বিশ্বকাপের আয় থেকে আর্থিক সুবিধা পাবে বাংলাদেশও
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৭:২১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে অনুষ্ঠিত প্রথম ফুটবল বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল মাত্র ১৩টি দল। সময়ের সঙ্গে সেই সংখ্যা ধাপে ধাপে বেড়ে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে দাঁড়িয়েছে ৪৮-এ। ২৩তম আসরে এসে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় পরিসরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই টুর্নামেন্ট।
বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা বাড়ার ফলে যেমন ফিফার আয় বেড়েছে, তেমনি বৃদ্ধি পেয়েছে টুর্নামেন্টের মোট প্রাইজমানিও। এই আর্থিক প্রবাহের একটি অংশ পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)।
২০২৬ বিশ্বকাপ উপলক্ষে ফিফা মোট ৮৭১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের রেকর্ড প্রাইজমানি ঘোষণা করেছে, যা ২০২২ সালের বিশ্বকাপের তুলনায় প্রায় ৬৫ শতাংশ বেশি। ফিফার নীতিমালা অনুযায়ী, বিশ্বকাপ থেকে অর্জিত আয়ের একটি অংশ সদস্য দেশগুলোর ফুটবল উন্নয়নে ব্যয় করা হয়। সে কারণে টুর্নামেন্ট শেষে বিশ্বের অন্যান্য সদস্য দেশের মতো বাংলাদেশও ফুটবল উন্নয়নের জন্য অর্থ বরাদ্দ পাওয়ার সুযোগ পাবে।
ফিফার এই অর্থ বণ্টন প্রসঙ্গে সাবেক জাতীয় ফুটবলার জুলফিকার মাহমুদ মিন্টু বলেন, বিশ্বকাপ থেকে অর্জিত আয়ের একটি অংশ বাংলাদেশসহ সব সদস্য অ্যাসোসিয়েশনের মধ্যে বণ্টন করা হয়। সদস্য দেশগুলোর ফুটবল অবকাঠামো ও উন্নয়ন কার্যক্রমে সহায়তা করাই ফিফার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
তিনি আরো বলেন, বিশ্বকাপে দলের সংখ্যা ৪৮-এ উন্নীত হওয়ায় অনেক দেশের সামনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে। বিশেষ করে এশিয়া ও আফ্রিকার দেশগুলো এখন বিশ্বকাপে খেলার বিষয়ে আরো আশাবাদী। ফলে বাছাইপর্বের প্রতিযোগিতাও আগের তুলনায় আরও কঠিন ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে।
বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া প্রতিটি দলের জন্যও বড় অঙ্কের আর্থিক সুবিধা রাখা হয়েছে। প্রস্তুতি, প্রশিক্ষণ ক্যাম্প এবং ভ্রমণ ব্যয়ের জন্য শুরুতেই প্রতিটি দল পাবে ২ দশমিক ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এরপর গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়া ১৬টি দল অতিরিক্ত ১০ মিলিয়ন ডলার করে পাবে। ফলে তাদের মোট প্রাপ্তি দাঁড়াবে ১২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার।
এ ছাড়া দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে বিদায় নেওয়া দলগুলো পাবে ১২ মিলিয়ন ডলার। শেষ ষোলোতে বিদায় নেওয়া দলগুলোর জন্য বরাদ্দ ১৬ মিলিয়ন ডলার করে। কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বাদ পড়া চারটি দল পাবে ২০ মিলিয়ন ডলার।
চতুর্থ স্থান অর্জনকারী দল পাবে ২৭ মিলিয়ন ডলার, তৃতীয় স্থান অধিকারী দল পাবে ২৯ মিলিয়ন ডলার এবং রানার্স-আপ দল পাবে ৩৩ মিলিয়ন ডলার। আর ২০২৬ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন দল ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পুরস্কার অর্জন করবে।
