চীনা বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬, ০২:৪৮ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি : সংগৃহীত
চীনা বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ হতে পারে এশিয়ার পরবর্তী অর্থনৈতিক বিস্ময়, আর সেই যাত্রায় চীনা উদ্যোক্তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে।
বেইজিংয়ের দিয়াওইউতাই হোটেলে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরামে ব্যবসায়ী নেতা, শিল্পপতি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, চীনা কোম্পানিগুলো তাদের উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার অংশ বাংলাদেশে সম্প্রসারণ করতে পারে। এতে একদিকে যেমন বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ বাজারের সুবিধা পাওয়া যাবে, অন্যদিকে বৈশ্বিক বাজারেও আরো কার্যকরভাবে পৌঁছানো সম্ভব হবে।
তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ চীনা বিনিয়োগকারীদের এশিয়ার পরবর্তী অর্থনৈতিক বিস্ময়ের অংশ হওয়ার আমন্ত্রণ জানাচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেক চীনা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে সফলভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছে এবং দেশের শ্রমশক্তি, স্থিতিশীলতা ও সম্ভাবনার ইতিবাচক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে নতুন দৃষ্টিতে দেখার সময় এসেছে। চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য এমন একটি পরিবেশ গড়ে তোলা হচ্ছে, যেখানে তাদের বিনিয়োগ যথাযথ মূল্যায়ন পাবে এবং সব ধরনের উদ্বেগ ও প্রত্যাশা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ বর্তমানে একটি বড় অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দেশটি ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত, ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত এবং দীর্ঘদিনের বন্ধু চীনের সঙ্গে আরো ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী।
আরো পড়ুন : নদী ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ-চীনের নতুন সমঝোতা
প্রধানমন্ত্রী বলেন, চীন এখন বৈশ্বিক মূল্যশৃঙ্খলের উচ্চতর স্তরে এগিয়ে যাচ্ছে। উন্নত উৎপাদনশিল্প, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও উচ্চমূল্যের অবকাঠামো খাতে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো নেতৃত্ব দিচ্ছে। এই পরিবর্তনের ফলে উৎপাদন ব্যবস্থার কিছু অংশ নতুন ও প্রতিযোগিতামূলক গন্তব্য খুঁজবে, আর বাংলাদেশ সেই সম্ভাবনাময় গন্তব্যগুলোর একটি হতে পারে।
তারেক রহমান জানান, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমে ব্যাপক সংস্কারের লক্ষ্যে ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এর আওতায় আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো, নীতির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা, নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়া সহজ করা এবং সরকারি সেবার ডিজিটাল রূপান্তরে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আইন অনুযায়ী বৈষম্যহীন সুবিধা, মূলধন ও মুনাফা দেশে ফেরত নেওয়ার সুযোগ এবং শক্তিশালী আইনি সুরক্ষা পাবেন।
তারেক রহমান জানান, চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য আনোয়ারায় চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল এবং মোংলায় আরেকটি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হচ্ছে। এসব এলাকায় আধুনিক লজিস্টিকস সুবিধা, সমুদ্রবন্দর সংযোগ, নিরবচ্ছিন্ন ইউটিলিটি সেবা, দক্ষ শ্রমশক্তি ও শিল্পবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ চুক্তি হালনাগাদের কাজও এগিয়ে চলছে, যাতে বিনিয়োগকারীরা আরও বেশি আস্থা ও সুরক্ষা পান। বিডা চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ সম্পর্ক ব্যবস্থাপনা ডেস্ক চালু করেছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি বিনিয়োগসংক্রান্ত তথ্য সহজে পাওয়ার জন্য একটি বিশেষায়িত ওয়েবসাইটও চালু করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দেন, খুব শিগগিরই চীনে বাংলাদেশের প্রথম ‘বিনিয়োগ কার্যালয়’ চালু করা হবে। এর মাধ্যমে চীনা বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে আসার আগেই প্রয়োজনীয় সহায়তা ও তথ্য পেতে পারবেন। নতুন লাইসেন্স অনুমোদন ব্যবস্থা চালুর প্রস্তুতি চলছে, যার ফলে নতুন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ১৫ দিনেরও কম সময়ে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করতে পারবে।
এ ছাড়া সাম্প্রতিক বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ওষুধ ও স্বাস্থ্যসেবা, ইলেকট্রনিকস, ডিজিটাল অবকাঠামো, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং উন্নত বস্ত্রশিল্পসহ বিভিন্ন অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতে বিশেষ প্রণোদনা ও নীতিগত সুবিধা ঘোষণা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। সবকিছু নিখুঁত দাবি করা যাবে না, তবে সরকার বিদ্যমান সমস্যাগুলো সম্পর্কে সচেতন এবং সেগুলোর সমাধানে কাজ করে যাচ্ছে।
ভাষণের শেষে তিনি চীনা বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে বলেন, বাংলাদেশে আসুন, বাংলাদেশে বিনিয়োগ করুন। সমমর্যাদার অংশীদারত্বের ভিত্তিতে আমরা একসঙ্গে সমৃদ্ধির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারি।
অনুষ্ঠানে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা ও প্রণোদনা বিষয়ে একটি বিশেষ উপস্থাপনা তুলে ধরেন। সম্মেলনে ১২৫ জন চীনা ব্যবসায়িক প্রতিনিধি অংশ নেন। এ সময় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
