগুলো থেকে দূরে থাকলে হাঁপানির প্রকোপ অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
কী বলছে গবেষণা?
নিউট্রিশন রিভিউস জার্নালে ২০২০ সালে প্রকাশিত এক পর্যালোচনায় গবেষকরা খাদ্যাভ্যাস ও অ্যাজমার সম্পর্ক বিশ্লেষণ করেন। গবেষণায় দেখা গেছে, উদ্ভিদভিত্তিক খাদ্যাভ্যাস শরীরের প্রদাহ ও অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে এবং অন্ত্রের উপকারী জীবাণুর ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে, যা অ্যাজমার উপসর্গ কমাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
এতে বলা হয়েছে, বেশি পরিমাণে ফল ও শাকসবজি খাওয়া, প্রাণিজ খাবার কমানো এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া কমিয়ে অ্যাজমা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে।
ফুসফুসের জন্য উপকারী যেসব খাবার
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, ফুসফুস সুস্থ রাখতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ ফল ও শাকসবজি—যেমন বেরি, কমলা, পালং শাক, ব্রোকলি ও গাজর—খাদ্যতালিকায় রাখা উচিত।
এ ছাড়া ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ খাবার, যেমন স্যামন, সার্ডিন, আখরোট ও ফ্ল্যাক্স সিড নিয়মিত খেলে প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার, বিভিন্ন শস্যদানা, ডাল এবং ম্যাগনেসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার—যেমন সবুজ শাকসবজি ও কুমড়ার বীজ—ফুসফুসের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
