হাসিনার আমলের চুক্তি পর্যালোচনা প্রসঙ্গে ভারতের বার্তা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০১ পিএম
ফাইল ছবি
বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে ভারতের সঙ্গে করা ১০১ চুক্তি পর্যালোচনার বিষয়টি উঠে এসেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত প্রেস বিফ্রিংয়ে। এসব চুক্তির বিষয়ে ভারত নিজস্ব স্বার্থ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত প্রেস বিফ্রিংয়ে সংবাদ সংস্থা এএনআইয়ের এক সাংবাদিক জানতে চান, বিএনপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার হাসিনার আমলে ভারতের সঙ্গে করা ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা করছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতকে কিছু জানানো হয়েছে কিনা।
জবাবে রণধীর জয়সোয়াল জানান, তারা এ বিষয়ে কিছু গণমাধ্যমের প্রতিবেদন দেখেছেন, তবে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের এখনো কিছু জানানো হয়নি। ভারত এ বিষয়ে তার নিজস্ব স্বার্থ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
এর আগে ১১ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি জানান, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ভারতের সঙ্গে সম্পাদিত ১০১টি চুক্তি বর্তমান সরকার পর্যালোচনা করছে। এসব চুক্তির মধ্যে দেশের স্বার্থবিরোধী কোনও শর্ত বা বিষয় রয়েছে কি না, তা গভীরভাবে যাচাই করে শিগগির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
আরও পড়ুন: সার্ককে সক্রিয় করতে চায় বাংলাদেশ
এরপর ১৩ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, এসব স্মারক ও চুক্তি জাতীয় সংসদীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে ও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের সরকারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই পর্যালোচনার মূল উদ্দেশ্য হলো নন-বাইন্ডিং বা অ-বাধ্যতামূলক সমঝোতা স্মারক এবং অবকাঠামো সংক্রান্ত শর্তাবলি বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ কি না, তা নিশ্চিত করা। তবে কোনো চুক্তিই ঢালাওভাবে বাতিল করা হচ্ছে না; বরং প্রতিটি চুক্তি ও প্রকল্প আলাদাভাবে মূল্যায়ন করে দেখা হচ্ছে।
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সম্পাদিত এসব চুক্তির আওতায় ভারতের স্থলবেষ্টিত উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে পণ্য পরিবহনের জন্য বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহারের বিশেষ সুবিধা পেয়েছিল ভারত।
প্রতিবেদনগুলোতে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ বর্তমানে ট্রানজিট ফি ও রুট সংক্রান্ত সুবিধাসমূহ পুনর্মূল্যায়ন করছে। ঢাকার যুক্তি, আগের চুক্তিগুলোর শর্তাবলি বাংলাদেশের অনুকূলে ভারসাম্যপূর্ণ ছিল না। রাজস্ব আয়ের সম্ভাবনা থাকায় এসব সুবিধা পুরোপুরি বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা কম হলেও ট্রানজিট ফি ও খরচের কাঠামো পুনর্নির্ধারণের ফলে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় (সেভেন সিস্টার্স) রাজ্যগুলোতে পণ্য পরিবহনের খরচ বেড়ে যেতে পারে।
