‘ব্রিটেনের রাজনীতিতে নাক গলাতে এসো না’
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৫:৪৭ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
একটি ছুরিকাহত তরুণ রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন। পুলিশ এসে তাকে বাঁচানোর পরিবর্তে হাতকড়া পরিয়ে দেয়। পরে জানা যায়, হামলাকারীর বর্ণবাদী অভিযোগ ছিল মিথ্যা। তরুণটি মারা যান। এই মর্মান্তিক ঘটনা যুক্তরাজ্যকে নাড়া দিলেও, তাতে হাত মেলান বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি ইলন মাস্ক। আর তখনই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সের মালিককে কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ কোনোভাব্য়েই গ্রহণযোগ্য নয়।
ঘটনার সূত্রপাত গত বছর। ১৮ বছর বয়সী তরুণ হেনরি নোয়াক ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন। ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে হামলাকারী শিখ যুবকের বর্ণবাদী হামলার অভিযোগ শোনে। সাহায্যের বদলে তারা হেনরিকে হাতকড়া পরিয়ে রাখে। সেই তরুণ পরে মারা যান। পরবর্তী তদন্তে জানা যায়, হামলাকারীর সব অভিযোগ ছিল ভিত্তিহীন।
সোমবার আদালত হামলাকারীর সাজা ঘোষণার পর প্রকাশ পায় পুলিশের বডিক্যাম ভিডিও। তাতে দেখা যায়, মৃত্যুপথযাত্রী তরুণের আর্তনাদ উপেক্ষা করছেন পুলিশ অফিসাররা। ভিডিও প্রকাশের পর সারা যুক্তরাজ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠে বর্ণবৈষম্যের অভিযোগ।
ঠিক সেই স্পর্শকাতর মুহূর্তে ইলন মাস্ক এক্সে (সাবেক টুইটার) পোস্ট করেন। তিনি পুলিশের আচরণের সমালোচনা করে শ্বেতাঙ্গদের বিরুদ্ধে বৈষম্যের ইঙ্গিত দেন। তাঁর ভাষ্য, ‘পশ্চিমা সমাজে কাউকে বর্ণবাদী বলাটাই এখন সবচেয়ে বড় অপরাধ, এমনকি ধর্ষণ বা খুনের চেয়েও বড়।’
এই পোস্ট সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিতর্কের আগুন ছড়ায়। তবে স্টারমার চুপ থাকেননি। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ‘মাস্ক কয়েক দিন ধরে আমাদের রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করে বিভাজন তৈরির চেষ্টা করছেন। কিন্তু যুক্তরাজ্য এভাবে চলে না।’ পুলিশের জবাবদিহিতার ওপর জোর দিলেও বিক্ষোভের নামে সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানান তিনি।
নিহত হেনরির পরিবারও এগিয়ে আসে। তারা স্টারমারের সঙ্গে দেখা করে ঘটনাকে ‘অমানবিক’ উল্লেখ করেন। তবে পরিবার স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, তারা চান না যে তাদের ছেলের মৃত্যু যেন কোনো রাজনৈতিক বা সাম্প্রদায়িক বিভেদের হাতিয়ার হয়ে ওঠে।
স্টারমার-মাস্ক দ্বন্দ্ব কিন্তু নতুন নয়। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে মাস্ক অভিযোগ করেন, প্রধান সরকারি কৌঁসুলি থাকাকালীন দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত তরুণীদের ওপর যৌন নিপীড়ন চালানো একটি চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেননি স্টারমার। সম্প্রতি আবারও বিতর্ক- লেবার পার্টির এক নারী সংসদ সদস্য দাবি করেছেন, মাস্কের মালিকানাধীন ‘গ্রোক এআই’ ব্যবহার করে তাঁর বিকৃত ছবি তৈরি করা হয়েছে। স্টারমার সেই সংসদ সদস্যের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
প্রসঙ্গত, মাস্কের মহাকাশ প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে বড় আইপিওর প্রস্তুতি নিচ্ছে। এমন সময়ে যুক্তরাজ্য সরকারের সঙ্গে এই টানাপোড়েন নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
