×

যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ভাঙতে নতুন উদ্যোগ ট্রাম্প প্রশাসনের

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ১২:৩০ পিএম

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ভাঙতে নতুন উদ্যোগ ট্রাম্প প্রশাসনের

ছবি : সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ভেঙে দেওয়ার লক্ষ্যে নতুন একটি প্রচারণা শুরু করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তাঁর অভিযোগ, আইসিসি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করছে, যা দেশটির সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি।

সোমবার (১৩ জুলাই) প্রকাশিত ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল–এ লেখা এক মতামত নিবন্ধে রুবিও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত টহল বাহিনীর সদস্য ও নির্বাচিত নেতাদের আন্তর্জাতিক আদালতে বিচারের মুখোমুখি করার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, বিদেশি বিচারকদের সামনে তাদের জবাবদিহি করতে বাধ্য করা হলে তা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য উদ্বেগের বিষয়।

একই দিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় রুবিও বলেন, আমরা যদি নিষ্ক্রিয় থাকি, তাহলে তাঁদের সবাইকে হাজার হাজার মাইল দূরের বিদেশি বিচারকদের করুণার ওপর নির্ভর করতে হবে। নিজেদের দেশ রক্ষার তথাকথিত অপরাধে তাঁদের বিরুদ্ধে যেকোনো সময় মামলা হতে পারে, এমনকি কারাদণ্ডেরও ঝুঁকি থাকবে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইসিসিকে ‘ভেঙে দিতে’ ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে অন্যান্য দেশকে আদালত থেকে বেরিয়ে আসতে চাপ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।

এ বিষয়ে এক মার্কিন কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেন, যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়েও আইসিসির কথিত বিচারিক কর্তৃত্ব প্রত্যাখ্যান করতে রাজি হবে না, তারা আরো কঠোর নজরদারির মুখে পড়তে পারে।

তিনি জানান, সম্ভাব্য পদক্ষেপের মধ্যে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং ভিসা বাতিলের মতো ব্যবস্থা থাকতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক আইনবিষয়ক তিনজন বিশেষজ্ঞ রুবিওর বক্তব্যকে আইসিসির ক্ষমতা সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর বলে মন্তব্য করেছেন।

মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচের সাবেক নির্বাহী পরিচালক কেনেথ রথ বলেন, আইসিসি যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে সংঘটিত কর্মকাণ্ডের ওপর বিচারিক এখতিয়ার দাবি করছে না। রুবিও মূলত জাতীয় সার্বভৌমত্বের আড়ালে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধে দায়মুক্তির প্রচেষ্টাকেই উপস্থাপন করছেন। অন্য রাষ্ট্রগুলোর নিজস্ব ভূখণ্ডে সংঘটিত অপরাধের বিচার চেয়ে আইসিসির শরণাপন্ন হওয়ার যে একটি সার্বভৌম অধিকার রয়েছে, তা তিনি উপেক্ষা করছেন।

আরো পড়ুন : এবার ইরানকে পুরোপুরি ধ্বংসের হুমকি ট্রাম্পের

নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) কেবল রোম চুক্তিভুক্ত দেশগুলোর ভূখণ্ডে সংঘটিত অপরাধের তদন্ত করতে পারে। ২০০২ সালে এই চুক্তির মাধ্যমেই আদালতটি প্রতিষ্ঠিত হয়। যুক্তরাষ্ট্র এখনো রোম চুক্তি অনুমোদন করেনি। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব ভূখণ্ডে সংঘটিত কোনো অপরাধ নিয়েও আইসিসি কোনো তদন্ত শুরু করেনি।

কেনেথ রথ আরো বলেন, ট্রাম্প আসলে যে দেশগুলো আইসিসির বিচারিক এখতিয়ার মেনে নিয়েছে, সেসব দেশের ভূখণ্ডে যুদ্ধাপরাধ করার সুযোগ ধরে রাখতে চান। মূল বিষয়টি আসলে সেটিই।

তবে কিছু ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসন আবার আইসিসির বিচারিক এখতিয়ারকে সমর্থনও জানিয়েছে। রোম চুক্তিভুক্ত দেশ ইউক্রেনে রাশিয়ার কথিত যুদ্ধাপরাধের তদন্ত শুরু করায় আদালতের পদক্ষেপকে তারা স্বাগত জানিয়েছিল।

এদিকে আইসিসির প্রধান কৌঁসুলি করিম খানের নেতৃত্বাধীন দপ্তর ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্ত শুরু করে। ফিলিস্তিন আইসিসির তদন্ত পরিচালনায় সম্মতি দেওয়ায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

যুদ্ধাপরাধ–সংক্রান্ত ওই তদন্তের অংশ হিসেবে আদালত ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।

দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার ছয় সপ্তাহের মাথায় আইসিসির কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে ‘জাতীয় জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, আইসিসি ‘যুক্তরাষ্ট্র ও তার ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে অবৈধ ও ভিত্তিহীন পদক্ষেপ’ নিচ্ছে।

এর পর ট্রাম্প প্রশাসন আইসিসির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে একাধিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। প্রধান কৌঁসুলি করিম খান, তাঁর দুই উপপ্রধান এবং ছয়জন বিচারক এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েন। ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড এবং আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাসদস্যদের কার্যকলাপ নিয়ে তদন্তের কারণেই তাঁদের বিরুদ্ধে এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

২০২৫ সালে ট্রাম্প প্রশাসন নিষেধাজ্ঞার পরিধি আরো বাড়ায়। সে সময় অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে মানবাধিকারবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক ফ্রানচেসকা আলবানিজ এবং ইসরায়েলের সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধের প্রমাণ সংগ্রহে যুক্ত তিনটি ফিলিস্তিনি মানবাধিকার সংগঠনের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।

তবে রুবিওর সর্বশেষ আইসিসিকে ‘ভেঙে দেওয়ার’ অঙ্গীকার বাস্তবে আদালতের ভবিষ্যৎ কার্যক্রমে কী ধরনের প্রভাব ফেলবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

ক্রিয়েটিভ ইকোনমি: বাংলাদেশের সফট পাওয়ারের অব্যবহৃত অস্ত্র

ক্রিয়েটিভ ইকোনমি: বাংলাদেশের সফট পাওয়ারের অব্যবহৃত অস্ত্র

নেটিজেনদের সমালোচনার জবাব দিলেন ঋতুপর্ণা

নেটিজেনদের সমালোচনার জবাব দিলেন ঋতুপর্ণা

যৌন নিপীড়ন মামলায় ক্ষতিপূরণ দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

যৌন নিপীড়ন মামলায় ক্ষতিপূরণ দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

সাভারে ঝটিকা মিছিলের প্রস্তুতিকালে আটক ১৩

সাভারে ঝটিকা মিছিলের প্রস্তুতিকালে আটক ১৩

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App