শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়ে যা বললেন শিক্ষামন্ত্রী
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৫২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে। বিষয়টি নিয়ে এবার নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হলে প্রথমে সভায় আলোচনা হয়। এরপর রেজুলেশন তৈরি হয়ে তার কাছে আসে। কিন্তু সেই রেজুলেশনের সিদ্ধান্তকে কি মন্ত্রীর সিদ্ধান্ত বলা যায়? এটি কি রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত, প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত, নাকি কোনো দলীয় সিদ্ধান্ত—এ প্রশ্নও তোলেন তিনি।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাজধানীর বার্ক অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষক নিয়োগ প্রসঙ্গে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।
বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা ম্যানেজিং কমিটির হাতে দেওয়ার উদ্যোগের প্রতিবাদে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে মিছিলের সমালোচনা করেন তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, রাতে তিনি জানতে পারেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে মিছিল হচ্ছে। কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নিয়োগের দায়িত্ব ম্যানেজিং কমিটির হাতে দেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য, একটি সভার রেজুলেশনের আলোচনার অংশবিশেষ কেটে মন্ত্রণালয়ের কোনো এক ‘গুপ্ত লোক’ তা কাউকে দিয়েছেন। অথচ রেজুলেশনের নিচে থাকা বিষয়গুলো মন্ত্রী পর্যালোচনা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন। এরপরই প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ার কথা। সেই প্রক্রিয়ার বিষয়টি বিবেচনায় না নিয়েই পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি যাচাই না করেই অনেকে গুজবের পেছনে ছুটছেন। ‘চিলে কান নিয়ে গেছে’-এমন কথা শুনে চিলের পেছনে দৌড়ানোর আগে নিজের কানে হাত দিয়ে দেখা উচিত, সত্যিই কান চুরি হয়েছে কি না।
দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক সংকটের বিষয়টিও তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী।
তিনি জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রায় ৩৮ হাজার প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। কলেজগুলোতেও পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই। সরকারি স্কুলগুলোতে প্রায় ১২ হাজার শিক্ষকের ঘাটতি রয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট রয়েছে প্রায় ৫০ হাজার। আর এমপিওভুক্ত স্কুল ও কলেজে শিক্ষক সংকটের সংখ্যা প্রায় ৭৭ হাজার।
শিক্ষামন্ত্রী প্রশ্ন রাখেন, এসব শিক্ষক সংকট কি গত পাঁচ মাসে তৈরি হয়েছে? এ বিষয়গুলোও সাংবাদিকদের খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
