‘আসল তৃণমূল’ দাবিতে নতুন কমিটি, প্রতীক নিয়ে টানাপোড়েন
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ০৬:০৮ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে বড় ধরনের পরাজয়ের পর নতুন সংকটে পড়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস। দলটির অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও বিভক্তির জেরে দীর্ঘদিনের পরিচিত দলীয় প্রতীক ‘জোড়া ঘাসফুল’-এর নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
দলীয় সূত্র ও ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে জানা যায়, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূলের একাংশ সম্প্রতি একটি বিশেষ অধিবেশন আয়োজন করে। সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চেয়ারপার্সনের পদ এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে অপসারণের ঘোষণা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সাবেক মন্ত্রী অরূপ রায়কে চেয়ারম্যান এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়সহ চারজনকে সাধারণ সম্পাদক করে ৩০ সদস্যের একটি পৃথক ‘জাতীয় ওয়ার্কিং কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। বিদ্রোহী শিবির নিজেদেরই তৃণমূল কংগ্রেসের প্রকৃত নেতৃত্ব দাবি করছে। আনন্দবাজার, এনডিটিভির
ঋতব্রতপন্থীদের অভিযোগ, দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি তিন বছর অন্তর জাতীয় ওয়ার্কিং কমিটি পুনর্গঠনের কথা থাকলেও ২০২২ সালের পর তা করা হয়নি। তাদের মতে, এ কারণে সাংগঠনিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ ও দলবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ এনে অরূপ রায়, ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, জাভেদ খান, রথীন ঘোষ, বিপ্লব মিত্র, সাবিনা ইয়াসমিন ও স্নেহাশিস চক্রবর্তীসহ আটজন শীর্ষ নেতা ও বিধায়ককে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস (কালীঘাট তৃণমূল) থেকে বহিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
ইতোমধ্যে মমতা ও ঋতব্রত- উভয় পক্ষই ভারতের নির্বাচন কমিশনের কাছে পৃথকভাবে নিজেদের কমিটিকে বৈধ দাবি করে চিঠি পাঠিয়েছে। ফলে দলীয় স্বীকৃতি ও প্রতীকের মালিকানা নিয়ে আইনি ও রাজনৈতিক লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন কমিশন যদি বিদ্রোহী শিবিরকে দলটির বৈধ নেতৃত্ব হিসেবে স্বীকৃতি দেয়, তাহলে তৃণমূল কংগ্রেসের নিবন্ধন এবং ‘জোড়া ঘাসফুল’ প্রতীকের নিয়ন্ত্রণও তাদের হাতে চলে যেতে পারে। তবে ঋতব্রতপন্থীদের দাবি, তারা নতুন কোনো প্রতীক চাইছেন না; কারণ তারাই প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেস।
উল্লেখ্য, ১৯৯৮ সালে কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা করেন। পরে ভারতের নির্বাচন কমিশন ‘জোড়া ঘাসফুল’ প্রতীককে দলটির আনুষ্ঠানিক প্রতীক হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। দুটি ঘাস ও একটি ফুলের সমন্বয়ে গঠিত এই প্রতীকটি দলটির ‘মা-মাটি-মানুষ’ দর্শনের প্রতীক হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
এই প্রতীক নিয়েই তৃণমূল কংগ্রেস ২০০১ ও ২০০৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে অংশ নেয় এবং ২০১১ সালে ৩৪ বছরের বামফ্রন্ট শাসনের অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় আসে।
তবে সাম্প্রতিক নির্বাচনী বিপর্যয় এবং দলীয় বিভক্তির প্রেক্ষাপটে এখন সেই ঐতিহ্যবাহী প্রতীকের ভবিষ্যৎও অনিশ্চয়তার মুখে। শেষ পর্যন্ত ‘জোড়া ঘাসফুল’-এর নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নির্ভর করছে ভারতের নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের ওপর।
