মহারণের অপেক্ষায় প্রস্তুত ডালাস স্টেডিয়াম
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ১১:২৬ এএম
ছবি: সংগৃহীত
আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা। তারপরই শুরু হবে বিশ্বকাপের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত সেমিফাইনাল ফ্রান্স বনাম স্পেন। কিন্তু মাঠে নামার আগেই যেন আরেকটি লড়াই চলছে মাঠের বাইরেও। ডালাস স্টেডিয়ামে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে যুদ্ধকালীন তৎপরতায়, যাতে বিশ্বের সেরা দুই দল পায় নিখুঁত এক মঞ্চ।
স্টেডিয়ামের প্রতিটি ঘাস এখন বিশেষ যত্নে পরিচর্যা করা হচ্ছে। কোথাও ঘাস কাটা হচ্ছে, কোথাও পানি দেওয়া হচ্ছে, আবার কোথাও অতিবেগুনি বা ইউভি লাইটের সাহায্যে ঘাসের মান ঠিক রাখা হচ্ছে। লক্ষ্য একটাই, ম্যাচের সময় মাঠ যেন একদম নিখুঁত থাকে।
ফিফার ইভেন্ট প্রোডাকশনের প্রধান ল্যান্স ব্রাস জানিয়েছেন, শুধু সবুজ ঘাস থাকলেই হয় না। বিশ্বের সেরা ফুটবলাররা যে মানের মাঠে খেলতে অভ্যস্ত, ঠিক সেই মান নিশ্চিত করতেই বছরের পর বছর গবেষণা আর কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। ম্যাচের দিন যেন মাঠ নিয়ে কোনো অভিযোগ না থাকে, সেটাই তাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।
তিনি আরো জানান, সেমিফাইনালের আগে আট দিনের প্রস্তুতির সুযোগ পাওয়ায় কিছুটা স্বস্তি মিলেছে। তবে টুর্নামেন্টের আগের ম্যাচগুলোতে মাত্র দুই থেকে তিন দিনের ব্যবধানে মাঠ প্রস্তুত করতে হয়েছে। সেই সময় মাঠকর্মীরা দিনের পর দিন নিরলস পরিশ্রম করেছেন, যদিও দর্শকদের চোখে সেই পরিশ্রম ধরা পড়ে না।
শুধু মাঠ নয়, দুই দলের ড্রেসিংরুমও সাজানো হয়েছে নিজ নিজ দেশের রঙে। খেলোয়াড়দের জন্য রাখা হয়েছে আধুনিক ব্যায়ামের সরঞ্জাম। এমনকি বিরতির আয়োজন আর দর্শকদের বিনোদনের ব্যবস্থাও শেষ পর্যায়ে।
ফিফার পিচ ম্যানেজার ইয়ান ক্রেগ বলেন, তাদের লক্ষ্য ছিল ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার ঐতিহ্যবাহী ফুটবল সংস্কৃতির সঙ্গে আমেরিকান স্পোর্টস সংস্কৃতির সেরা দিকগুলোকে একত্র করা। মাঠের পরিবেশ, সংগীত আর দর্শক অভিজ্ঞতা সবকিছুতেই সেই ছাপ রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।
তবে এই সেমিফাইনালের পরই বদলে যাবে ডালাস স্টেডিয়ামের চেহারা। বিশ্বকাপের জন্য বসানো প্রাকৃতিক ঘাস তুলে আবার বসানো হবে কৃত্রিম টার্ফ। এরপর এই মাঠ ফিরে যাবে এনএফএলের দল ডালাস কাউবয়েজের দখলে।এখন শুধু অপেক্ষার পালা নিখুঁতভাবে প্রস্তুত এই মঞ্চে ফ্রান্স নাকি স্পেন, কে নিশ্চিত করবে বিশ্বকাপ ফাইনালের টিকিট।
