×

ভারত

মোদির পতন কবে, জানালেন দীপকে

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:২৬ পিএম

মোদির পতন কবে, জানালেন দীপকে

ছবি : সংগৃহীত

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকার ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে ক্ষমতাচ্যুত হবে বলে মন্তব্য করেছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্যে জনগণকে প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার (৭ নভেম্বর) কেরালার কোচিতে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে এসব কথা বলেন অভিজিৎ। সিজেপির ‘জন্তর মন্তর অ্যাট কোচি’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

অভিজিৎ বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমেই সরকার পরিবর্তন সম্ভব। তবে এ জন্য স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচনব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। এ লক্ষ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগও দাবি করেন তিনি।

বিজেপির পক্ষ থেকে মোদি দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকবেন বলে দেওয়া বক্তব্যের জবাবে অভিজিৎ বলেন, ‘২০২৯ সালের জন্য প্রস্তুত থাকুন। তিনি অবশ্যই ক্ষমতা ছাড়বেন।’

সমাবেশে উপস্থিত বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে তিনি বারবার জানতে চান, ২০২৯ সালে মোদি ক্ষমতা হারাবেন কি না। তাঁর এমন প্রশ্নে উপস্থিত লোকজন উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।

অভিজিৎ আরও বলেন, ‘জ্ঞানেশ কুমারকে যেতে হবে। তিনি চলে গেলে নরেন্দ্র মোদিও চলে যাবেন।’ প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে রক্ষা করতে সরকার দেশের তরুণদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে মোদির কাছে জ্ঞানেশ কুমার এত গুরুত্বপূর্ণ কেন, সেই প্রশ্ন তোলেন।

জাতীয় পতাকা নিয়ে দিল্লির জন্তর মন্তরে প্রবেশের অভিযোগে সিজেপির নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানার সঙ্গে নিজের গ্রেপ্তারের ঘটনাও তুলে ধরেন অভিজিৎ। তিনি বলেন, যেখানেই যাবেন, সেখানেই জাতীয় পতাকা সঙ্গে রাখবেন।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এই পতাকা তোলার কারণে আমাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। আমার দুই ভাই সৌরভ ও আশুকেও পতাকা তোলার কারণে কারাগারে পাঠানো হয়। ভারতে সর্বশেষ এমন ঘটনা ঘটেছিল ব্রিটিশ শাসনামলে।’

মোদি সরকারের সঙ্গে ব্রিটিশ শাসনের তুলনা করে অভিজিৎ অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার মানুষের স্বাধীনতা সীমিত করার চেষ্টা করছে।

প্রধানমন্ত্রী মোদিকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি প্রান্তে জাতীয় পতাকা বহন করবেন তিনি। এ জন্য তাঁকে গ্রেপ্তার করতে চাইলে দিল্লি, মহারাষ্ট্র, কেরালা কিংবা তামিলনাড়ু—যেকোনো জায়গা থেকেই গ্রেপ্তার করা যেতে পারে। তবে কারাগার থেকে বের হয়ে আবারও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করবেন বলে জানান তিনি।

অভিজিতের অভিযোগ, সরকার ধীরে ধীরে মানুষ কী খাবে, কাকে বিয়ে করবে এবং কাকে ভোট দেবে, সেসব বিষয় নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করতেও এসআইআর কার্যক্রম ব্যবহার করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

ভারতের রাষ্ট্রীয় আদর্শের ভিত্তি হিসেবে তিন নেতার নাম উল্লেখ করেন অভিজিৎ। তাঁরা হলেন বি আর আম্বেদকর, মহাত্মা গান্ধী ও জওহরলাল নেহরু। গান্ধীকে ভারতের আত্মা, আম্বেদকরকে মেরুদণ্ড এবং নেহরুকে বিবেক হিসেবে আখ্যায়িত করেন তিনি।

মোদিকে উদ্দেশ করে অভিজিৎ বলেন, ‘আপনি ১২০ বছর ক্ষমতায় থাকলেও আম্বেদকর, গান্ধী ও নেহরুর চেয়ে বড় হতে পারবেন না।’

এদিকে সিজেপি বিদেশি অর্থায়ন পাচ্ছে কিংবা ভারতকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে—এমন অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেন তিনি। উল্টো প্রধানমন্ত্রী মোদির বিরুদ্ধে বিদেশি শক্তির ইশারায় কাজ করার অভিযোগ তোলেন অভিজিৎ। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন তিনি।

অভিজিতের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের ভাবমূর্তি ধরে রাখতে এবং ট্রাম্পের কাছে অপমানিত হওয়া এড়াতে মোদি ভারতের স্বার্থ বিসর্জন দিয়েছেন।

এ ছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের শাসনামলে ভারতের গণতান্ত্রিক পরিবেশ তুলনামূলক ভালো ছিল বলেও দাবি করেন অভিজিৎ। তাঁর মতে, ওই সময়ে প্রধানমন্ত্রীকে প্রকাশ্যে সমালোচনা করার সুযোগ ছিল।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

এবার সিআইডি কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ

এবার সিআইডি কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ

থানার ভেতরে ককটেল বিস্ফোরণ

থানার ভেতরে ককটেল বিস্ফোরণ

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ বাংলাদেশির মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ বাংলাদেশির মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

৭ নভেম্বরের কনসার্টে জেমসের গানে ‘বঙ্গবন্ধু’, যা বললেন ছাত্রদল সভাপতি

৭ নভেম্বরের কনসার্টে জেমসের গানে ‘বঙ্গবন্ধু’, যা বললেন ছাত্রদল সভাপতি

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App