মোদির বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ
আটকের কয়েক ঘণ্টা পর মুক্ত রাহুল-প্রিয়াঙ্কা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৯ এএম
ছবি: সংগৃহীত
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে বিক্ষোভের সময় আটক হওয়া লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে কয়েক ঘণ্টা পর মুক্তি দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিন এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভে বসেন রাহুল গান্ধী। তিনি সারা রাত সেখানে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিলে পুলিশ তাকে আটক করে। পরে কয়েক ঘণ্টা পর ছত্রসাল স্টেডিয়াম থেকে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে আটক করে মন্দির মার্গ থানায় রাখা হয়েছিল। পরে তাকেও মুক্তি দেওয়া হয়। রাতে থানায় যান কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি সোনিয়া গান্ধী। কিছু সময় অবস্থান করে তিনিও ফিরে যান।
আরো পড়ুন: বিক্ষোভের মধ্যেই সেনাপ্রধানকে সরালেন জেলেনস্কি
এর আগে সোমবারের সংঘর্ষের ঘটনায় আটক হওয়া আরও প্রায় ৭০ জনকে মঙ্গলবার মুক্তি দেয় দিল্লি পুলিশ। একই সঙ্গে সরকারি সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগে ছয়টি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে কংগ্রেসের এই কর্মসূচির সমালোচনা করেছেন বিজেপি সভাপতি নিতিন নবীন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের বাইরে রাহুল গান্ধীর এই আচরণ অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং এটি ভারতের রাজনীতির জন্য একটি কালো অধ্যায়।
এদিকে গভীর রাতে জন্তর মন্তরে চলমান বিক্ষোভে যোগ দেন মহারাষ্ট্রের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে।
এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের বাসভবনের সামনে জড়ো হন দলীয় নেতা-কর্মীরা। সেখান থেকে তারা প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ৭, লোক কল্যাণ মার্গের উদ্দেশে মিছিল করেন। সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবও ওই কর্মসূচিতে অংশ নেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ, র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ) এবং অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
আরো পড়ুন: গোপন ভিডিও ফাঁসে ফেঁসেছেন যেসব বিশ্বনেতা
বিক্ষোভকারীরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগ দাবি করেন এবং বিভিন্ন স্লোগান দেন। কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং ঘটনাস্থলে গিয়ে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে কথা বললেও কংগ্রেস তাদের অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় থাকে।
এদিকে বিজেপির একটি সূত্রের দাবি, রাহুল গান্ধীর এই আন্দোলনের পেছনে মূলত রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে এবং তিনি বারবার নিজের অবস্থান পরিবর্তন করছেন।
অন্যদিকে, আম আদমি পার্টির নেতা সোমনাথ ভারতী বলেন, রাহুল গান্ধী পুরো আন্দোলনকে দুর্বল করার চেষ্টা করছেন। তার দাবি, ছাত্র-যুবদের পাশে দাঁড়াতে চাইলে রাহুলের জন্তর মন্তরে গিয়ে আন্দোলনে অংশ নেওয়া উচিত।
