ইন্দোনেশিয়ায় মার্কিন পাইলটকে হত্যা, বিমানে আগুন
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ১১:২০ এএম
ছবি: সংগৃহীত
ইন্দোনেশিয়ার পাপুয়ায় এক মার্কিন পাইলটকে গুলি করে হত্যা ও তার বিমানে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী 'ওয়েস্ট পাপুয়া ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি' (টিপিএনপিবি) ইতিমধ্যে এই নৃশংস হামলার দায় স্বীকার করেছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) হাইল্যান্ড পাপুয়া প্রদেশে অবতরণের পর তারা ওই মার্কিন পাইলটকে হত্যা করেছে।
গোষ্ঠীটির মুখপাত্র সেবি সামবোম বলেন, ‘ওই মার্কিন পাইলটের নাম নিকোলাস এফ গোসেলিন।’
হাইল্যান্ড পাপুয়া প্রদেশের ইয়াহুকিমো অঞ্চলে অবতরণের পর বিচ্ছিন্নতাবাদীরা তার বিমানটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়।
তাদের অভিযোগ, বেসামরিক পাইলটরা ইন্দোনেশিয়ার সেনাদের ওই অঞ্চলে নিয়ে আসছিলেন।
গোষ্ঠীটি বলেছে, গোসেলিনকে হত্যার মাধ্যমে তারা একটি বার্তা দিয়েছে। সম্পদসমৃদ্ধ এই অঞ্চলের স্বাধীনতার দাবিতে ইন্দোনেশীয় সরকার এবং পশ্চিম পাপুয়ার আদিবাসীদের মধ্যে বছরের পর বছর ধরে চলমান সংঘাতের মধ্যে এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটল।
ইন্দোনেশিয়ার কর্মকর্তারাও নিশ্চিত করেছেন, পাইলটের বিমানটি আগুনে পুড়ে যাওয়া অবস্থায় পাওয়া গেছে। তারা জানান, মার্কিন পাইলট পরিচালিত সাত যাত্রীবাহী একটি বিমান ইয়াহুকিমো অঞ্চলের একটি বিমানবন্দরে পুড়ে যাওয়া অবস্থায় পাওয়া যায়।
দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিমানটি অবতরণের আগে কোনো নিরাপত্তা উদ্বেগের তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে অবতরণের পরপরই বিমানটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বিমানটি যে বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করেছিল, সেখানকার পরিচালকের প্রাথমিক প্রতিবেদনে পাইলটের মৃত্যুর কথা উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল অধিদপ্তর।
এ বিষয়ে টিপিএনপিবির মুখপাত্র জানান, ইন্দোনেশিয়ার সামরিক কার্যক্রমে সহায়তার জন্য বেসামরিক বিমান ব্যবহার করা হচ্ছে বলে তারা বিরোধপূর্ণ পুরো অঞ্চলে সব ধরনের বিমান চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
তিনি বলেন, ‘টিপিএনপিবির নির্দেশনা অমান্য করায় আমরা বিমানটিতে গুলি চালিয়েছি এবং আগুন ধরিয়ে দিয়েছি। পাপুয়ার আকাশে যে কোনো বেসামরিক বিমান যদি ইন্দোনেশিয়ার সেনাবাহিনীর সদস্য বা সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনে সহায়তা করে, তাহলে আমরা সেগুলোর ওপর গুলি চালাতে প্রস্তুত।’ তিনি আও বলেন, ‘ইন্দোনেশিয়ার কর্মকর্তারা যদি পাইলটের মরদেহ নিতে চান, তবে তাদের সামরিক বা পুলিশ সদস্য ছাড়া এলাকায় আসতে হবে।’
একই সঙ্গে তিনি সংঘাত নিরসনে ইন্দোনেশিয়া সরকারকে আলোচনায় বসার আহ্বান জানান। ১৯৬৯ সালে পাপুয়া ইন্দোনেশিয়ার অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর থেকেই এ সংঘাত শুরু হয়। বিদ্রোহীদের দাবি, এ সংঘাতে বহু বেসামরিক মানুষ নিহত এবং ব্যাপক জনগোষ্ঠী বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এর আগে ২০২৪ সালে একই সংগঠনের হাতে ১৯ মাস বন্দি থাকার পর দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে নিউজিল্যান্ডের এক পাইলটকে মুক্ত করা হয়।
সূত্র: বিবিসি ও গার্ডিয়ান
