×

ঢাকা

সরকারি দপ্তরের সামনে কর্মকর্তার ব্যক্তিগত চেম্বার, অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ

Icon

কবির হোসেন, আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর)

প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৫৩ পিএম

সরকারি দপ্তরের সামনে কর্মকর্তার ব্যক্তিগত চেম্বার, অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের মূল ফটকের সামনেই ‘আলফাডাঙ্গা ভেট কেয়ার প্লাস’ নামে ব্যক্তিগত চেম্বার পরিচালনা করছেন প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের (এলডিডিপি) কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুস সালাম। সরকারি দপ্তরে প্রাণিসম্পদ-সংক্রান্ত সেবা নিতে আসা লোকজনকে বিভিন্নভাবে ওই চেম্বারে যেতে প্রভাবিত করার এবং সেখানে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে এলডিডিপি প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও সরকারি মোটরসাইকেল ব্যবহার ও নিয়মিত অফিসে আসা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেল ৩টার দিকে সরেজমিনে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে গিয়ে ডা. মো. আব্দুস সালামকে নির্ধারিত কক্ষে সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। এ সময় দপ্তরের বাইরে তাঁর ব্যবহৃত সরকারি মোটরসাইকেলটি পার্ক করা ছিল।

পৌর এলাকার কুসুমদি গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল্লাহ আল মামুন, মোহাম্মদ আলী এবং নাওয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা কামরুজ্জামানসহ একাধিক সেবাগ্রহীতা অভিযোগ করেন, তাঁরা প্রাণিসম্পদ-সংক্রান্ত সেবা নিতে সরকারি অফিসে গেলে ডা. আব্দুস সালামের ব্যক্তিগত চেম্বারে যাওয়ার কথা বলা হয়। সেখানে গেলে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।

আরও পড়ুন: জামায়াতের তুলনায় আওয়ামী লীগের অপরাধ লঘুই বলা যায়: রাশেদ খান

সেবাগ্রহীতারা বলেন, ‘আমরা প্রাণিসম্পদ-সংক্রান্ত সেবা নিতে সরকারি অফিসে গেলে তাঁকে ব্যক্তিগত চেম্বারে যাওয়ার কথা বলা হয়। সেখানে গেলে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়। এতে আমরা বিভ্রান্তিতে পড়ি। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’

সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের নথি অনুযায়ী, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং বিশ্বব্যাংকের যৌথ অর্থায়নে পরিচালিত এলডিডিপি প্রকল্পটি ১ জানুয়ারি ২০১৯ সালে শুরু হয়। বিভিন্ন ধাপে মেয়াদ বাড়ানোর পর প্রকল্পটির মেয়াদ ৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। পরে ৩০ জুন চূড়ান্ত ইমপ্যাক্ট রিপোর্ট হস্তান্তর করা হয়।

জানা গেছে, ডা. মো. আব্দুস সালাম ২০ অক্টোবর ২০২০ সালে আলফাডাঙ্গায় এলডিডিপি প্রকল্পের প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তিনি নিয়মিত অফিসে আসছেন এবং সরকারি মোটরসাইকেলটি ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় বরাদ্দ পাওয়া সরকারি মোটরসাইকেল প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও ব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও প্রশ্ন উঠেছে। তাঁদের প্রশ্ন, প্রকল্পের কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর সরকারি যানবাহনটি কেন এখনও তাঁর কাছে রয়েছে এবং কোন অনুমোদনের ভিত্তিতে সেটি ব্যবহার করা হচ্ছে।

আলফাডাঙ্গা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. প্রভাস চন্দ্র সেন বলেন, প্রকল্পের কার্যক্রম শেষ হলেও ডেইরি ফার্মারদের সমিতির নিবন্ধনসংক্রান্ত কিছু কাজ চলমান রয়েছে। ওই কাজের কারণে তিনি মাঝেমধ্যে সরকারি মোটরসাইকেল ব্যবহার করেন এবং অফিসে আসেন।

ফরিদপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ কে এম আসজাদ বলেন, সরকারি গাড়ি বা মোটরসাইকেল ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা যাবে না। অফিসের কাজে ব্যবহার করতে হলে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার অনুমতি সাপেক্ষে ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রকল্প শেষ হলে সরকারি যানবাহন জমা দেওয়ার বিষয়টিও নিয়ম অনুযায়ী হওয়ার কথা। কেন এখনও জমা দেওয়া হয়নি, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ব্যক্তিগত চেম্বার পরিচালনা এবং সেবাগ্রহীতাদের সেখানে নিয়ে গিয়ে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে ডা. মো. আব্দুস সালামের বক্তব্য জানতে তাঁর কক্ষে গেলে তিনি কোনো মন্তব্য না করে দ্রুত সেখান থেকে বের হয়ে যান। তাই তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

‘খুন’ নিয়ে গান পোস্ট, দুই ঘণ্টার মধ্যেই গায়ককে গুলি করে হত্যা

‘খুন’ নিয়ে গান পোস্ট, দুই ঘণ্টার মধ্যেই গায়ককে গুলি করে হত্যা

গাবখান নদীর তীব্র ভাঙন, হুমকিতে অর্ধশত পরিবার ও মসজিদ

গাবখান নদীর তীব্র ভাঙন, হুমকিতে অর্ধশত পরিবার ও মসজিদ

সংরক্ষিত বনভূমিতে ৩ হাজার ঘরবাড়ি, সরকারি হিসাবেই ২ হাজার একর বেহাত

গারো পাহাড় সংরক্ষিত বনভূমিতে ৩ হাজার ঘরবাড়ি, সরকারি হিসাবেই ২ হাজার একর বেহাত

সরকারি দপ্তরের সামনে কর্মকর্তার ব্যক্তিগত চেম্বার, অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ

সরকারি দপ্তরের সামনে কর্মকর্তার ব্যক্তিগত চেম্বার, অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App