সৌদির এক বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
সৌদির দক্ষিণাঞ্চলীয় খামিস মুসাইত শহরের কিং খালিদ বিমানঘাঁটিতে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) হুতি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক বিবৃতিতে এ তত্য জানিয়েছে। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা আনাদোলুর।
তিনি বলেন, কিং খালিদ বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে বেশ কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছেন তারা।
তার দাবি, হামলায় সৌদি বিমানঘাঁটির হ্যাঙ্গার, রাডার ব্যবস্থা, রানওয়ে, গোলাবারুদের গুদামসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার ফলে ঘাঁটিটিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
হুতি কর্তৃপক্ষ বলেছে, ইয়েমেনে সৌদি আরবের চলমান বিমান হামলার পাল্টা জবাব হিসেবেই এ অভিযান চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, গত পাঁচ দিনে সৌদি এফ-১৫ ও টাইফুন যুদ্ধবিমান ইয়েমেনের বিভিন্ন প্রদেশে ৩০০টির বেশি বিমান হামলা চালিয়েছে।
আরো পড়ুন: নোটিশের পরও দুদকে হাজির হননি সাবেক সেনাপ্রধান শফিউদ্দিন
তবে সৌদি বিমানঘাঁটিতে হামলা ও সেখানে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি সৌদি কর্তৃপক্ষ।
এদিকে সৌদি আরবের সিভিল ডিফেন্স খামিস মুসাইত গভর্নরেটে সতর্কতা জারি করলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার কথা জানায়। একই সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের সিভিল ডিফেন্সের নির্দেশনা অনুসরণ করতে এবং ঘটনাস্থলে ভিড় না করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি হামলার দৃশ্য ধারণ না করার জন্যও সতর্ক করা হয়।
ইয়েমেনে সৌদি সামরিক অভিযান বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত সৌদি ভূখণ্ডে হামলা চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে হুতিরা। সংগঠনটি বলেছে, ভবিষ্যতে ইয়েমেনে নতুন করে হামলা হলে তার প্রতিক্রিয়া আরও বড় পরিসরে এবং কঠোরভাবে দেওয়া হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে হুতি নিয়ন্ত্রিত ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকায় সৌদি বিমান হামলা বেড়েছে। এর পাল্টা হিসেবে সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন শহর ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে হুতিরা।
গত সপ্তাহে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়, আবহা, খামিস মুসাইত, জাজান ও নাজরান এলাকায় হুতিদের হামলায় ৭৩ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন। এসব হামলার জেরে দেশটির কয়েকটি জ্বালানি স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ডের পাশাপাশি সাময়িকভাবে কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার ঘটনাও ঘটে।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখলের পর দেশটির রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান তৈরি করে হুতি গোষ্ঠী। এরপর এক দশকের বেশি সময় ধরে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে তাদের সংঘাত বিভিন্ন সময়ে তীব্র হয়েছে।
