জাতীয় দলের ফুটবলার আল আমিনকে ১৫ ম্যাচ নিষিদ্ধ করল ফিফা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৪২ পিএম
গত জুনে মালদ্বীপের বিপক্ষে ম্যাচে মারামারির ঘটনা ঘটে। ছবিতে ২০ নম্বর জার্সি পরা আল–আমিন। ছবি: সংগৃহীত
মালদ্বীপে গত জুনে অনুষ্ঠিত চার জাতির আমন্ত্রণমূলক টুর্নামেন্টে স্বাগতিক দলের বিপক্ষে ম্যাচে মারামারির ঘটনায় বাংলাদেশের তরুণ স্ট্রাইকার আল-আমিনকে ১৫ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করেছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।
একই ঘটনায় বাংলাদেশ দলের আরেক তরুণ ফরোয়ার্ড মিরাজুল ইসলামকে দুই ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি প্রায় আড়াই মাস পর এই সিদ্ধান্ত দিয়েছে।
গত ৭ জুন মালের জাতীয় ফুটবল স্টেডিয়ামে ডায়মন্ড জুবিলি ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল টুর্নামেন্টের লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে মালদ্বীপের মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ অলিম্পিক দল। ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত উত্তপ্ত পরিস্থিতি ও মারামারিতে রূপ নেয়।
ম্যাচের যোগ করা সময়ে মালদ্বীপের পক্ষে ফ্রি-কিকের সিদ্ধান্ত দেন রেফারি। এ সিদ্ধান্ত নিয়ে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সাইড বেঞ্চ থেকে প্রতিবাদ করায় প্রথমে লাল কার্ড দেখেন মিরাজুল ইসলাম। পরে মাঠে রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করে লাল কার্ড পান আল-আমিন।
আরও পড়ুন: ম্যানচেস্টার সিটিকে উড়িয়ে মৌসুমের প্রথম শিরোপা আর্সেনালের
লাল কার্ড দেখার পরও উত্তেজিত আল-আমিন কয়েকবার রেফারিকে ধাক্কা দেন। একপর্যায়ে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। কোচিং স্টাফ ও কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
ঘটনাটির বিষয়ে ফিফা শৃঙ্খলা কমিটির সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) মিডিয়া ম্যানেজার সাদমান সাকিব। তিনি জানান, এই নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সিনিয়র জাতীয় দলের অফিসিয়াল ম্যাচের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক টায়ার-১ প্রীতি ম্যাচেও কার্যকর হবে।
ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হওয়ায় টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠতে পারেনি বাংলাদেশ। তিন ম্যাচে তিন পয়েন্ট নিয়ে লিগ পর্ব শেষ করে তারা। পরে ফাইনালে আফগানিস্তানকে ২-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় পাকিস্তান।
২২ বছর বয়সী আল-আমিন এখন পর্যন্ত জাতীয় দলের হয়ে দুটি ম্যাচ খেলেছেন। ১৯ বছর বয়সী মিরাজুলের জাতীয় দলের হয়ে ম্যাচ সংখ্যা তিনটি। বাংলাদেশ জাতীয় দল বছরে সাধারণত সাত-আটটি ম্যাচ খেলায়, ১৫ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার কারণে দীর্ঘ সময় জাতীয় দলের বাইরে থাকতে হতে পারে আল-আমিনকে।
এর আগে ওই ঘটনার জন্য মিরাজুল ও বাংলাদেশ দলের ম্যানেজার শাহীন হাসানকে জরিমানা করেছিল ফিফা। এ ঘটনায় বাফুফেও তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল।
তবে মালদ্বীপের কোনো খেলোয়াড় বা কর্মকর্তা একই ঘটনায় ফিফার শাস্তির আওতায় পড়েছেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
