ইয়েমেন উপকূলে গোলার আঘাতে ডুবলো ভারতীয় জাহাজ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০১:৫০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ইয়েমেনের উপকূলবর্তী সাগর এলাকায় গোলার আঘাতে ভারতের পতাকাবাহী একটি বাণিজ্যিক জাহাজ ডুবে গেছে। তবে জাহাজে থাকা ১৪ জন নাবিক ও আরোহীকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ভারতের নৌপরিবহনমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল।
জানা যায়, ‘এমএসভি ফাইজ নূরে আউলিয়া’ নামের জাহাজটিতে মোট ১৪ জন আরোহী ছিলেন, যার মধ্যে ১৩ জন ভারতীয় নাগরিক। ঘটনাটিকে ‘উসকানিমূলক হামলা’ হিসেবে উল্লেখ করে ভারতের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ওই অঞ্চলে নাবিকদের নিরাপত্তা জোরদারে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে হামলার জন্য দায়ী ব্যক্তি বা গোষ্ঠী সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
লোহিত সাগরে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজে সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিক হামলার ঘটনাগুলোর মধ্যে এটি সর্বশেষ। হরমুজ প্রণালিতে চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ার পর অনেক তেলবাহী জাহাজ বিকল্প নৌপথ হিসেবে লোহিত সাগরের রুট ব্যবহার করছে।
এ ঘটনার পর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি বিবৃতি প্রকাশ করে বলেন, ‘এ অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজকে নিশানা করা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। আন্তর্জাতিক আইন মেনে এই অঞ্চলের আন্তর্জাতিক জলসীমায় অবাধ ও নির্বিঘ্ন জাহাজ চলাচল এবং বাণিজ্য যত দ্রুত সম্ভব পুনরুজ্জীবিত করা জরুরি।’
আরো পড়ুন: শেখ হাসিনার পতন: আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে যেভাবে উঠে এসেছিল ঘটনাপ্রবাহ
সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনভিত্তিক ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলার কারণে সৌদি আরবের তেলবাহী ট্যাংকারগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির পর অঞ্চলটির নৌ চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়। একই সময়ে হরমুজ প্রণালিতে চলাচলে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ও দামে প্রভাব পড়ে। এর ফলে সৌদি আরব থেকে তেল পরিবহনের কাজে নিয়োজিত কিছু জাহাজ বিকল্প রুট হিসেবে লোহিত সাগরের পথ ব্যবহার শুরু করে।
তবে লোহিত সাগরেও সাম্প্রতিক হামলার ঘটনা বাড়তে থাকায় ওই রুটের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সৌদি তেলবাহী ট্যাংকারকে লক্ষ্য করে হুতি বিদ্রোহীদের একের পর এক হামলা এ অঞ্চলে নৌবাণিজ্যের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এবং সৌদি আরব–সমর্থিত ইয়েমেনের পরিবহন মন্ত্রণালয় এ হামলার জন্য হুতিদের দায়ী করেছে। তাদের দাবি, বিস্ফোরকবোঝাই একটি নৌযানের সাহায্যে এ হামলা চালানো হয়েছে। তবে হুতিদের পক্ষ থেকে এ ঘটনার বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি।’
ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ‘তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা করছে না এবং এমন কোনো পরিকল্পনাও তাদের নেই। ওমানের মধ্যস্থতায় তারা মূলত আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।’
গত ২০ জুলাই ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী লোহিত সাগর উপকূলে সৌদি আরবের বন্দরগুলোকে লক্ষ্য করে অবরোধ আরোপের ঘোষণা দেয়। এরপর থেকেই ওই অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়তে থাকে।
যুক্তরাজ্যের ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (UKMTO) জানিয়েছে, গত সপ্তাহে লোহিত সাগর ও আশপাশের সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে একাধিক হামলার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এসব ঘটনার পর আন্তর্জাতিক নৌপরিবহনে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে নিরাপত্তা উদ্বেগের মধ্যেও মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম প্রায় তিন সপ্তাহের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতার আশাবাদ বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়িয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে তেলের দামে।
আরো পড়ুন: ট্রাম্পের সফরের আগে গলফ কোর্স এলাকায় অস্ত্রধারী আটক
এর আগে গত জুনে সামরিক উত্তেজনা কমানো, হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল স্বাভাবিক করা এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংঘাত নিরসনের লক্ষ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলা এবং পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপের কারণে সেই সমঝোতা কার্যকর হয়নি।
মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, কূটনৈতিক আলোচনা এখনো ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে। দেশটির অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও ইঙ্গিত দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়ে শিগগিরই একটি সমঝোতায় পৌঁছানো যেতে পারে। তবে ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি কোনো আলোচনা করছে না। তেহরানের দাবি, আঞ্চলিক উত্তেজনা নিরসনে ওমানের মধ্যস্থতায় কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
