কলকাতার হোটেলেগুলোতে নেই অগ্নি নিরাপত্তা, ঝুঁকিতে বাংলাদেশিরা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬, ০৩:২৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ভারতের কলকাতার নিউমার্কেট ও আশপাশের এলাকায় পুরোনো ও জরাজীর্ণ ভবনে গড়ে ওঠা বেশ কিছু আবাসিক হোটেলের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অনেক হোটেলে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম নেই, আবার কোথাও জরুরি মুহূর্তে বের হওয়ার পথও অত্যন্ত সরু। ফলে এসব হোটেলে অবস্থানকারী পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিশেষ করে কম খরচে চিকিৎসা ও অন্যান্য প্রয়োজনে কলকাতায় যাওয়া বাংলাদেশি পর্যটকদের একটি অংশ এসব হোটেলে অবস্থান করেন। গত ১৯ আগস্ট একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৭ বাংলাদেশিসহ ৯ জনের মৃত্যু হওয়ার পর নিউমার্কেট এলাকার হোটেলগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
মির্জা গালিব স্ট্রিট থেকে মার্কুইস স্ট্রিট পর্যন্ত এলাকায় দেখা যায়, ব্রিটিশ আমলের বেশ কিছু পুরোনো ভবনে ছোট-বড় আবাসিক হোটেল পরিচালিত হচ্ছে। অনেক ভবনের দেয়ালে নতুন করে পলেস্তারা দেওয়া হলেও বৈদ্যুতিক তার, এসির আউটডোর ইউনিট ও অন্যান্য সংযোগ অনেক জায়গায় ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
কিছু হোটেলের বাইরে থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক মনে হলেও ভেতরে প্রবেশ করলে ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। সরু প্রবেশপথ, সীমিত চলাচলের জায়গা এবং অপর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।
কলিন স্ট্রিটের একটি হোটেলে অগ্নিনিরাপত্তার অনুমোদন বা লাইসেন্স সম্পর্কে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্টরা তা দেখাতে পারেননি। একই হোটেলের লিফটও ছিল অত্যন্ত ছোট ও ঝুঁকিপূর্ণ। সেখানে অবস্থানকারী কয়েকজন বাংলাদেশি পর্যটক জানান, চিকিৎসার খরচ সামলাতে কম ব্যয়ে থাকার জন্য তারা এসব হোটেল বেছে নেন।
আরো পড়ুন: ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে রাস্তায় রোবট পুলিশ নামাল চীন
এক পর্যটকের ভাষায়, চিকিৎসার জন্য কলকাতায় এসে থাকার খরচ যতটা সম্ভব কম রাখার চেষ্টা করেন তারা। তাই নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হলেও অনেক সময় বিকল্প বেছে নেওয়ার সুযোগ সীমিত থাকে।
মার্কুইস স্ট্রিটের আরও কয়েকটি হোটেল ঘুরেও একই ধরনের চিত্র পাওয়া গেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ জানিয়েছেন, আবাসিক ভবনের বিভিন্ন কক্ষকে ভাগ করে হোটেল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে বৈদ্যুতিক সংযোগসহ নানা বিষয় থেকে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর হিসাবে, নিউমার্কেট ও আশপাশের এলাকায় প্রায় ৩০০ ছোট-বড় আবাসিক হোটেল রয়েছে। এসব হোটেলের উল্লেখযোগ্য গ্রাহক বাংলাদেশি পর্যটক। ফলে অগ্নিনিরাপত্তার ঘাটতি থাকলে দুর্ঘটনার সবচেয়ে বড় ঝুঁকিতে পড়তে পারেন বিদেশি পর্যটকরাও।
হোটেল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হায়দার আলি খান বলেন, প্রশাসন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যে ধরনের সহযোগিতা চাইবে, ব্যবসায়ীরা তা করতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে হোটেল মালিকদেরও নিজেদের নিরাপত্তাব্যবস্থা উন্নত করতে হবে বলে তিনি মনে করেন।
কলকাতা পৌরসভার প্রশাসক স্মিতা পান্ডে জানান, আগের দুর্ঘটনার পর একটি যৌথ দল গঠন করা হয়েছিল। বর্তমানে কলকাতা পৌর এলাকার হোটেলগুলোতে অডিট ও পরিদর্শন কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঠেকাতে আইন ও নিরাপত্তাবিধি কঠোরভাবে কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পুরোনো ও হেরিটেজ ভবনের কাঠামো পরিবর্তনের সীমাবদ্ধতার কথা সামনে এলেও নিরাপত্তার বিষয়টি উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির পর তাই প্রশ্ন উঠছে—ঝুঁকিপূর্ণ এসব হোটেলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব কার এবং পর্যটকদের জীবন রক্ষায় প্রশাসনের নজরদারি কতটা কার্যকর?
