গাজায় ইহুদি-বসতি স্থাপন করছে ইসরায়েল
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় প্রায় দুই দশক পর নতুন করে ইহুদি বসতি স্থাপনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে ইসরায়েল। একই সঙ্গে অধিকৃত পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণে প্রায় ৪০ কোটি মার্কিন ডলার বরাদ্দের কথাও জানিয়েছে দেশটির সরকার। এ ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ফিলিস্তিনিদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহলেও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
শনিবার (১৮ জুলাই) ইসরায়েলের ঘোষিত পরিকল্পনায় জানানো হয়, উত্তর গাজায় তিনটি ‘নাহাল’ চৌকি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এসব চৌকি ভবিষ্যতে স্থায়ী বেসামরিক ইহুদি বসতিতে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেন, উত্তর গাজায় নতুন নাহাল চৌকি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ সময় তিনি গাজা নিয়ে নিজের অবস্থানও পুনর্ব্যক্ত করেন।
ভূমি দখল পর্যবেক্ষণকারী ইসরায়েলি সংস্থা কেরেম নাভোদ–এর প্রতিষ্ঠাতা দ্রোর এতকেস জানান, অতীতে গাজা ও পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় প্রথমে নাহাল সামরিক চৌকি স্থাপন করা হয়, যা পরবর্তীতে স্থায়ী বেসামরিক বসতিতে পরিণত হয়েছে।
জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে গাজা উপত্যকায় কোনো স্থায়ী ইসরায়েলি বসতি নেই। ২০০৫ সালে ইসরায়েল গাজা থেকে ২১টি বসতি ও সেনা প্রত্যাহার করেছিল। তবে বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে দেশটির কয়েকজন অতি-ডানপন্থি নেতা সেখানে পুনরায় বসতি স্থাপনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
এদিকে ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ অধিকৃত পশ্চিম তীরে নতুন বসতি নির্মাণের জন্য ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন শেকেল (প্রায় ৪০ কোটি মার্কিন ডলার) বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছেন। ইসরায়েলি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই অর্থ বরাদ্দের সিদ্ধান্ত আগেই নেওয়া হলেও তা প্রকাশ করা হয়নি।
ইসরায়েলি মানবাধিকার সংগঠন পিস নাউ–এর সদস্য হাগিত ওফ্রান দাবি করেছেন, পশ্চিম তীরের কয়েকটি এলাকায় ইতোমধ্যে দ্রুতগতিতে নতুন বসতি নির্মাণের কাজ চলছে।
অন্যদিকে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর কমান্ডার মেজর জেনারেল আভি ব্লুথ বসতি স্থাপনকারী গোষ্ঠীগুলোকে সেনাবাহিনীর ‘নিরাপত্তা অংশীদার’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এ মন্তব্যকে ঘিরেও নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়ের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অধিকৃত অঞ্চলে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংস কর্মকাণ্ড ফিলিস্তিনিদের নিরাপত্তা ও মানবাধিকারের ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলছে।
এদিকে ইসরায়েলের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল তামির ইয়াদাই দাবি করেছেন, দেশটির বাহিনী বর্তমানে গাজা উপত্যকার প্রায় ৬৫ শতাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে।
অন্যদিকে ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু, নারী ও বয়স্ক নাগরিক রয়েছেন। নিহতদের পরিচয় ও পরিসংখ্যান নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ভিন্নমত থাকলেও যুদ্ধ পরিস্থিতিতে গাজায় মানবিক সংকট আরও গভীর হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
