আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড
শুধু ফুটবল নয়, ৬০ বছরের শত্রুতা!
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০২:০৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
আজ রাতের আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনাল শুধু একটি ফুটবল ম্যাচ নয়। এটি এমন এক লড়াই, যার শিকড় ছড়িয়ে আছে যুদ্ধ, বিতর্ক, অপমান আর প্রতিশোধের ইতিহাসে। প্রায় ছয় দশক ধরে চলা এই দ্বৈরথকে অনেকেই বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা বলে মনে করেন।
এই গল্পের শুরু ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপে। স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে লাল কার্ড দেখেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক আন্তোনিও রাটিন। সেই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি মাঠ ছাড়তে অস্বীকৃতি জানান। ম্যাচ শেষে ইংল্যান্ডের কোচ আলফ র্যামজি আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের "Animals" বলে মন্তব্য করেন। সেই অপমান আজও ভোলেনি আর্জেন্টিনা।
আরো পড়ুন: ফকল্যান্ড থেকে ফুটবল! আবার মুখোমুখি আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড
এরপর আসে ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধ। দক্ষিণ আটলান্টিকের দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে মাত্র ৭৪ দিনের সেই যুদ্ধে প্রাণ হারান ৬৪৯ জন আর্জেন্টাইন ও ২৫৫ জন ব্রিটিশ সেনা। যুদ্ধ শেষ হলেও দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষত আর কখনও পুরোপুরি শুকায়নি।
যুদ্ধের মাত্র চার বছর পর, ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আবার মুখোমুখি হয় দুই দল। সেদিন ইতিহাস লিখেছিলেন দিয়েগো ম্যারাডোনা। প্রথমে হাত দিয়ে করা বিতর্কিত 'হ্যান্ড অব গড' গোল, তারপর পাঁচজনকে কাটিয়ে করা 'গোল অব দ্য সেঞ্চুরি' এই দুই গোলেই ইংল্যান্ডকে বিদায় করে আর্জেন্টিনা।পরে নিজের আত্মজীবনীতে ম্যারাডোনা লিখেছিলেন, "এটা শুধু একটি ফুটবল দলকে হারানো ছিল না, বরং একটি দেশকে হারানো। অনেক আর্জেন্টাইন তরুণ যুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছিল। আমাদের কাছে এটি ছিল এক ধরনের প্রতিশোধ।
আরো পড়ুন: স্পেনের কাছে হার, রেফারিং নিয়ে ক্ষুব্ধ ফ্রান্সের কোচ
১৯৯৮ বিশ্বকাপে ডেভিড বেকহামের লাল কার্ড, টাইব্রেকারে আর্জেন্টিনার জয়। এরপর ২০০২ বিশ্বকাপে বেকহামের পেনাল্টিতে ইংল্যান্ডের প্রতিশোধ। প্রতিবারই এই লড়াই নতুন নাটক আর নতুন ইতিহাস উপহার দিয়েছে।
আজ, ২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে প্রথমবারের মতো ফাইনালের টিকিটের লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। একদিকে মেসির শেষ বিশ্বকাপ স্বপ্ন, অন্যদিকে ইংল্যান্ডের দীর্ঘদিনের শিরোপা খরা কাটানোর লড়াই। তবে ফল যাই হোক, একটি বিষয় নিশ্চিত আজকের ম্যাচে শুধু ৯০ মিনিটের ফুটবল নয়, মাঠে ফিরে আসবে ইতিহাসের সবচেয়ে তিক্ত ফুটবল প্রতিদ্বন্দ্বিতার আরেকটি অধ্যায়।
