মার্কিন সহায়তার ওপর নির্ভরতা কমাতে চান নেতানিয়াহু
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৭:৪৯ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে বিভিন্ন নীতিগত মতপার্থক্যের প্রেক্ষাপটে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, দেশকে ধীরে ধীরে বিদেশি সহায়তার ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে নিজস্ব অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) অধিকৃত পশ্চিম তীরের গুশ এতজিওন বসতি ব্লকে রিজার্ভ কমব্যাট অফিসারদের জন্য আয়োজিত একটি কোর্সে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। নেতানিয়াহু বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা ইসরাইলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও দীর্ঘমেয়াদে নিজস্ব সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।
ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াইনেট’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈঠকে নেতানিয়াহু মার্কিন সমর্থনের প্রশংসা করে বলেন, ইসরাইল তার মার্কিন বন্ধুদের কাছ থেকে পাওয়া সহযোগিতার মূল্যায়ন করে। তবে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশকে স্বাধীন অস্ত্র ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
তিনি আরো বলেন, সামরিক শক্তি বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, আধুনিক উদ্ভাবনের ব্যবহার এবং দক্ষ সামরিক নেতৃত্ব তৈরির মাধ্যমে ইসরাইলকে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যেতে হবে। তার মতে, এসব ক্ষেত্রেই ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ও সক্ষমতার ভিত্তি নিহিত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া একটি সমঝোতা স্মারক এবং এর সম্ভাব্য আঞ্চলিক প্রভাব নিয়ে ইসরাইলের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা অঙ্গনে চলমান বিতর্কের মধ্যেই নেতানিয়াহুর এ বক্তব্য সামনে এলো। বিশেষ করে লেবানন সীমান্তে সংঘাত অবসানের প্রশ্নে এ চুক্তি নিয়ে ইসরাইলের ভেতরে মতভেদ তৈরি হয়েছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে ইসরাইলি সরকারের কিছু সদস্যের প্রকাশ্য মতবিরোধও আলোচনায় আসে। ভ্যান্স সমালোচকদের উদ্দেশে বলেন, তিনি যদি ইসরাইলি মন্ত্রিসভার সদস্য হতেন, তাহলে বিশ্বের একমাত্র শক্তিশালী মিত্রের বিরুদ্ধে এভাবে অবস্থান নিতেন না।
তিনি আরো উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক তিন মাসে ইসরাইলের প্রতিরক্ষায় ব্যবহৃত প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ রক্ষণাত্মক অস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় সরবরাহ করা হয়েছে এবং এর ব্যয় বহন করেছেন মার্কিন করদাতারা। তার ভাষায়, ইসরাইলের বর্তমান সমস্যার উৎস ডোনাল্ড ট্রাম্প নন; যারা এমনটি মনে করেন, তারা বাস্তবতা যথাযথভাবে মূল্যায়ন করছেন না।
উল্লেখ্য, গত ১৪ জুন পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র ১৪ দফার একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর ঘোষণা দেয়। ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা’ নামে পরিচিত এ উদ্যোগের লক্ষ্য ছিল আলোচনার মাধ্যমে চলমান বিরোধ নিরসন এবং সংঘাত কমানো। পরবর্তীতে ১৮ জুন এটি কার্যকর হয় এবং এতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ইলেকট্রনিকভাবে স্বাক্ষর করেন।
চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধের উদ্যোগ, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়টি।
