সালিশি বৈঠকে বাগবিতণ্ডা, বৃদ্ধকে গুলি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ১০:২৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে পারিবারিক বিরোধ মেটাতে বসা সালিশি বৈঠকে নাতির গুলিতে দাদা নজরুল ইসলাম (৭০) গুরুতর আহত হয়েছেন।
শনিবার (৪ জুলাই) বিকেলে উপজেলার বশিকপুর ইউনিয়নের রশিদপুর গ্রামের হামিদ উল্যাহ পাটওয়ারী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
গুলিবিদ্ধ নজরুল রশিদপুর এলাকার মৃত খলিলুর রহমান পাটওয়ারীর ছেলে।
অভিযুক্ত আশিক একই বাড়ির ইসমাইল হোসেন ফারুকের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফারুক ও তার স্ত্রী আয়েশা বেগমের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলে আসছিল। এই বিরোধের মীমাংসায় শনিবার সকালে স্থানীয়ভাবে একটি সালিশি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ফারুকের চাচা নজরুল ইসলামসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক চলাকালীন আয়েশার সঙ্গে উপস্থিত ব্যক্তিদের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয় এবং এতে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। পরে আয়েশা বেগম মুঠোফোনে ঢাকায় থাকা তার ছেলে আশিককে বিষয়টি জানান। মায়ের কাছ থেকে খবর পেয়ে আশিক সন্ধ্যায় এলাকায় আসেন এবং এ নিয়ে পুনরায় বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে বৃদ্ধ নজরুলকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। এতে নজরুলের বাম হাতের কব্জির ওপর গুলি লাগে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত আশিক পলাতক রয়েছেন।
ইসমাইল হোসেন ফারুক বলেন, ‘আশিক আমার চাচাকে গুলি করেছে। সে ঢাকায় ছিল। তার মা তাকে মোবাইল করে আনিয়েছে। এখন আমাকেও হুমকি দিচ্ছে। আমি এ ঘটনায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’
গুলিবিদ্ধ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ফারুক আমাকে ডেকে নিয়ে গিয়েছিল। সালিশ বৈঠকে ফারুকের স্ত্রী আয়েশা উত্তেজিত হয়ে উঠে। সে কারো কথা শুনতে রাজি ছিলো না। এ নিয়ে তার সঙ্গে বাগবিতণ্ডা হয়। এর জের ধরে আশিক এসে আমাকে গুলি করে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’
সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার শামিম মোহাম্মদ আফজাল বলেন, ‘গুলিবিদ্ধের অভিযোগে বৃদ্ধকে আনা হয়েছে। আমরা তাকে এক্স-রে করতে বলেছি। এক্স-রে করার পর গুলি ভিতরে আছে কিনা বলা যাবে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে নোয়াখালী রেফার করা হয়েছে।’
লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
