প্রধানমন্ত্রীর কর্মদক্ষতায় ৬৬.৩% অনুমোদন, সামনে বড় চ্যালেঞ্জ
মাহফুজ খান
প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬, ১২:২৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের প্রথম ছয় মাসের কার্যক্রম নিয়ে জনমতে ইতিবাচক ও নেতিবাচক দুই ধরনের চিত্রই উঠে এসেছে নতুন এক জাতীয় জনমত জরিপে। জরিপে ৬৬ দশমিক ৩ শতাংশ উত্তরদাতা প্রধানমন্ত্রীর কর্মদক্ষতাকে ভালো বা ইতিবাচক হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন। তবে সরকারের সামগ্রিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক মূল্যায়ন ৫৪ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে দেশের বর্তমান গতিপথ সঠিক বলে মনে করছেন ৪৮ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ।
ডপলার ওপিনিয়ন রিসার্চ -এর ‘অ্যাপরুভাল রেটিং সার্ভে ২০২৬’ অনুযায়ী, ২১ দশমিক ৬ শতাংশ উত্তরদাতা প্রধানমন্ত্রীর কর্মদক্ষতাকে নেতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করেছেন। ১২ দশমিক ১ শতাংশ কোনো মত দেননি বা উত্তর দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
জরিপে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ইতিবাচক মূল্যায়ন বিভিন্ন বয়স, লিঙ্গ, শিক্ষা ও আয়ের শ্রেণিতে মোটামুটি ধারাবাহিক ছিল। আট বিভাগের প্রতিটিতেই তার অনুমোদনের হার ৬২ শতাংশের ওপরে ছিল।দলীয় সমর্থনের ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা গেছে। বিএনপির বাইরে জামায়াতের সমর্থকদের ৬৫ দশমিক ৫ শতাংশ, জাতীয় নাগরিক পার্টির সমর্থকদের ৬৫ দশমিক ৮ শতাংশ এবং আওয়ামী লীগের সমর্থকদের ৫২ দশমিক ৫ শতাংশ প্রধানমন্ত্রীর কর্মদক্ষতাকে ইতিবাচক হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন।
সরকারের সামগ্রিক কাজে কমেছে সন্তুষ্টি তবে প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের মধ্যে মূল্যায়নের ব্যবধানটি উল্লেখযোগ্য। যেখানে প্রধানমন্ত্রীর কর্মদক্ষতার অনুমোদন ৬৬ দশমিক ৩ শতাংশ, সেখানে সরকারের সামগ্রিক কাজকে ভালো বলেছেন ৫৪ দশমিক ৫ শতাংশ। সরকারের কর্মকাণ্ডকে খারাপ বলেছেন ৩২ দশমিক ৯ শতাংশ।আর দেশের সামগ্রিক গতিপথ নিয়ে চিত্রটি আরও বিভক্ত। মাত্র ৪৮ দশমিক ৬ শতাংশ মনে করেন বাংলাদেশ সঠিক পথে এগোচ্ছে। বিপরীতে ৩৫ দশমিক ৬ শতাংশ মনে করেন দেশ ভুল পথে যাচ্ছে।
সবচেয়ে বড় উদ্বেগ বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও দ্রব্যমূল্য জরিপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নেতিবাচক দিকগুলোর একটি হলো মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার সমস্যা। উত্তরদাতাদের ৫৯ দশমিক ৫ শতাংশ বিদ্যুৎ ও জ্বালানিকে দেশের অন্যতম বড় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ৫৯ দশমিক ১ শতাংশের কাছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বড় সমস্যা। এরপর রয়েছে আইনশৃঙ্খলা ও কর্মসংস্থান।
এই খাতগুলোতে সরকারের পারফরম্যান্স নিয়েও অসন্তোষ স্পষ্ট। ৮৯ দশমিক ৪ শতাংশ উত্তরদাতা বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে নেতিবাচক মূল্যায়ন করেছেন। জ্বালানি ও গ্যাস ব্যবস্থাপনায় নেতিবাচক মত দিয়েছেন ৭৯ দশমিক ৬ শতাংশ। আর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের ভূমিকা খারাপ বলেছেন ৬৯ দশমিক ১ শতাংশ।তবে সব খাতেই নেতিবাচক চিত্র নেই। জরিপে অন্তর্ভুক্ত সাতটি নীতিখাতের মধ্যে শিক্ষা খাতে সরকারের কর্মকাণ্ডকে ভালো বলেছেন ৭০ দশমিক ৬ শতাংশ উত্তরদাতা।
আরো পড়ুন: ভোট দিতে পারবেন মির্জা ফখরুল, সংসদ কক্ষে ঢুকতে পারবেন না অলি
পরিবারের আর্থিক অবস্থার ক্ষেত্রেও জরিপে মিশ্র চিত্র পাওয়া গেছে। ৪৬ দশমিক ৫ শতাংশ বলেছেন, এক বছর আগের তুলনায় তাদের পরিবারের আর্থিক অবস্থা খারাপ হয়েছে। তবে ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছুটা আশাবাদও রয়েছে ৩৮ দশমিক ১ শতাংশ আগামী ১২ মাসে নিজেদের পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হবে বলে আশা করছেন।
ডপলার ওপিনিয়ন রিসার্চ -এর এই জরিপে ইনওভিশন কনসালটিং -এর পিপলস ইলেকশন পালস সার্ভে -এর একটি প্যানেল থেকে ১০ হাজার ৪১৩টি নমুনা নেওয়া হয়। এর মধ্যে ৩ হাজার ৪৪৩ জন পূর্ণাঙ্গভাবে উত্তর দিয়েছেন। দেশের ৬৪ জেলার ৪৮৯টি ওয়ার্ড ও গ্রামের উত্তরদাতাদের তথ্য এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলাফল ২০২২ সালের জনশুমারির তথ্য অনুযায়ী ওজন করা হয়েছে। জরিপের রেসপন্স রেট ছিল ৩৩ দশমিক ১ শতাংশ।
সব মিলিয়ে জরিপটি সরকারের জন্য একই সঙ্গে ইতিবাচক ও সতর্কতামূলক দুই ধরনের বার্তা দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মদক্ষতার প্রতি মানুষের আস্থা তুলনামূলকভাবে বেশি হলেও সরকারের সামগ্রিক কার্যক্রম এবং দেশের গতিপথ নিয়ে সেই মাত্রার নিশ্চয়তা নেই।
বিশেষ করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি, নিত্যপণ্যের দাম ও অর্থনৈতিক চাপ এই বিষয়গুলোতে মানুষের অসন্তোষ স্পষ্ট। ফলে ৬৬ দশমিক ৩ শতাংশ অনুমোদন সরকারের জন্য একটি ইতিবাচক সূচক হলেও, জনজীবনের বাস্তব সমস্যাগুলো কতটা কার্যকরভাবে সমাধান করা যাচ্ছে সেটিই সামনে সরকারের জনপ্রিয়তা ধরে রাখার অন্যতম বড় পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে।
