স্ত্রীর মাথা কেটে রেখে দেন ফ্রিজে, অতঃপর
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:০৪ পিএম
রামানুজ গোস্বামী এবং তাঁর স্ত্রী রিয়া তালুকদার । ছবি: সংগৃহীত
স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যার পর তাঁর কাটা মাথা ফ্রিজে রেখে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে এক যুবকের বিরুদ্ধে। পরে ওই ঘটনায় গ্রেপ্তার যুবক পুলিশের গাড়ি থেকে ঝাঁপ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে পাহাড়ের খাদে পড়ে গুরুতর আহত হন। হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। সোমবার ভোরে ভারতের আসামের গুয়াহাটিতে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গুয়াহাটির বাসিন্দা রামানুজ গোস্বামী তাঁর স্ত্রী রিয়া তালুকদারকে (২৫) সন্দেহ করতেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে স্ত্রীর সম্পর্ক রয়েছে। এই সন্দেহের জেরেই গত ৩ সেপ্টেম্বর বাড়িতে রিয়াকে হত্যা করেন রামানুজ—এমন অভিযোগ পুলিশের।
গত ৬ সেপ্টেম্বর প্রতিবেশীরা ওই বাড়ি থেকে দুর্গন্ধ বের হওয়ার কথা জানান। একই সময়ে পরিবারের সদস্যরাও দুজনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ বাড়িটিতে অভিযান চালিয়ে ফ্রিজের ভেতর থেকে রিয়ার কাটা মাথা ও কয়েকটি আঙুলের অংশ উদ্ধার করে।
ওই রাতেই পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন রামানুজ। পরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। সাত দিনের পুলিশ হেফাজতে থাকা রামানুজকে সোমবার ভোরে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য গুয়াহাটি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল।
আরও পড়ুন: ভারতে নতুন দেওয়ানি আইন, উদ্বেগে মুসলিমরা
পুলিশের দাবি, হাসপাতাল থেকে ফেরার পথে নরকাসুর পাহাড় এলাকায় রামানুজ পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তিনি চলন্ত পুলিশের গাড়ি থেকে ঝাঁপ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। এতে পাহাড়ের খাদে পড়ে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, গ্রেপ্তারের পর গত ৯ সেপ্টেম্বর রামানুজকে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিল পুলিশ। সে সময় তাঁর মধ্যে হত্যাকাণ্ডের জন্য কোনো অনুশোচনা দেখা যায়নি বলে দাবি পুলিশের। এমনকি কারাগার থেকে বের হওয়ার পর স্ত্রীর কথিত প্রেমিক, যাঁকে তিনি ‘সুগার ড্যাডি’ বলে উল্লেখ করেছিলেন, তাঁকেও হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে রামানুজ স্বীকার করেছিলেন যে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় তিনি স্ত্রীকে হত্যা করেন। তাঁর বাড়ি থেকে মদের খালি বোতল ও রক্তমাখা একটি ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের ধারণা, ওই অস্ত্র দিয়েই রিয়াকে হত্যা করা হয়েছিল।
