×

জাতীয়

মাদকের গডফাদার বিএনপির হলেও ধরতে যেন হাত না কাঁপে: আইনমন্ত্রী

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:০৯ পিএম

মাদকের গডফাদার বিএনপির হলেও ধরতে যেন হাত না কাঁপে: আইনমন্ত্রী

ছবি : সংগৃহীত

মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দলীয় পরিচয় বিবেচনা না করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, মাদক ব্যবসার সঙ্গে সরকারদলীয় কিংবা বিরোধী দলের কোনো নেতা জড়িত থাকলেও তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়নবিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

আইনমন্ত্রী বলেন, মাদক কারবারি বা গডফাদার হিসেবে কোনো রাজনৈতিক নেতার সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দ্বিধা করা যাবে না। এমনকি তিনি যে দল থেকে নির্বাচিত হয়েছেন, সেই বিএনপির কোনো প্রভাবশালী নেতা মাদক কারবারে কাউকে পৃষ্ঠপোষকতা করলে তাঁর বিরুদ্ধেও জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করতে হবে।

তিনি বলেন, কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে। ব্যক্তি যত প্রভাবশালীই হোন, আইনের ক্ষেত্রে কোনো পক্ষপাত করা যাবে না।

নিজ এলাকার একটি ঘটনার উদাহরণ দিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, গত সপ্তাহে তাঁর একটি ইউনিয়নের বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে মাদক সেবন ও কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগ আসে। পুলিশ বিষয়টি তাঁকে জানালে তিনি ওই নেতাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন। তাঁর বক্তব্য, রাজনৈতিক পরিচয় না থাকলে যেভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হতো, দলীয় পরিচয় থাকলেও একইভাবে আইন প্রয়োগ করতে হবে।

আইনমন্ত্রী জানান, গ্রেপ্তারের পর ওই নেতার মাদক সেবনের পরীক্ষার ফল পজিটিভ আসে এবং দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ায় তাঁকে এক বছরের সাজা দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, ওই ব্যক্তি তাঁর নির্বাচনে অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে কাজ করেছিলেন। কিন্তু একজন রাজনৈতিক কর্মীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো নৈতিকভাবে স্বচ্ছ থাকা। জনগণের কাছে গিয়ে কেউ মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলবেন, অথচ নিজেই মাদকমুক্ত নন -এটি গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, কোনো অভিযোগকে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আইনের হাতে তুলে দিতে হবে এবং পরবর্তী প্রক্রিয়া আইন অনুযায়ী চলবে। আদালত কাউকে জামিন দিলে সেটি তাঁর আইনগত অধিকার। তবে জামিনের পর পুলিশ তাকে এমনভাবে চলাফেরা করতে দিতে পারে না, যাতে তার বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ থাকলেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মানুষের মধ্যে ভীতি তৈরি হয়।

মাদকের সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মাদক কারবারের সঙ্গে যে-ই জড়িত থাকুক, সবার ক্ষেত্রেই জিরো টলারেন্স দেখাতে হবে। ব্যক্তি যত বড় রাজনৈতিক নেতা হোন, মাদকবিরোধী অভিযানে পরিচয় বিবেচনা করা হবে না।

বাগেরহাটে মাদক কারবারিদের কর্মকাণ্ডের কারণে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি মানুষের বিরূপ ধারণা তৈরি হোক, সেটি সরকার বা রাজনৈতিক দল হিসেবে তাঁরা চান না বলেও মন্তব্য করেন আইনমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বাগেরহাট জেলায় যদি ১০ জন মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকে এবং ধরে নেওয়া হয় তারা সবাই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত, তাহলে ওই ১০ জনের কর্মকাণ্ডের দায় পুরো দলের ওপর গিয়ে পড়তে পারে। এতে জেলার হাজারো মানুষের মধ্যে বিএনপির প্রতি বিরূপ ধারণা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ ধরনের ঝুঁকি তাঁরা নিতে চান না। মাদক কারবারের পেছনে কোনো রাজনৈতিক নেতা থাকলে তাঁদেরও সতর্ক করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

জামিন প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, কাউকে জামিন দেওয়া বা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত আদালতের বিষয়। তবে ন্যায়বিচারকে প্রভাবিত করে জামিন নেওয়া বা দেওয়ার চেষ্টা কিংবা জামিন ঠেকানোর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

সভায় গত ১৭ বছরে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগও তুলে ধরেন আইনমন্ত্রী। তাঁর দাবি, ওই সময়ে অনেক মানুষকে ধরে নিয়ে বিনা বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং এসব ঘটনাকে ‘ক্রসফায়ার’ হিসেবে দেখানো হয়েছে।

তিনি আরও দাবি করেন, ওই সময়ে চার হাজারের বেশি বিএনপি নেতাকর্মী গুম ও ক্রসফায়ারের শিকার হয়েছেন। পাশাপাশি ১৬ থেকে ১৭ বছরে প্রায় ৭০০ বিএনপি নেতাকর্মী গুম হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

এ ছাড়া বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিপুলসংখ্যক ‘মিথ্যা’ ও ‘গায়েবি’ মামলা করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন আইনমন্ত্রী।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সীমান্তে বিপুল ভারতীয় পণ্য আটক করল বিজিবি

সীমান্তে বিপুল ভারতীয় পণ্য আটক করল বিজিবি

এবার সরিয়ে দেওয়া হলো গুলশান বিভাগের ডিসিকে

এবার সরিয়ে দেওয়া হলো গুলশান বিভাগের ডিসিকে

​সিলেটে হামের উপসর্গে আরো ৩ শিশুর মৃত্যু

​সিলেটে হামের উপসর্গে আরো ৩ শিশুর মৃত্যু

ঘরে ঢুকে গৃহবধূর চোখ উপড়ে নেওয়ার চেষ্টা, আহত ৫

ঘরে ঢুকে গৃহবধূর চোখ উপড়ে নেওয়ার চেষ্টা, আহত ৫

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App