এবার ধূমপায়ীদের রক্তে মিলল মাইক্রোপ্লাস্টিক
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০২:০২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
নিয়মিত ধূমপান করেন এবং দূষিত বাতাসে শ্বাস নেন এমন মানুষের রক্তে তুলনামূলক বেশি মাত্রায় মাইক্রোপ্লাস্টিক ও ন্যানোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে সুস্থ মানুষের তুলনায় হৃদরোগ ও হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত ব্যক্তিদের রক্তেও এসব ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার উপস্থিতি বেশি বলে এক গবেষণায় উঠে এসেছে।
সম্প্রতি ইউরোপিয়ান হার্ট জার্নালে প্রকাশিত ইতালির রোমের সান্ত আন্দ্রেয়া হাসপাতাল ও সাপিয়েনজা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।
গবেষণাটির প্রধান গবেষক ড. পাসকুয়ালে পাওলিসো জানান, মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গ ও টিস্যুতে প্লাস্টিক কণা শনাক্ত হলেও হৃদপিণ্ডে রক্ত সরবরাহকারী ধমনী বা করোনারি সার্কুলেশনে এসব কণার উপস্থিতি এবং ধূমপান ও বায়ুদূষণের সঙ্গে এর সম্পর্ক নিয়ে এতদিন স্পষ্ট ধারণা ছিল না।
গবেষণায় হৃদপিণ্ডের ধমনী থেকে ৬১ জন রোগীর রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। তাদের মধ্যে কেউ সম্প্রতি হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হয়েছিলেন, কেউ দীর্ঘস্থায়ী হৃদরোগে ভুগছিলেন এবং বাকিরা ছিলেন সুস্থ।
পরীক্ষায় দেখা যায়, হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত ৮৪ শতাংশ রোগীর রক্তে মাইক্রোপ্লাস্টিক ও ন্যানোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি ছিল। দীর্ঘস্থায়ী হৃদরোগে আক্রান্ত কিন্তু হার্ট অ্যাটাক হয়নি এমন রোগীদের মধ্যে এ হার ছিল ৪০ শতাংশ। আর সুস্থ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্লাস্টিক কণার উপস্থিতি পাওয়া গেছে ৩২ শতাংশের রক্তে।
আরও পড়ুন : বাত, ব্যাথা ও প্যারালাইসিসের চিকিৎসায় আকুপাংচার
গবেষণায় আরও দেখা যায়, ধূমপায়ীদের রক্তে উচ্চমাত্রায় প্লাস্টিক কণা থাকার সম্ভাবনা অধূমপায়ীদের তুলনায় ছয় গুণ বেশি। একইভাবে যারা নিয়মিত বায়ুদূষণের মধ্যে থাকেন, তাদের ক্ষেত্রেও রক্তে মাইক্রোপ্লাস্টিক ও ন্যানোপ্লাস্টিকের মাত্রা বেশি পাওয়া গেছে।
গবেষকদের তথ্যমতে, ধূমপান করেন এবং দূষিত পরিবেশে বসবাস করেন এমন ১০০ শতাংশ অংশগ্রহণকারীর রক্তে উচ্চমাত্রার প্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। বিপরীতে ধূমপান করেন না এবং তুলনামূলক দূষণমুক্ত পরিবেশে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে এই হার ছিল ১২ দশমিক ৫ শতাংশ।
তবে গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, এসব তথ্য থেকে সরাসরি প্রমাণ করা যায় না যে মাইক্রোপ্লাস্টিকের কারণেই হার্ট অ্যাটাক হয়। বরং পরিবেশদূষণ, রক্তে প্লাস্টিক কণার উপস্থিতি এবং হৃদরোগের ঝুঁকির মধ্যে সম্ভাব্য সম্পর্কের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
গবেষণার অন্যতম জ্যেষ্ঠ গবেষক ড. ইমানুয়েলে বারবাতোর মতে, ধূমপান ও বায়ুদূষণের কারণে ফুসফুসের মাধ্যমে প্লাস্টিক কণা রক্তপ্রবাহে প্রবেশের সুযোগ বাড়তে পারে।
এদিকে জার্মানির মেইঞ্জের জোহানেস গুটেনবার্গ ইউনিভার্সিটির বিশেষজ্ঞ ড. আন্দ্রেয়াস ডাইবার এক সম্পাদকীয়তে সতর্ক করে বলেছেন, মাইক্রোপ্লাস্টিক ও ন্যানোপ্লাস্টিক মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে। তবে এসব কণার সঙ্গে হৃদরোগের সরাসরি কারণ-ফল সম্পর্ক নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
সূত্র: ইউএস নিউজ
