তেল কালোবাজারিদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির ইঙ্গিত আইনমন্ত্রীর
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৩৮ পিএম
আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান। ছবি : সংগৃহীত
জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিচ্ছে সরকার। অবৈধ মজুদকারি ও কালোবাজারির মাধ্যমে সংকট তৈরি করলে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রয়োগ করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান। তিনি প্রশাসনকে এ বিষয়ে কঠোর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন এবং নিজ দলের কেউ জড়িত থাকলেও আগে তাকে গ্রেপ্তারের আহ্বান জানিয়েছেন।
শনিবার (৪ এপ্রিল) ঝিনাইদহের শৈলকুপায় একটি খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, তেলের সংকট প্রকৃত নয়, বরং কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হচ্ছে। এক শ্রেণির মানুষ একই দিনে একাধিকবার লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করে তা বাসায় মজুদ করছে এবং পরে বোতল বা ড্রামে সংরক্ষণ করে আবার তেল নিতে আসছে। এভাবে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হচ্ছে।
অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান বলেন, এতদিন সরকার নমনীয় অবস্থানে ছিল। তবে এখন প্রয়োজনে বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫ ধারায় থাকা কঠোর শাস্তি কার্যকর করা হবে, যার মধ্যে মৃত্যুদণ্ডও রয়েছে। এ জন্য প্রশাসনকে কঠোর হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আরো পড়ুন : মিয়ানমারে পাচারের সময় ডিজেলসহ আটক ১২
তিনি সতর্ক করে বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য বিশেষ করে বিএনপির নেতাকর্মী এই কাজে জড়িত থাকলে তাদের আগে গ্রেপ্তার করতে হবে। কেউ যদি অপরাধীদের পক্ষে তদবির করে, তাকেও সহযোগী হিসেবে আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেন তিনি।
গণভোট বাতিল হলে ‘জুলাই সনদ’ বাতিল হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, এটি বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা। জুলাই সনদ একটি স্বতন্ত্র ও কার্যকর দলিল, যা গণভোটের ফলাফলের ওপর নির্ভরশীল নয়।
তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে এই সনদ বাস্তবায়ন করা হবে এবং এ বিষয়ে কোনো অনিশ্চয়তা নেই। যারা ভিন্ন কথা বলছেন, তারা জনগণকে বিভ্রান্ত করছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মানবাধিকার কমিশন আইন, সুপ্রিম কোর্টের পৃথক সচিবালয় আইন ও গুম কমিশন বাতিলের গুঞ্জন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এসব আইন বাতিল করা হচ্ছে না। বরং যাচাই-বাছাই শেষে নতুন আকারে পুনরায় উপস্থাপন করা হবে।
কৃষক ও সাধারণ মানুষের জন্য সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে তিনি জানান, প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকেই ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ ১২ লাখ কৃষকের জন্য মওকুফ করা হয়েছে। পাশাপাশি আগামী বাজেটে ব্যাপকহারে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু হবে, যার আওতায় ইতোমধ্যে ৩৮ হাজার পরিবার এসেছে।
তিনি আরো জানান, পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ১৪ এপ্রিল দেশের ১১টি স্থানে কৃষক কার্ড প্রদান করা হবে, যার মধ্যে শৈলকুপাও রয়েছে। চলতি মাসেই প্রধানমন্ত্রীর শৈলকুপা সফরের ঘোষণা দিয়েছেন। সেদিন স্থানীয় জনগণকে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানোর আহ্বান জানান আইনমন্ত্রী।
