তরেসের গোলে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দুয়ারে স্পেন
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪৯ এএম
ছবি : সংগৃহীত
বিশ্বকাপ ফাইনালের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে অতিরিক্ত সময়েও। আর্জেন্টিনার রক্ষণ ভেদ করে গোল পেয়েছে স্পেন। অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে নিকো উইলিয়ামসের সহায়তায় ফেরান তোরেস গোল করে লা রোজাদের এগিয়ে দেন।
১০৬ মিনিটে উইলিয়ামসের বাড়ানো বল পেয়ে তোরেস নিখুঁত ফিনিশিংয়ে বল পাঠান জালে।
এর আগে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠে ফাইনাল। প্রথম বড় সুযোগটি তৈরি করে স্পেন। ম্যাচের পঞ্চম মিনিটে লামিন ইয়ামাল গোলের কাছাকাছি চলে গিয়েছিলেন। বক্সে তার দেওয়া ক্রস ডিফ্লেক্ট হয়ে দানি ওলমোর কাছে যায়। ওলমো আবার বল বাড়িয়ে দেন ইয়ামালের দিকে। তবে লিসান্দ্রো মার্টিনেজ ও এমিলিয়ানো মার্টিনেজের যৌথ প্রচেষ্টায় গোল থেকে বঞ্চিত হয় স্পেন।
শুরুর দিকে স্পেনই ছিল বেশি আক্রমণাত্মক। তবে আর্জেন্টিনাও পাল্টা আক্রমণে ভয় তৈরি করছিল। সপ্তম মিনিটে গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন লিওনেল মেসি। কিন্তু স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমন দ্রুত এগিয়ে এসে তার শটের পথ রোধ করেন।
প্রথম ২৩ মিনিটে বলের নিয়ন্ত্রণে বড় ব্যবধানে এগিয়ে ছিল স্পেন। এ সময় আর্জেন্টিনা বল দখলে রাখতে পেরেছিল মাত্র ৩২ শতাংশ। লিওনেল মেসি, নিকো গঞ্জালেজ ও হুলিয়ান আলভারেজ মিলে বল স্পর্শ করেছেন মাত্র ১৭ বার।
স্পেনের অধিনায়ক রদ্রি পুরো মাঠজুড়ে প্রভাব বিস্তার করেন। মাঝমাঠের পাশাপাশি প্রয়োজনে রক্ষণেও ভূমিকা রাখেন তিনি। বল দখল ও আক্রমণ তৈরিতে তার উপস্থিতি ছিল গুরুত্বপূর্ণ। স্পেনের চাপ সামলাতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছিল আর্জেন্টিনাকে।
৩৯ মিনিটে স্পেন দারুণ একটি আক্রমণ তৈরি করে। লাপোর্তে, রদ্রি ও বায়েনার সমন্বয়ের পর ফাবিয়ান বল বাড়িয়ে দেন মিকেল ওইয়ারসাবালের দিকে। বক্সের পাশ থেকে তার শক্তিশালী বাম পায়ের শট নিচে ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে দেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ।
৪১ মিনিটে ওইয়ারসাবালকে ফাউল করে ফাইনালের প্রথম হলুদ কার্ড দেখেন লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। এরপর চোটের কারণে ৪৩ মিনিটে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। তার বদলে মাঠে নামেন নিকোলাস ওতামেন্দি। একই সময়ে কুকুরেয়ার একটি প্রচেষ্টা অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়।
প্রথমার্ধে বল দখলে স্পষ্ট আধিপত্য ছিল স্পেনের। বিরতির আগে তারা ৬৫ শতাংশ সময় বল নিয়ন্ত্রণে রাখে। লক্ষ্যে শট নেয় দুটি। পাসের দিক থেকেও এগিয়ে ছিল স্পেন- তাদের সফল পাস ছিল ৩১৩টি, যেখানে আর্জেন্টিনার ১৫৫টি। ফাইনাল থার্ডে স্পেন ঢুকেছে ৩৫ বার, আর্জেন্টিনা মাত্র ১৮ বার।
দ্বিতীয়ার্ধে দলে পরিবর্তন আনেন আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি। নিকো গঞ্জালেজকে তুলে লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে মাঠে নামান তিনি।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই সুযোগ তৈরি করে স্পেন। ওইয়ারসাবালের পাস থেকে বায়েনার শট অবশ্য দুর্বল হওয়ায় সহজেই ধরে ফেলেন মার্টিনেজ।
মাঠে নামার পরই পারেদেস হলুদ কার্ড দেখেন। রদ্রিকে পেছন থেকে ধাক্কা দেওয়ায় তাকে শাস্তি দেন রেফারি। এ ঘটনায় আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা প্রতিবাদ করেন।
৫৫ মিনিটে ওতামেন্দির গুরুত্বপূর্ণ ট্যাকেলে গোল থেকে বঞ্চিত হয় স্পেন। ফাবিয়ানের মাধ্যমে পাল্টা আক্রমণে উঠে বল ওইয়ারসাবালের কাছে পৌঁছায়। তার পাস থেকে ফাবিয়ান শট নেওয়ার চেষ্টা করলেও ওতামেন্দি সামনে এসে বিপদ ঠেকান।
এর পরের মিনিটে আবার সুযোগ তৈরি করে স্পেন। ওলমোর ব্যাকপাস থেকে কুকুরেয়ার শট নেওয়ার আগেই গঞ্জালো মন্তিয়েল বল ক্লিয়ার করেন। এরপর মন্তিয়েলের জায়গায় নাহুয়েল মোলিনাকে মাঠে নামান স্কালোনি।
৬২ মিনিটে স্পেনও দুটি পরিবর্তন আনে। ফাবিয়ানের বদলে পেদ্রি এবং ওইয়ারসাবালের বদলে ফেরান তোরেস মাঠে নামেন।
৬৪ মিনিটে ওলমোর দূরপাল্লার শট ঠেকান মার্টিনেজ। এরপর ইয়ামালের দুর্দান্ত ক্রস থেকে তোরেস হেড করলেও সেটি চলে যায় গোলরক্ষকের হাতে।
১৯৬৬ সাল থেকে রেকর্ড সংরক্ষণের পর প্রথমবার বিশ্বকাপ ফাইনালে প্রথম ৭০ মিনিটে লক্ষ্যে কোনো শট রাখতে পারেনি আর্জেন্টিনা। এর আগে সর্বশেষ ২০২২ সালের ফাইনালে ফ্রান্স ৬৮ মিনিট পর্যন্ত লক্ষ্যে শট নিতে পারেনি।
৭০ মিনিটে আর্জেন্টিনা আবারও দুটি পরিবর্তন আনে। রদ্রিগো দে পলের জায়গায় জিউলিয়ানো সিমিওনে এবং ক্রিস্টিয়ান রোমেরোর বদলে ফাকুন্দো মেদিনা মাঠে নামেন।
৭৫ মিনিটে স্পেন ওলমো ও বায়েনাকে তুলে মিকেল মেরিনো ও নিকো উইলিয়ামসকে নামায়।
৭৭ মিনিটে পেদ্রির শট ঠেকান মার্টিনেজ। এরপর ইয়ামালের শট মেদিনা ব্লক করেন। কুবারসির দূরপাল্লার শটও মার্টিনেজের গায়ে লেগে বাইরে চলে যায়। ৮০ মিনিটে লাপোর্তের হেড ঠেকান আর্জেন্টিনা গোলরক্ষক। ৮৭ মিনিটে তোরেসের শটও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
ইনজুরি সময়ে উইলিয়ামসের শক্তিশালী শট রুখে দেন মার্টিনেজ। এরপর দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন এনজো ফার্নান্দেজ। শেষ মুহূর্তে ইয়ামালের ফ্রি কিকও দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে আর্জেন্টিনাকে ম্যাচে রাখেন মার্টিনেজ।
অতিরিক্ত সময়ে প্রথমে গোল পেলেও তা বাতিল হয় স্পেনের। ৯৬ মিনিটে ইয়ামালের প্রচেষ্টার পর বল মেরিনোর কাছে যায়। তার শট ঠেকান মার্টিনেজ। ফিরতি বলে উইলিয়ামস গোল করলেও মেরিনোর ফাউলের কারণে সেটি বাতিল করেন রেফারি। পরে ভিএআরে যাচাই করেও সিদ্ধান্ত বহাল থাকে।
তবে কিছুক্ষণ পর আর ভুল করেনি স্পেন। অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধের ২৭ সেকেন্ডে পেদ্রো পোরোর ক্রসে উইলিয়ামসের সহায়তায় গোল করেন ফেরান তোরেস।
বিশ্বকাপ ফাইনালে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে গোল করা পঞ্চম ফুটবলার হলেন তোরেস। এর আগে ২০১৪ সালের ফাইনালে মারিও গোৎসের গোলে আর্জেন্টিনাকে হারিয়েছিল জার্মানি।
