×

জাতীয়

স্বাস্থ্যমন্ত্রী

হাসপাতালে দালাল চক্রের অপতৎপরতা স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫৮ পিএম

হাসপাতালে দালাল চক্রের অপতৎপরতা স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে

ছবি : সংগৃহীত

সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগীদের বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়ার সঙ্গে জড়িত দালাল চক্রের অপতৎপরতা স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

বুধবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ‘বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার ঘাটতি নিরসন: সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার উপযোগী সেবা নিশ্চিত করতে ব্যয় দক্ষতার একটি দ্রুত প্রতিষ্ঠানভিত্তিক মূল্যায়ন’ শীর্ষক গবেষণার ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। গবেষণাটি যৌথভাবে পরিচালনা করেছে পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেন্ট রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) এবং স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিট।

অনুষ্ঠানে গবেষণার ফলাফল তুলে ধরেন পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের মহাপরিচালক ড. মো. এনামুল হক।

গবেষণাটি দেশের আটটি বিভাগের প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও তৃতীয় পর্যায়ের ২২টি সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানকে অন্তর্ভুক্ত করে পরিচালিত হয়। এতে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়ন, সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত নথিপত্র এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি ৯৫ জন কর্মকর্তার ওপর জরিপ এবং প্রতিষ্ঠানপ্রধান, নীতিনির্ধারক, সরবরাহকারী, শিক্ষাবিদ ও রোগীদের নিয়ে ৩২টি সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জরিপভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর গড় বাজেট বাস্তবায়নের হার ছিল ৮৫ শতাংশ। এর মধ্যে মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানে এ হার ছিল সবচেয়ে কম, ৭৮ শতাংশ। অর্থবছর শেষে ৯৪ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে অব্যয়িত অর্থ থাকলেও মাত্র ১১ শতাংশ প্রতিষ্ঠান আর্থিক অব্যবস্থাপনাকে উদ্বেগের বিষয় হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের প্রসঙ্গ তুলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দিতে অনেক সময় এমন অবাস্তব শর্ত দেওয়া হয়, যা খুব কম প্রতিষ্ঠানই পূরণ করতে পারে। এর ফলে প্রতিযোগিতা বাধাগ্রস্ত হয় এবং সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার ব্যাহত হয়।

তিনি স্বাস্থ্য খাতে অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা ও অর্থ অপচয়ের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, অতীতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ছাড়াই ব্যয়বহুল রেডিওথেরাপি মেশিন, এক্স-রে ও অন্যান্য চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনা হয়েছিল। ফলে অনেক যন্ত্রপাতি ব্যবহার না হয়ে পড়ে রয়েছে।

টেস্ট বাণিজ্য বন্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকারি হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করে পাশের বেসরকারি ক্লিনিকে রোগী পাঠানো, কমিশনের ভিত্তিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো কিংবা ব্যক্তিগত লাভের জন্য চিকিৎসাসেবা প্রভাবিত করার সুযোগ আর থাকবে না। এসব কার্যক্রম নিয়মিত নজরদারির আওতায় আনা হবে।

বিগত সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, গত চার বছরে হাম প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় টিকা সংগ্রহ করা হয়নি এবং ২০২০ সালের ডিসেম্বরের পর কোনো টিকাদান অভিযান পরিচালিত হয়নি। দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকার নতুন করে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করেছে। বর্তমানে হামে আক্রান্ত শিশুদের ৯৯ শতাংশই টিকা না পাওয়া শিশু বলে জানান তিনি। ইতোমধ্যে আরও এক লাখের বেশি শিশুকে টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে।

মন্ত্রী আরও জানান, একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ডায়ালাইসিস সেবার চুক্তির মেয়াদ নভেম্বরে শেষ হলে তা আর নবায়ন করা হবে না। সরকার নিজস্ব উদ্যোগে ডায়ালাইসিস মেশিন সংগ্রহ করবে। এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি কম খরচে সাধারণ মানুষ ডায়ালাইসিস সেবা পাবেন। প্রতিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০ শয্যার এবং প্রতিটি জেলা হাসপাতালে ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস কেন্দ্র চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

জনস্বাস্থ্যসেবায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগের কথা তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, পরীক্ষামূলকভাবে দেশের ১০টি উপজেলা ও ৯০টি ওয়ার্ডে স্বাস্থ্যকর্মীদের সাইকেল, স্মার্টফোন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সমৃদ্ধ কিট বক্স দেওয়া হবে। আগামী তিন মাসের মধ্যে এ কার্যক্রম শুরু হবে। স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে উচ্চতা, ওজন, রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, রক্তের বিভিন্ন পরীক্ষা এবং অন্যান্য প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করবেন।

মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কঠোর বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, অডিটের নামে কোনো ধরনের ঘুষ দেওয়া যাবে না। কেউ অনৈতিকভাবে অর্থ দাবি করলে সংশ্লিষ্টদের সরাসরি মন্ত্রণালয়কে জানাতে আহ্বান জানান তিনি।

এ ছাড়া অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অপারেশন কমিয়ে স্বাভাবিক প্রসবের হার বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রসূতি ও তাদের পরিবারের মধ্যে ভয় তৈরি করে অপ্রয়োজনীয় সিজার করানোর প্রবণতা রোধে সারাদেশে বেসরকারি ক্লিনিকে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সিভিল সার্জন ও জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের সমন্বয়ে পরিচালিত অভিযানে প্রয়োজনীয় মানদণ্ড পূরণ না করা বেশ কয়েকটি ক্লিনিক ইতোমধ্যে বন্ধ করা হয়েছে এবং এ অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক দিল আফরোজাসহ স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সড়কে বসে পড়লেন এনসিপির নেতারা

সড়কে বসে পড়লেন এনসিপির নেতারা

রাকসু ভিপির বক্তব্যে আরটিজেএর উদ্বেগ ও নিন্দা

বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি রাকসু ভিপির বক্তব্যে আরটিজেএর উদ্বেগ ও নিন্দা

বাকস্বাধীনতার নামে যা খুশি বলা যাবে না

সমাজকল্যাণমন্ত্রী বাকস্বাধীনতার নামে যা খুশি বলা যাবে না

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে অধীর আগ্রহে ভারত

ভারতীয় হাইকমিশনার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে অধীর আগ্রহে ভারত

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App