ভিক্ষুকের ব্যাগে ৫৬ লাখ টাকা নিয়ে যা জানা গেলো
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০৫:০৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
মানুষের সহানুভূতিকে পুঁজি করে জর্ডানের রাজধানী আম্মানের রাজপথে ভিক্ষা করতেন এক নারী। অসহায় সেজে মানুষের কাছে সাহায্য চাইলেও গোপনে তিনি জমিয়েছিলেন বিপুল পরিমাণ অর্থ। শেষ পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়ার পর তল্লাশি চালিয়ে তাঁর কাছ থেকে পাওয়া গেছে ৪৬ হাজার ৬০০ মার্কিন ডলার।
সৌদি আরবভিত্তিক গণমাধ্যম আরব নিউজের এক প্রতিবেদনে বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ বিনিময় হার অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া অর্থের পরিমাণ প্রায় ৫৭ লাখ ৩১ হাজার ৮০০ টাকা।
জর্ডানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা পেত্রার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই নারী আগে থেকেই ‘পেশাদার ভিক্ষাবৃত্তির’ সঙ্গে জড়িত ছিলেন। প্রতিদিন ভিক্ষা করে পাওয়া অর্থ তিনি নিয়মিত বিদেশি মুদ্রায় রূপান্তর করতেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। তবে তাঁর জাতীয়তা কিংবা কতদিন ধরে তিনি এভাবে অর্থ সংগ্রহ করছিলেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
গ্রেপ্তারের পর ওই নারীকে আইনি প্রক্রিয়ার জন্য বিচারিক কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
ঘটনাটি সামনে আসার পর জর্ডানের সমাজ উন্নয়ন মন্ত্রণালয় সাধারণ মানুষকে রাস্তায় ভিক্ষুকদের সরাসরি অর্থ না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। মন্ত্রণালয় সতর্ক করে বলেছে, কিছু ভিক্ষুক অসুস্থতা কিংবা চরম আর্থিক সংকটে থাকার মিথ্যা দাবি করে মানুষের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করতে পারে।
আরও পড়ুন: ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫ রিপার ধ্বংস, ক্ষতি ২২৫ কোটি ডলার
অসহায় মানুষকে সহায়তা করতে চাইলে অনুমোদিত ও নিবন্ধিত দাতব্য সংস্থার মাধ্যমে অর্থ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি সন্দেহজনক ভিক্ষাবৃত্তির ঘটনা কর্তৃপক্ষকে জানাতেও জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
জর্ডানের সমাজ উন্নয়ন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশজুড়ে ভিক্ষাবৃত্তি নিয়ন্ত্রণে পরিদর্শন দলগুলো নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে।
এদিকে জর্ডান টাইমসের ২০২৫ সালের মার্চের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটিতে ভিক্ষাবৃত্তিকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। জর্ডানের দণ্ডবিধির ৩৮৯ ধারায় জনসমক্ষে ভিক্ষা চাওয়া বা অর্থ-সহায়তা সংগ্রহকে অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২২ সালে আইনটি সংশোধন করে ভিক্ষাবৃত্তির আরও কয়েকটি ধরন ও এর শাস্তির বিধান যুক্ত করা হয়। এর মধ্যে ক্ষত বা শারীরিক অক্ষমতা দেখিয়ে কিংবা তার ভান করে ভিক্ষা চাওয়া, ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুকে ভিক্ষাবৃত্তিতে ব্যবহার বা উৎসাহিত করা এবং ভিক্ষার উদ্দেশ্যে এমন সামগ্রী বা প্রদর্শনী উপস্থাপন করা, যা জীবিকার প্রকৃত উৎস নয়—এসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এ ছাড়া জনসাধারণের সহানুভূতি আদায়ের জন্য প্রতারণার আশ্রয় নেওয়া এবং মিথ্যা দাবি করে দান বা অনুদান সংগ্রহ করাও আইনের আওতায় অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়।
সূত্র: গালফ নিউজ
