ইসরায়েলের মন্ত্রীর ওপর ফ্রান্সের নিষেধাজ্ঞা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৭:৪০ পিএম
ছবি- সংগৃহীত
অধিকৃত পশ্চিম তীরে সহিংসতা উসকে দেওয়া এবং অবৈধ বসতি স্থাপন জোরদার করার অভিযোগে ইসরায়েলের কট্টরপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ফ্রান্স। একই সঙ্গে দেশটির কয়েকজন প্রভাবশালী সেটলার (বসতি স্থাপনকারী) নেতাসহ বেশ কিছু সহিংস নাগরিকের বিরুদ্ধেও ফ্রান্সে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয় করে যৌথভাবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফরাসি সরকার।
ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে আজ মঙ্গলবার (৯ জুন) এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং নরওয়ের মতো অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে একযোগে এই নতুন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হচ্ছে। মূলত পশ্চিম তীরে যারা দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনিদের ওপর সহিংসতা উসকে দিচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে অবৈধ বসতি স্থাপনের প্রক্রিয়াকে আরও তীব্র করছে, তাদের লক্ষ্য করেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ ছাড়াও দেশটির চারজন প্রভাবশালী সেটলার সংগঠনের শীর্ষ নেতা এবং ২১ জন সহিংস সেটলারের ফ্রান্সে প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হলো।
বিবৃতিতে ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্মোট্রিচের কড়া সমালোচনা করে বলেন, ইসরায়েলি অর্থমন্ত্রী সক্রিয় ও পরিকল্পিতভাবে পশ্চিম তীরকে ইসরায়েলের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত বা সংযুক্তি করার পক্ষে প্রচার চালাচ্ছেন এবং তা প্রকাশ্যে দাবিও করছেন। এর পাশাপাশি তিনি পশ্চিম তীরে নতুন অবৈধ বসতি তৈরি, গাজায় পুনরায় ঔপনিবেশিক শাসন প্রতিষ্ঠা এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার মতো চরমপন্থী নীতিকে সরাসরি সমর্থন ও উসকে দিচ্ছেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারো আরও যোগ করেন, স্মোট্রিচের এসব আগ্রাসী নীতি ফিলিস্তিনের সাধারণ জনগণের ওপর মারাত্মক ও ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ, যারা ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান সংকট নিরসনে ‘দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান’ (টু-স্টেট সলিউশন) নীতিতে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাসী, তারা এই ধরনের নীতি বা কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নিতে পারে না। আর এই কারণেই ফ্রান্স ও তার মিত্র দেশগুলো একজোট হয়ে এই কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে।
