×

আন্তর্জাতিক

চীন থেকে ৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র পাচ্ছে ইরান

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৫:১২ পিএম

চীন থেকে ৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র পাচ্ছে ইরান

ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। এর অংশ হিসেবে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে চীনে তৈরি কাঁধে বহনযোগ্য আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা (ম্যানপ্যাডস)-এর প্রথম চালান হাতে পেতে যাচ্ছে দেশটি। চুক্তি-সংশ্লিষ্ট তিনটি সূত্রের বরাত দিয়ে মঙ্গলবার এমন তথ্য প্রকাশ করেছে রয়টার্স।

সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ৬০ থেকে ৭০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর ইরানের স্বল্প-পাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা শক্তি বাড়ানোর অন্যতম বড় পদক্ষেপ। সংঘাতের সময় সামরিক ঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় বিদ্যমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট হয়ে ওঠার পরই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

চুক্তির আওতায় ৩০০ থেকে ৪০০টি ম্যানপ্যাডস কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে চীনে তৈরি কিউডব্লিউ-১২ এবং এফএন-১৬ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।

তাদের দাবি, হংকংভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ঝংকিং বাওশাং ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্টের সঙ্গে এ চুক্তি হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ইরান ও চীনা সরবরাহকারীদের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। বিষয়টির সংবেদনশীলতার কারণে সূত্রগুলো নাম প্রকাশ না করার শর্তে তথ্য দিয়েছে। এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধের পরও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

অন্যদিকে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রয়টার্সকে জানিয়েছে, এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’। তাদের ভাষ্য, সংঘাত নিরসন ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় চীন ধারাবাহিকভাবে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে আসছে। একই বিষয়ে ঝংকিং বাওশাং ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্টের মূল প্রতিষ্ঠান বেইজিংভিত্তিক ঝং কুইং বাও শাং গ্রুপের কাছেও ই-মেইলে মন্তব্য চাওয়া হলেও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং আকাশ প্রতিরক্ষা কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালায়। জবাবে ইরানও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা পরিচালনা করে। এই সংঘাতে উন্নত যুদ্ধবিমান ও নির্ভুল লক্ষ্যভেদী অস্ত্রের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষা যে কতটা কঠিন, তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র টানা দুই সপ্তাহের বোমাবর্ষণ হঠাৎ স্থগিত করে। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আলোচনার মাধ্যমে পাঁচ মাসের সংঘাতের অবসান না হলে হামলা আবার শুরু হতে পারে। যদিও গত এপ্রিল থেকে তাত্ত্বিকভাবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে।

সূত্রগুলোর মতে, শত শত ম্যানপ্যাডস সরবরাহ করা হলে ইরানের স্বল্প-পাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। একই সঙ্গে এটি চীন ও ইরানের সামরিক সম্পর্ক আরও গভীর হওয়ার ইঙ্গিত বহন করে। তবে সরবরাহের সময়সূচি, অস্ত্রের সংখ্যা এবং বাস্তবায়নের অন্যান্য বিষয় পরিবর্তিত হতে পারে বলেও তারা সতর্ক করেছে।

তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথম চালান পশ্চিম চীনের উরুমকি থেকে আকাশপথে পাঠানো হবে। এরপর পাকিস্তান হয়ে তা ইরানে পৌঁছাবে। তবে পাকিস্তান থেকে ইরানে অস্ত্রগুলো আকাশপথে নাকি সড়কপথে নেওয়া হবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর জনসংযোগ বিভাগ (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে বলেছে, চীন থেকে ইরানে আকাশ প্রতিরক্ষা অস্ত্র সরবরাহে পাকিস্তান জড়িত-এমন দাবি ‘সম্পূর্ণ মনগড়া ও মিথ্যা’। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এ বিষয়ে মন্তব্য করেনি।

সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, গত দুই দশকে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও রাডার প্রযুক্তিতে ব্যাপক বিনিয়োগ করলেও কাঁধে বহনযোগ্য আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এসব অস্ত্র দ্রুত মোতায়েন করা যায়, অল্পসংখ্যক সদস্য দিয়ে পরিচালনা সম্ভব এবং সহজেই স্থান পরিবর্তন করা যায়। ফলে স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার তুলনায় এগুলো ধ্বংস করা কঠিন।

এক ইউরোপীয় নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, কিউডব্লিউ সিরিজের ম্যানপ্যাডস ইরানের কাছে বিক্রির জন্য আলোচনাধীন একাধিক চুক্তির বিষয়ে তাদের দেশের কর্তৃপক্ষ অবগত। এসবের মধ্যে কিউডব্লিউ-১২, কিউডব্লিউ-১৮ এবং কিউডব্লিউ-১৯ মডেল রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক আরেক নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, ইরান কিউডব্লিউ-১২ ও কিউডব্লিউ-১৮ কেনার চেষ্টা করছিল, তবে চুক্তি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে—এ তথ্য তাদের জানা ছিল না।

কিউডব্লিউ-১২ ও এফএন-১৬ হলো কাঁধে বহনযোগ্য, ইনফ্রারেড-নির্দেশিত ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা। এগুলো নিচু দিয়ে উড়ে যাওয়া যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার এবং ড্রোন ভূপাতিত করার জন্য তৈরি। সহজে বহনযোগ্য হওয়ায় সামরিক ঘাঁটি, জ্বালানি অবকাঠামো এবং অন্যান্য সংবেদনশীল স্থাপনার নিরাপত্তায় দ্রুত মোতায়েন করা সম্ভব।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, কিউডব্লিউ-১২ নতুন কিউডব্লিউ-১৮ ও কিউডব্লিউ-১৯-এর তুলনায় কম সক্ষম হলেও ড্রোন এবং নিচু দিয়ে উড়ে যাওয়া লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে কার্যকর স্বল্প-পাল্লার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করতে পারে।

পশ্চিমা গোয়েন্দা সূত্র দুটি ও একজন ইরানি কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, চীন থেকে সামরিক সরঞ্জাম ও ডুয়াল-ইউজ উপাদান আমদানির ক্ষেত্রে নজরদারি ও বাধার ঝুঁকি এড়াতে স্থলপথ ব্যবহারের সম্ভাবনাও বিবেচনা করেছে তেহরান। একই সঙ্গে এই চুক্তি ইঙ্গিত দেয়, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও আমদানি নিয়ন্ত্রণের মধ্যেও দেশীয় উৎপাদনের পাশাপাশি বিদেশি অস্ত্র সরবরাহকারীদের ওপর নির্ভরতা বজায় রেখেছে ইরান।

এর আগে রয়টার্সের আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, চীনের কাছ থেকে জাহাজবিধ্বংসী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র কেনার বিষয়ে ইরান পৃথক একটি চুক্তির চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছিল। তবে সেই চুক্তি শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে হবিগঞ্জের পথে এনসিপির গাড়িবহর

পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে হবিগঞ্জের পথে এনসিপির গাড়িবহর

হাসপাতালে দালাল চক্রের অপতৎপরতা স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে

স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতালে দালাল চক্রের অপতৎপরতা স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে

জাতীয় দলে খেলা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিলেন নেইমার

জাতীয় দলে খেলা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিলেন নেইমার

১৭ বছরের সংগ্রামের ফলই জুলাই গণঅভ্যুত্থান: রিজভী

১৭ বছরের সংগ্রামের ফলই জুলাই গণঅভ্যুত্থান: রিজভী

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App