টেলিগ্রাফের সম্পাদকীয়
শেখ হাসিনাকে ঘিরে নতুন সমীকরণে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬, ০৪:০৭ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরে আবারও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে। সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনার দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
নয়াদিল্লিতে এক বক্তব্যে শেখ হাসিনা, তার ছেলে এবং আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা ২০২৪ সালের আগস্টের গণঅভ্যুত্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাদের দাবি, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে স্বার্থান্বেষী রাজনৈতিক গোষ্ঠী নিজেদের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেছে। একই সঙ্গে তারা বাংলাদেশে ইসলামপন্থি উগ্রবাদী ও সন্ত্রাসীদের কর্মকাণ্ডের সুযোগ দেওয়ার অভিযোগও করেন।
শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের এসব বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। পাশাপাশি নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ায় ভারত সরকারেরও সমালোচনা করেছে ঢাকা।
বাংলাদেশ সরকার দীর্ঘদিন ধরে শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পাঠানোর দাবি জানিয়ে আসছে। সোমবার ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠকেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। ঢাকার পক্ষ থেকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া দ্রুত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: প্রত্যেকে ডাকো, সব জায়গায় আগুন দেবে
শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফেরার ইঙ্গিত দেওয়ায় বিষয়টি ভারতের জন্যও স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে। একদিকে পুরোনো রাজনৈতিক মিত্রকে ঘিরে ভারতের অবস্থান, অন্যদিকে বাংলাদেশের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক দুই দিকেই ভারসাম্য রাখা নয়াদিল্লির জন্য বড় কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে শেখ হাসিনার সমালোচকদের একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করে আসছে। তাদের অভিযোগ, শেখ হাসিনার সরকারের সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিষয়ে ভারতের সমর্থন ছিল। ফলে শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পাঠানোর দাবির সঙ্গে ভারতবিরোধী অবস্থানেরও যোগসূত্র তৈরি হয়েছে।
এ কারণে বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় ভারতের জন্য কূটনৈতিকভাবে সতর্ক অবস্থান নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের স্বার্থে কোনো একক রাজনৈতিক ব্যক্তি বা দলের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কমিয়ে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত করার প্রয়োজন রয়েছে।
গত কয়েক মাসে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর কিছু উদ্যোগও দেখা গেছে। বিএনপির নেতৃত্বে বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় দুই দেশের সম্পর্ক পুনর্গঠনের একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। উভয় পক্ষই সেই সুযোগ কাজে লাগাতে চাইলে সম্পর্কের নতুন ভিত্তি তৈরি হতে পারে।
আরও পড়ুন: সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের মৃত্যুদণ্ড
তবে শেখ হাসিনাকে ঘিরে চলমান রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক জটিলতা সেই প্রক্রিয়াকে কতটা প্রভাবিত করবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। দুই দেশের সম্পর্ককে ভবিষ্যতমুখী করতে হলে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের পাশাপাশি সীমান্ত, বাণিজ্য, পানি, নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক সহযোগিতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে বাস্তবভিত্তিক আলোচনা এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।
ঢাকা ও নয়াদিল্লি যদি শেখ হাসিনাকেন্দ্রিক উত্তেজনার বাইরে গিয়ে পারস্পরিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে পারে, তাহলে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন একটি অধ্যায়ে প্রবেশ করতে পারে। এ ক্ষেত্রে কূটনৈতিক সংযম, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং নিয়মিত আলোচনাই হতে পারে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সবচেয়ে কার্যকর পথ।
