শিশুর সিটবেল্টে আপত্তি, বাতিল পুরো ফ্লাইট
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৪১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
উড্ডয়নের সব প্রস্তুতি শেষ। যাত্রীরা নিজ নিজ আসনে বসে ছিলেন। ঠিক তখনই এক শিশুর কারণে বিপাকে পড়ে কানাডার একটি যাত্রীবাহী বিমান। কোনোভাবেই শিশুটিকে সিটে বসানো বা সিটবেল্ট বাঁধানো সম্ভব না হওয়ায় রানওয়ে থেকে বিমানটি টার্মিনালে ফিরিয়ে আনতে বাধ্য হন পাইলট। পরে বাতিল করা হয় পুরো ফ্লাইট।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে গত ৬ আগস্ট কানাডার ভিক্টোরিয়া থেকে টরন্টোগামী পোর্টার এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে। উড্ডয়নের ঠিক আগে শিশুটি নিজের আসনের ওপর দাঁড়িয়ে পড়ে এবং সিটবেল্ট পরতে অস্বীকৃতি জানায়।
আরও পড়ুন: মার্কিন রণতরিতে নৌসদস্যদের সংঘর্ষ, নিহত ৭
বিমানের কেবিন ক্রু ও শিশুটির অভিভাবক তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেও সফল হননি। এ অবস্থায় নিরাপত্তার কারণে বিমান উড্ডয়ন সম্ভব না হওয়ায় পাইলট রানওয়ে থেকে ফিরে টার্মিনালে যান। পরে শিশুটিকে তার পরিবারের সঙ্গে বিমান থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়।
এর ফলে নির্ধারিত সময়ে ফ্লাইটটি আর ছাড়তে পারেনি। শেষ পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ পুরো ফ্লাইট বাতিল করে এবং যাত্রীদের পরদিনের ফ্লাইটে পাঠানোর ব্যবস্থা করে।
পোর্টার এয়ারলাইনস জানায়, শিশুটিকে শান্ত করে সিটে বসানো ও সিটবেল্ট পরানোর জন্য অভিভাবক এবং কেবিন ক্রুরা যথাসাধ্য চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তা সম্ভব না হওয়ায় যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে টার্মিনালে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
শিশুদের বিমান নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞ লিয়া তুসোর মতে, এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বিমান কর্তৃপক্ষ শুধু নিয়মই অনুসরণ করেনি, বরং শিশুসহ বিমানে থাকা অন্য যাত্রীদের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করেছে।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রকে ‘আচরণ’ পরিবর্তনের আহ্বান ইরানের
তিনি বলেন, উড্ডয়ন বা অবতরণের সময় বিমান হঠাৎ ঝাঁকুনিতে পড়লে সিটবেল্ট না বাঁধা শিশু আসন থেকে ছিটকে যেতে পারে। একইভাবে অনিরাপদভাবে রাখা কোনো বস্তু ঝাঁকুনির কারণে যাত্রীদের দিকে ছিটকে গিয়ে বিপদ ঘটাতে পারে।
ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, একটি শিশুর কারণে পুরো ফ্লাইট বাতিল করা কঠোর সিদ্ধান্ত। তাদের মতে, পরিবারটিকে আগেই বিমান থেকে নামিয়ে দেওয়া হলে অন্য যাত্রীদের যাত্রা ব্যাহত হতো না।
অন্যদিকে অনেকে বলছেন, বিমানের নিরাপত্তা বিধি মেনে চলার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। বিশেষ করে উড্ডয়নের সময় শিশুর সিটবেল্ট না থাকা বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
আরও পড়ুন: চীনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ঝু রংজি মারা গেছেন
ফ্লাইটের যাত্রী আরিয়ে কোজুচ জানান, শিশুটি তেমন কোনো হইচই করছিল না। বরং তাকে ভীত মনে হচ্ছিল এবং সে বারবার নিজের আসনের নিচে লুকানোর চেষ্টা করছিল।
শিশুদের আচরণ নিয়ে বিতর্কের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি পুরোনো ঘটনাও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
২০১৮ সালে শিকাগো থেকে আটলান্টাগামী সাউথওয়েস্ট এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট থেকে এক বাবা ও তার মেয়েকে নামিয়ে দেওয়ার ঘটনা আলোচনায় এসেছিল। ঘটনাটি ধারণ করা এক যাত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটি কান্না থামিয়ে শান্ত হওয়ার পর কয়েক মিনিট নিজের আসনে চুপচাপ বসেছিল। এরপরও ক্রুরা তার বাবাকে ফ্লাইট থেকে নামিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান।
সাউথওয়েস্ট এয়ারলাইনস জানিয়েছিল, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ক্রু সদস্য ও শিশুটির অভিভাবকের মধ্যে কথোপকথন একপর্যায়ে বাকবিতণ্ডায় রূপ নেয়।
এরও আগে, ২০১২ সালে একই ধরনের আরেক ঘটনায় একটি পরিবারকে বিমান থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পরে পরিবারটি এনবিসির ‘টুডে শো’-তে উপস্থিত হয়ে বিমান সংস্থাটির বিরুদ্ধে মানবিক আচরণের অভাবের অভিযোগ তোলে।
তবে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থা জেটব্লু জানিয়েছিল, কয়েকজন যাত্রী দীর্ঘ সময় ধরে ক্রু সদস্যদের নির্দেশনা মানছিলেন না। বিমানে থাকা সব যাত্রী ও ক্রু সদস্যের নিরাপত্তা বিবেচনায় ক্যাপ্টেন ওই পরিবারকে বিমান থেকে নামিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
