‘আন্দোলনের প্রথম দিনই পদত্যাগে প্রস্তুত ছিলেন ধর্মেন্দ্র’
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৬:৩৪ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ভারতে নিট-ইউজি প্রশ্ন ফাঁস ও পরীক্ষা-সংক্রান্ত অনিয়মকে কেন্দ্র করে চলা আন্দোলনের পর কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ নিয়ে নতুন তথ্য সামনে এনেছেন মধ্যপ্রদেশ সরকারের মন্ত্রী কৈলাস বিজয়বর্গীয়। তার দাবি, ছাত্রদের আন্দোলন শুরুর প্রথম দিনেই পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান।
শনিবার (২৫ জুলাই) ইন্দোরে সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিজেপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলন শুরু হওয়ার পরপরই ধর্মেন্দ্র প্রধান দলের সভাপতির সঙ্গে যোগাযোগ করে জানান, দল প্রয়োজন মনে করলে তিনি অবিলম্বে শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব ছাড়তে প্রস্তুত আছেন। এ তথ্য জানিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।
বিজয়বর্গীয় জানান, সে সময় দলের সভাপতি তাকে পদত্যাগ না করার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, তখনও এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি এবং বিষয়টি নিয়ে আর এগোতে নিষেধ করা হয়েছিল। পরে পরিস্থিতি বিবেচনা করে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব যখন পদত্যাগকে প্রয়োজনীয় মনে করে, তখন ধর্মেন্দ্র প্রধান স্বেচ্ছায় পদ ছাড়েন।
সাবেক শিক্ষামন্ত্রীর প্রশংসা করে বিজয়বর্গীয় বলেন, ধর্মেন্দ্র প্রধান সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে তার ওপর অর্পিত প্রতিটি দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি আরও দাবি করেন, এই পদত্যাগ একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পদক্ষেপ ছিল, যার মাধ্যমে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মতো দেশের অভ্যন্তরীণ সহিংসতার আদলে ভারতে অস্থিরতা তৈরির কথিত বিদেশি ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য, যারা সহিংসতার মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চেয়েছিল, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ সেই অপচেষ্টা নস্যাৎ করেছে।
এদিকে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর নিট-ইউজি ২০২৬ প্রশ্ন ফাঁস বিতর্ককে কেন্দ্র করে টানা ৩৬ দিন ধরে চলা আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা।
নৈতিক দায় স্বীকার করে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর প্রবীণ বিজেপি নেতা প্রহ্লাদ জোশীকে কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে কনজ্যুমার অ্যাফেয়ার্স, ফুড অ্যান্ড পাবলিক ডিস্ট্রিবিউশন এবং নতুন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা প্রহ্লাদ জোশী এখন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও পালন করবেন।
নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি বলেন, অত্যন্ত বিনয় ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে তিনি এ দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, গত চার থেকে পাঁচ বছরে ধর্মেন্দ্র প্রধান জাতীয় শিক্ষানীতি ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা অনুসরণ করে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানোর কথাও জানান তিনি।
