রুশ জাহাজ জব্দের চেষ্টা হলে পাল্টা ব্যবস্থা: পুতিন
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬, ১১:৪০ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেশগুলো রাশিয়ার বাণিজ্যিক জাহাজ জব্দ করা শুরু করলে মস্কোও একই ধরনের পাল্টা পদক্ষেপ নেবে বলে সতর্ক করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
বুধবার রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসের এক প্রতিবেদনে পুতিনের এই বক্তব্য তুলে ধরা হয়।
পুতিনের হুঁশিয়ারির পর রাশিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরের কমান্ডার ভিক্টর লিনা জানিয়েছেন, বিদেশি জাহাজ পরিদর্শন ও আটক করার জন্য তাদের বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।
আরও পড়ুন: শিশুর সিটবেল্টে আপত্তি, বাতিল পুরো ফ্লাইট
ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার কথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা ছায়া নৌবহরের ওপর চাপ বাড়িয়ে চলেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এরই মধ্যে শত শত জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি বেশ কিছু বাণিজ্যিক জাহাজ ও নাবিককে তল্লাশির জন্য আটক করেছে ইইউভুক্ত দেশগুলো।
আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর অভিযোগে এসব জাহাজের বিরুদ্ধে সমুদ্রে আরও কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পথ খুঁজছে ইউরোপের কয়েকটি দেশ।
ইউরোপীয় দেশগুলোর সম্ভাব্য এমন পদক্ষেপের সমালোচনা করে পুতিন বলেন, কিছু দেশের কর্তৃপক্ষ আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন লঙ্ঘন করে রাশিয়ার অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে। এমনকি রুশ জাহাজ আটক করে সেগুলো থেকে জব্দ করা সম্পদ বিক্রির চিন্তাও করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আরও পড়ুন: চীনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ঝু রংজি মারা গেছেন
পুতিনের ভাষায়, এ ধরনের কর্মকাণ্ড ‘জলদস্যুতা ও ডাকাতি’ ছাড়া আর কিছু নয়। এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে রাশিয়াও সমপরিমাণ পাল্টা ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে বলে জানান তিনি।
রুশ প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, রাশিয়ার পাল্টা পদক্ষেপ শুধু যে জলসীমায় কোনো জাহাজ আটক করা হবে, সেখানেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। প্রয়োজন ও উপযুক্ত মনে হলে যেকোনো স্থানেই এর জবাব দেওয়া হতে পারে।
রাশিয়ার সুদূর পূর্বাঞ্চলের সাখালিন দ্বীপে সামরিক মহড়া পরিদর্শনের সময় এসব কথা বলেন পুতিন। এ সময় এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে ন্যাটোর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা এবং আর্কটিক অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়ানোরও অভিযোগ করেন তিনি।
আরও পড়ুন : মার্কিন রণতরিতে নৌসদস্যদের সংঘর্ষ, নিহত ৭
পুতিন বলেন, ন্যাটো এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিজেদের প্রভাব বাড়াচ্ছে, নতুন সামরিক-রাজনৈতিক জোট গঠন করছে এবং রাশিয়ার জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে- এমন অস্ত্র ব্যবস্থা মোতায়েন বা মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে।
এদিকে রাশিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরের কমান্ডার ভিক্টর লিনা পুতিনকে জানান, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের মতো ‘শত্রুভাবাপন্ন দেশগুলোও’ সুবিধাজনক পতাকা ব্যবহারকারী জাহাজের মাধ্যমে পণ্য পরিবহন করে। ইইউ ও যুক্তরাজ্যের ব্যবহৃত পরিভাষা অনুযায়ী এসব জাহাজকেও ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর অংশ হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
লিনার দাবি, পশ্চিমা দেশগুলো নিজেদের স্বার্থে তৃতীয় কোনো দেশের পতাকাবাহী জাহাজ ব্যবহার করে পণ্য পরিবহন করছে। তার ভাষায়, এটিও মূলত তাদের ‘ছায়া নৌবহর’।
তিনি আরও বলেন, ‘অবন্ধুসুলভ দেশগুলোর জাহাজ এবং তাদের ছায়া নৌবহরের অন্তর্ভুক্ত জাহাজ পরিদর্শন ও আটক করার সক্ষমতা আমাদের রয়েছে। এ বিষয়ে আন্তঃসংস্থা সমন্বয় সক্রিয় রয়েছে এবং এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমরা প্রস্তুত।’
