মার্কিন ডলারের দাপটে দুর্বল অস্ট্রেলিয়ান ডলার
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৮:৪১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের শক্তিশালী অবস্থানের কারণে চাপে পড়েছে অস্ট্রেলিয়ার মুদ্রা অস্ট্রেলিয়ান ডলার (AUD)। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার আরও বাড়াতে পারে- এমন আশঙ্কায় বৈশ্বিক মুদ্রাবাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে অস্ট্রেলিয়ার মুদ্রার ওপর। সোমবার (৮ জুন) মার্কিন ডলারের বিপরীতে অস্ট্রেলিয়ান ডলারের মান গত দুই মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যায়।
আন্তর্জাতিক বাজারে মুদ্রার এই দুর্বলতা অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে রেমিট্যান্স পাঠানো এবং দৈনন্দিন ব্যয় নির্বাহ- উভয় ক্ষেত্রেই এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এ তথ্য জানিয়েছে এবিসি নিউজ।
দুই মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে অস্ট্রেলিয়ান ডলার
সোমবার আন্তর্জাতিক মুদ্রাবাজারে একপর্যায়ে অস্ট্রেলিয়ান ডলারের বিনিময় হার নেমে আসে ৭০ দশমিক ১৮ মার্কিন সেন্টে (০.৭০ মার্কিন ডলার)। গত ৮ এপ্রিলের পর এটিই ছিল মুদ্রাটির সর্বনিম্ন মূল্য।
তবে দিনের দ্বিতীয় ভাগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতির খবর প্রকাশিত হলে বাজারে কিছুটা ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। এতে অস্ট্রেলিয়ান ডলারের দর বেড়ে ৭০ দশমিক ৬৭ মার্কিন সেন্ট পর্যন্ত উঠেছিল। পরে লেনদেন শেষে এর মূল্য ৭০ দশমিক ৩৯ মার্কিন সেন্টে স্থির হয়।
ইনটাচ ক্যাপিটাল মার্কেটসের সিনিয়র বৈদেশিক মুদ্রা কৌশলবিদ শন ক্যালোর মতে, সাম্প্রতিক সময়ে প্রধান আন্তর্জাতিক মুদ্রাগুলোর তুলনায় মার্কিন ডলার উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে অস্ট্রেলিয়ান ডলারের ওপর।
প্রবাসীদের জন্য কেন উদ্বেগের কারণ?
অস্ট্রেলিয়ান ডলারের অবমূল্যায়ন প্রবাসীদের আর্থিক পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতি সংশ্লিষ্টরা।
রেমিট্যান্সের প্রকৃত মূল্য কমতে পারে
অস্ট্রেলিয়ান ডলারের মান কমে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে এর ক্রয়ক্ষমতাও হ্রাস পায়। ফলে অস্ট্রেলিয়া থেকে দেশে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে রূপান্তর হার কমে যেতে পারে। এতে বাংলাদেশে থাকা পরিবারের সদস্যরা আগের তুলনায় কম অর্থ পেতে পারেন।
বাড়তে পারে জীবনযাত্রার ব্যয়
স্থানীয় মুদ্রার দর কমে গেলে বিদেশ থেকে আমদানি করা বিভিন্ন পণ্যের খরচ বেড়ে যায়। জ্বালানি, ইলেকট্রনিক পণ্য এবং খাদ্যসামগ্রীর মতো আমদানিনির্ভর পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পেলে মূল্যস্ফীতির চাপও বাড়তে পারে। এতে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসকারী প্রবাসীদের দৈনন্দিন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি চাপ
অস্ট্রেলিয়ায় অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরাও এই পরিস্থিতির প্রভাব অনুভব করতে পারেন। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং মুদ্রার দুর্বলতার কারণে পার্ট-টাইম কাজের আয়ে পড়াশোনা ও অন্যান্য খরচ সামাল দেওয়া আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক
অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক (RBA) মুদ্রাবাজারের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। কারণ স্থানীয় মুদ্রার দরপতন অব্যাহত থাকলে আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি পেয়ে মূল্যস্ফীতির চাপ আরো বাড়তে পারে। এ অবস্থায় প্রবাসীদের প্রত্যাশা, বৈশ্বিক অর্থবাজার দ্রুত স্থিতিশীল হবে এবং অস্ট্রেলিয়ান ডলারের মূল্য আবারও শক্তিশালী অবস্থানে ফিরবে।
