পাকিস্তানের ফাঁদে ১৬ ভারতীয় সেনা, বেরিয়ে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৩৯ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে তুলে ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের পর যৌন বার্তা, ছবি ও ভিডিও আদান-প্রদানের মাধ্যমে ভারতীয় নৌবাহিনীর সদস্যদের ব্ল্যাকমেল করার অভিযোগ উঠেছে পাকিস্তানি গোয়েন্দাদের বিরুদ্ধে। এভাবে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করা হয়েছে বলে দাবি তদন্তকারীদের।
ভারতীয় একাধিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমে নৌঘাঁটির এক গাড়িচালককে গ্রেফতারের পর দেশটির কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স আরও ১৬ নৌসেনা সদস্যের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছে।
তদন্তকারীদের দাবি, বিশাখাপত্তনমের নৌসেনাঘাঁটির গাড়িচালক আন্নাম সাই ভারাপ্রসাদকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক নারী পরিচয়ের মাধ্যমে ফাঁদে ফেলা হয়। প্রায় ছয় মাস আগে ওই নারী তাকে ‘ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট’ পাঠান। নিজেকে একটি জাহাজ নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের কর্মী এবং পাশের রাজ্যের বাসিন্দা হিসেবে পরিচয় দেন তিনি।
প্রথমদিকে সন্দেহ থাকলেও ধীরে ধীরে ওই নারীর সঙ্গে ভারাপ্রসাদের ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। একপর্যায়ে তিনি ভারাপ্রসাদের ব্যক্তিগত জীবন, চাকরি, বেতন এবং তিনি কী ধরনের গাড়ি চালান—এসব বিষয়ে তথ্য জানতে থাকেন।
পরে তাদের মধ্যে যৌন বার্তা, ছবি ও ভিডিও আদান-প্রদান শুরু হয়। এমনকি বিশাখাপত্তনমে এসে দেখা করার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি।
তদন্তকারীদের ভাষ্য, ভারাপ্রসাদ নৌবাহিনীর কর্মকর্তাদের গাড়ি চালান জানতে পেরে ওই নারী তার কাছ থেকে কর্মকর্তাদের সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেন। পরে নৌঘাঁটি ও রণতরীসংক্রান্ত তথ্য চাওয়া হলে ভারাপ্রসাদ তা দিতে রাজি হননি। এরপর তাকে গ্রেফতার ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ করার ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেল করা হয় বলে অভিযোগ।
তদন্তকারীদের দাবি, এভাবে রণতরী কোথায় নোঙর করা হয় এবং কোথায় রণতরী নির্মাণ করা হচ্ছে—এ ধরনের তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করা হয়। পরে হোয়াটসঅ্যাপেও তাদের যোগাযোগ অব্যাহত ছিল। তবে নৌঘাঁটির অভ্যন্তরীণ তথ্য ভারাপ্রসাদের নাগালের বাইরে থাকায় তিনি সব তথ্য দিতে পারেননি বলে তদন্তকারীদের ধারণা।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অন্ধ্রপ্রদেশের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স প্রায় এক মাস ধরে ভারাপ্রসাদের গতিবিধির ওপর নজর রাখছিল। তার মাধ্যমেই বাঙালি নৌসেনাকর্মী প্রদীপ মুখোপাধ্যায়ের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয় বলে তদন্তকারীদের দাবি। পরে একই কৌশলে প্রদীপের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাকে ব্ল্যাকমেল করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
তদন্তকারীদের দাবি, প্রদীপের কাছ থেকে বিশাখাপত্তনম ও কোয়েম্বত্তূরের নৌসেনাঘাঁটি-সংক্রান্ত তথ্য নেওয়া হয়েছিল।
ভারাপ্রসাদ ও প্রদীপকে পাকিস্তানের হয়ে চরবৃত্তির অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভারতের ১০টি রাজ্যে সন্দেহভাজন ১৬ নৌসেনা সদস্যের ঠিকানায় কাউন্টার ইন্টেলিজেন্সের ১২টি দল তল্লাশি চালিয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
তদন্তকারীদের অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্পর্ক তৈরি, ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ, যৌনতার ফাঁদ এবং পরে ব্ল্যাকমেলের মাধ্যমে নৌবাহিনীর তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন এবং আদালতে প্রমাণিত হওয়া বাকি।
