×

ফুটবল

বিশ্বসেরার শেষ লড়াই আজ

Icon

মুহাম্মদ রুহুল আমিন

প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

বিশ্বসেরার শেষ লড়াই আজ

এক মাসের অপেক্ষার শেষ। ১০৪ ম্যাচের বিশ্বকাপ আজ এসে থামবে একটি ম্যাচে। বাংলাদেশ সময় রবিবার দিবাগত রাত ১টায় নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। ৯০ মিনিট, কিংবা তারও বেশি সময়ের এই লড়াই নির্ধারণ করবে শুধু ২০২৬ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়নই নয়, বিশ্ব ফুটবলের নতুন গল্পও।

দুই দলের ফাইনালে ওঠার পথ এক হলেও যাত্রার ধরন ছিল ভিন্ন। আর্জেন্টিনা এগিয়েছে অভিজ্ঞতা, মানসিক দৃঢ়তা ও বড় ম্যাচে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করে। স্পেন এসেছে শৃঙ্খলাবদ্ধ দলগত ফুটবল, বলের নিয়ন্ত্রণ ও আধুনিক কৌশলের নিখুঁত প্রয়োগে। ফলে নিউজার্সির ফাইনালটি কেবল দুই দেশের নয়, দুই ভিন্ন ফুটবল দর্শনেরও মুখোমুখি লড়াই।

আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের ম্যাচের ভেতর থেকে ফিরে আসার ক্ষমতা। কঠিন পরিস্থিতিতেও ছন্দ না হারানো, সুযোগ তৈরি করা এবং বড় মুহূর্তে নিজেদের সেরাটা বের করে আনার সংস্কৃতি গড়ে তুলেছেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের হাতছানি দলটিকে আরো আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে। আক্রমণে লাউতারো মার্তিনেস, হুলিয়ান আলভারেস ও মাঝমাঠে এনজো ফার্নান্দেজরা ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে দলের ভারসাম্য ধরে রেখেছেন। তবে এই দলের আবেগ, নেতৃত্ব ও সৃজনশীলতার কেন্দ্রবিন্দু এখনো লিওনেল মেসিই। ৩৯ বছর বয়সেও ম্যাচের গতি, একটি পাস কিংবা এক মুহূর্তের নৈপুণ্যে তিনি ম্যাচের চিত্র বদলে দিতে পারেন।

অন্যদিকে স্পেন যেন আধুনিক ফুটবলের একটি পরিণত সংস্করণ। লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে বল দখল, দ্রুত ট্রানজিশন, সংগঠিত প্রেসিং ও পজিশনভিত্তিক ফুটবল- সবকিছুর সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে ভারসাম্যপূর্ণ একটি দল। বয়সভিত্তিক দল থেকে একসঙ্গে বেড়ে ওঠা ফুটবলারদের পারস্পরিক বোঝাপড়া স্পেনকে দিয়েছে আলাদা শক্তি। ফ্রান্সের মতো শক্তিশালী দলকে সেমিফাইনালে কার্যত নিস্তেজ করে ফাইনালে ওঠাই তার বড় প্রমাণ।

দুই দলের পথচলার দিকে তাকালেও দেখা যায় ভিন্ন দুই গল্প। আর্জেন্টিনা টুর্নামেন্টজুড়ে প্রয়োজনের সময় নিজেদের সেরা ফুটবল খেলেছে। নকআউট পর্বে চাপের মুহূর্তেও তারা পরিকল্পনা থেকে সরে যায়নি। অন্যদিকে স্পেন শুরু থেকেই নিজেদের ছন্দে খেলেছে। বলের নিয়ন্ত্রণ, উচ্চ প্রেসিং এবং দ্রুত পাসের সমন্বয়ে প্রতিপক্ষকে নিজেদের খেলায় বাধ্য করেছে। টুর্নামেন্টের বিভিন্ন সময়ে দুই দলই প্রমাণ করেছে, শুধু তারকানির্ভর নয়, দলগত শক্তির কারণেই তারা ফাইনালের মঞ্চে পৌঁছেছে। তাই এই ম্যাচে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের পাশাপাশি বেঞ্চের গভীরতা, বদলি খেলোয়াড়দের প্রভাব এবং ম্যাচ চলাকালে কোচদের কৌশলগত সিদ্ধান্তও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

এই ফাইনালের বড় প্রশ্নগুলোর একটি- স্পেন কি মেসিকে থামাতে পারবে? উত্তরটি সহজ নয়। মেসিকে আটকে রাখার পরিকল্পনা বিশ্বের অনেক কোচই করেছেন, সফল হয়েছেন খুব কমজন। দে লা ফুয়েন্তেও স্বীকার করেছেন, একজন ফুটবলার দিয়ে মেসিকে আটকানো সম্ভব নয়; পুরো দলকেই একসঙ্গে কাজ করতে হবে। ফলে লাপোর্তে, কুবারসি ও রদ্রির ওপর বাড়তি দায়িত্ব থাকছে আর্জেন্টিনার অধিনায়ককে খেলার জায়গা না দেয়ার।

তবে আর্জেন্টিনার পরীক্ষাও কম নয়। স্পেনের আক্রমণভাগের প্রাণ লামিনে ইয়ামাল, যার গতি ও এক-একজনকে কাটিয়ে ওঠার দক্ষতা পুরো টুুর্নামেন্টেই প্রতিপক্ষকে ভুগিয়েছে। তাকে থামানোর দায়িত্ব থাকবে অভিজ্ঞ নিকোলাস তাগলিয়াফিকোর। একইসঙ্গে মাঝমাঠে রদ্রি ও এনজো ফার্নান্দেজের লড়াই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই নির্ধারণ করতে পারে। একজন বলের দখল ও ছন্দের নিয়ন্ত্রক, অন্যজন আক্রমণ-রক্ষণে সমান কার্যকর। যে দল মাঝমাঠে আধিপত্য করবে, তাদেরই এগিয়ে থাকার সম্ভাবনা বেশি।

ফাইনালে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে মানসিক দৃঢ়তা। বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে অনেক সময় কৌশলের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে চাপ সামলানোর ক্ষমতা। অতীতে দেখা গেছে, ফাইনালের মতো ম্যাচে একটি ভুল সিদ্ধান্ত, একটি সেট-পিস কিংবা অতিরিক্ত সময়ে নেয়া একটি সঠিক সিদ্ধান্তই শিরোপার ভাগ্য বদলে দিয়েছে। তাই শুরুর আক্রমণাত্মক ফুটবলের পাশাপাশি ম্যাচ যত এগোবে, ততই ধৈর্য, শৃঙ্খলা এবং ভুল কম করার মানসিকতা দুই দলের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষায় পরিণত হতে পারে।

ফাইনালের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হতে পারে বেঞ্চের ভূমিকা। আধুনিক ফুটবলে শুরুর একাদশের মতোই বদলি খেলোয়াড়দের অবদান অনেক সময় ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেয়। দীর্ঘ টুর্নামেন্ট শেষে ক্লান্তি, চোট কিংবা ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী কোচদের পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্তই হয়ে উঠতে পারে সবচেয়ে বড় পার্থক্য। স্কালোনি ও দে লা ফুয়েন্তে- দুজনই পুরো বিশ্বকাপজুড়ে প্রয়োজনমতো কৌশল বদলেছেন এবং বদলি খেলোয়াড়দের কার্যকরভাবে ব্যবহার করেছেন। ফলে ম্যাচ গড়ালে কিংবা অতিরিক্ত সময়ে পৌঁছালে বেঞ্চের গভীরতা, ফিটনেস এবং কোচদের তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তই শিরোপা নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

ফাইনালটি আরেকটি কারণে ব্যতিক্রম। দুই কোচ স্কালোনি ও দে লা ফুয়েন্তে ভিন্ন দেশের হলেও দুজনই কমবেশি প্রভাবিত মার্সেলো বিয়েলসার দর্শনে। একজন সেই দর্শনকে আর্জেন্টিনার বাস্তবতায় রূপ দিয়েছেন, অন্যজন স্প্যানিশ একাডেমি ফুটবলের সঙ্গে মিলিয়ে তৈরি করেছেন আধুনিক একটি দল। তাই এটি শুধু দুই দলের নয়, দুই সফল কোচিং ব্যাখ্যারও দ্বৈরথ।

পরিসংখ্যান, ইতিহাস কিংবা সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স- সবই ফাইনালের আগে আলোচনার বিষয়। কিন্তু বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচে এসব অনেক সময় গুরুত্ব হারায়। একটি ভুল, একটি দুর্দান্ত সেভ, একটি নিখুঁত পাস কিংবা একটি অসাধারণ মুহূর্তই বদলে দিতে পারে পুরো রাতের গল্প। আর্জেন্টিনা জিতলে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জিতে নিজেদের আধিপত্য আরো দৃঢ় করবে। আর স্পেন জিতলে ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়ে নতুন প্রজন্মের হাত ধরে বিশ্ব ফুটবলে নিজেদের পুনরুত্থানের ঘোষণা দেবে।

তাই আজকের ফাইনাল কেবল একটি ট্রফির জন্য নয়। এটি উত্তরাধিকার ও নবযাত্রার, অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের, ব্যক্তিগত জাদু ও দলগত শৃঙ্খলার, ইতিহাস ও ভবিষ্যতের লড়াই। বিশ্বকাপের এক মাসের গল্প শেষ হবে আজ, কিন্তু নিউজার্সির রাত থেকেই শুরু হবে বিশ্ব ফুটবলের আরেকটি নতুন অধ্যায়।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

বিমার টাকা হাতাতে স্বামীকে বিষধর সাপ দিয়ে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্য

বিমার টাকা হাতাতে স্বামীকে বিষধর সাপ দিয়ে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্য

সিরিজ জিততে ১৪৪ রানের লক্ষ‍্য পেল বাংলাদেশ

সিরিজ জিততে ১৪৪ রানের লক্ষ‍্য পেল বাংলাদেশ

জুলাইয়ের বীরদের ভিলেন বানানোর চেষ্টা চলছে

সাদিক কায়েম জুলাইয়ের বীরদের ভিলেন বানানোর চেষ্টা চলছে

জমিতে পড়ে ছিল বিদ্যুতের ছেঁড়া তার, প্রাণ গেল দুই শ্রমিকের

জমিতে পড়ে ছিল বিদ্যুতের ছেঁড়া তার, প্রাণ গেল দুই শ্রমিকের

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App