বৈধ অস্ত্র থানায় জমা দিতে সময়সীমা বেঁধে দিলো সরকার
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:৪৭ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে বৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহারে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সহিংসতা প্রতিরোধে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, লাইসেন্স করা সব বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যে সংশ্লিষ্ট থানায় জমা দিতে হবে। রোববার (১৮ জানুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুসারে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ঘোষিত তফসিল অনুসরণে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সধারীদের জন্য অস্ত্র বহন ও প্রদর্শন সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে। এই সময়ের মধ্যে কোনো ধরনের অস্ত্র প্রদর্শন আইন লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে।
তবে রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (ভিআইপি) এবং জাতীয় সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীদের অনুকূলে নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী বরাদ্দ বৈধ অস্ত্রের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না। নির্বাচন কমিশনে বৈধভাবে মনোনয়নপত্র দাখিল ও গৃহীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী এবং তাদের জন্য অনুমোদিত সশস্ত্র রিটেইনারদের ক্ষেত্রে অস্ত্র প্রদর্শন নিষিদ্ধকরণ-সংক্রান্ত নির্দেশনা কার্যকর হবে না।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই আদেশ অমান্য করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্দেশনা বাস্তবায়নে দেশের সব পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আগ্নেয়াস্ত্র জমা ও বহনে নিষেধাজ্ঞা একটি নিয়মিত ও গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এর ফলে সহিংসতা ও ভয়ভীতির আশঙ্কা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নির্বাচনী নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরাও মনে করছেন, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে ভোটের পরিবেশ আরও শান্তিপূর্ণ রাখা সম্ভব হবে। তবে একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ে তদারকি ও নজরদারি জোরদার করার ওপরও তারা গুরুত্ব আরোপ করেছেন।
