হলিউডের সঙ্গে একই দিনে দেশের প্রেক্ষাগৃহে ‘দ্য এন্ড অব ওক স্ট্রিট’
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬, ১০:৫৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
নতুন হলিউড সিনেমা ‘দ্য এন্ড অব ওক স্ট্রিট’ আগামী ১৪ আগস্ট মুক্তি পেতে যাচ্ছে। একই দিনে বাংলাদেশের স্টার সিনেপ্লেক্সেও মুক্তি পাবে ডেভিড রবার্ট মিশেল পরিচালিত সিনেমাটি।
সায়েন্স ফিকশন, মিস্ট্রি ও সারভাইভাল থ্রিলারের সমন্বয়ে নির্মিত সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন অ্যান হ্যাথাওয়ে, ইউয়ান ম্যাকগ্রেগর, মেইসি স্টেলা ও ক্রিশ্চিয়ান কনভেরিসহ আরও অনেকে।
গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে প্ল্যাট পরিবার। ১৯৮০-এর দশকের একটি সাধারণ শহরতলিতে বসবাস করা এই পরিবার হঠাৎ এক রহস্যময় মহাজাগতিক ঘটনার মুখোমুখি হয়। এরপর তাদের পুরো ওক স্ট্রিট যেন স্বাভাবিক পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে অন্য এক অচেনা জগতে চলে যায়।
প্রথমে পরিবারটি বুঝতে পারে না কী ঘটেছে। কিন্তু বাড়ির বাইরে বেরিয়ে তারা দেখতে পায়, পরিচিত শহরতলি আর নেই। ওক স্ট্রিটের সামনে বিশাল এক অচেনা জঙ্গল, রাস্তার শেষ প্রান্ত গিয়ে থেমেছে গভীর এক খাদের কাছে। চারপাশের পরিবেশও যেন প্রাগৈতিহাসিক যুগের। সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো, সেই অচেনা জঙ্গলে ঘুরে বেড়াচ্ছে ডাইনোসর।
আরও পড়ুন: আমাকে খারাপ মানুষ ভাবার ৯০ শতাংশই তাদের কল্পনা: প্রভা
এরপর থেকেই শুরু হয় পরিবারের টিকে থাকার লড়াই। খাবার সংগ্রহ, নিরাপদ আশ্রয় খোঁজা এবং সন্তানদের রক্ষা করার পাশাপাশি তাদের মোকাবিলা করতে হয় অচেনা পরিবেশের নানা বিপদের। এর সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের নিজেদের মধ্যকার টানাপোড়েনও পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তোলে।
তবে সিনেমার রহস্য শুধু ডাইনোসরকে ঘিরে নয়। ওক স্ট্রিট কীভাবে অন্য এক জগতে চলে গেল, তারা কি সত্যিই অতীতে গিয়ে পড়েছে, ডাইনোসরগুলো কোথা থেকে এলো এবং শেষ পর্যন্ত পরিবারটি নিজেদের পৃথিবীতে ফিরতে পারবে কি না— এসব প্রশ্নের উত্তরই গল্পের মূল আকর্ষণ।
পরিচালক ডেভিড রবার্ট মিশেল জানিয়েছেন, সিনেমাটির ভাবনার সঙ্গে তাঁর শৈশবের অভিজ্ঞতারও যোগ রয়েছে। মিশিগানে বেড়ে ওঠার সময় নিজের পরিচিত শহরতলির গলি, গ্যারেজ কিংবা রাস্তার শেষ প্রান্তকে তাঁর কাছে কখনো কখনো রহস্যময় ও অন্য জগতের মতো মনে হতো। সেই অনুভূতি থেকেই সিনেমাটির ধারণা তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুন: ‘যেভাবে সালমান শাহকে হত্যা করেছি, সেভাবে শাহরানকে হত্যা করব’
মিশেল জানান, তিনি শুধু ডাইনোসরকেন্দ্রিক একটি সিনেমা বানাতে চাননি। বরং একটি পরিচিত ও সাধারণ পারিবারিক পরিবেশের মধ্যে হঠাৎ অস্বাভাবিক এবং ভয়ংকর কিছু নিয়ে আসাই ছিল তাঁর উদ্দেশ্য।
সিনেমায় অ্যান হ্যাথাওয়ের অভিনয়েরও প্রশংসা করেছেন পরিচালক। তাঁর মতে, পারিবারিক ও আবেগঘন দৃশ্যগুলোতে হ্যাথাওয়ে অসাধারণ অভিনয় করেছেন। আবার গল্পে রহস্য, ভয় ও বিপদ ঘনিয়ে এলে তিনি চরিত্রটিকে আরও গভীর মাত্রায় নিয়ে গেছেন। শক্তি, আতঙ্ক ও অসহায়ত্ব—এই ভিন্ন অনুভূতিগুলো একই সঙ্গে বিশ্বাসযোগ্যভাবে ফুটিয়ে তুলতে পেরেছেন অস্কারজয়ী এই অভিনেত্রী।
সব মিলিয়ে ‘দ্য এন্ড অব ওক স্ট্রিট’ শুধু ডাইনোসর থেকে বাঁচার গল্প নয়; বরং রহস্য, পারিবারিক টানাপোড়েন এবং অজানা এক জগতে টিকে থাকার সংগ্রামকে কেন্দ্র করে নির্মিত একটি সায়েন্স ফিকশন থ্রিলার।
