গাবখান নদীর তীব্র ভাঙন, হুমকিতে অর্ধশত পরিবার ও মসজিদ
ঝালকাঠি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬, ০৬:১৯ পিএম
ছবি: ভোরের কাগজ
ঝালকাঠি পৌর শহরের কেফাইতনগর এলাকায় গাবখান নদীর তীব্র ভাঙনে অর্ধশতাধিক পরিবার ও একটি মসজিদ ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে। নদীভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা এবং স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) জুমার নামাজ শেষে পৌর শহরের গাবখান ব্রিজের উত্তর পাশে কেফাইতনগর এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে নদীতীরবর্তী ভুক্তভোগী পরিবারসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে গাবখান নদীর তীর ভাঙছে। বর্তমানে নদীর তীর থেকে পার্শ্ববর্তী নগর খাল পর্যন্ত প্রায় ৩০০ মিটার এলাকা ভাঙনের কবলে পড়েছে। এতে নদীতীরবর্তী অর্ধশতাধিক পরিবার এবং মৌলভী বাড়ি জামে মসজিদ মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রতিদিনই নদীর পাড় ভেঙে বসতভিটার দিকে এগিয়ে আসছে পানি।
আরও পড়ুন: জামায়াতের তুলনায় আওয়ামী লীগের অপরাধ লঘুই বলা যায়: রাশেদ খান
তারা আরও জানান, দ্রুত ভাঙন ঠেকাতে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে অল্প সময়ের মধ্যেই বসতবাড়ি, মসজিদসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। এতে বহু পরিবার বসতভিটা হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় ধর্মীয় ও সামাজিক স্থাপনাগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ঝালকাঠি প্রেসক্লাবের সভাপতি ও ঝালকাঠি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট মো. আককাস সিকদার, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান তাপু, সদর উপজেলা জামায়াতে ইসলামির সেক্রেটারি মাওলানা হাফেজ মো. কাওছার, সাবেক কাউন্সিলর মো. শাহ আলম খান ফারসু, মৌলভী বাড়ি জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মাসউদুর রহমানসহ ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে গাবখান নদীর ভাঙন এলাকাবাসীর জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিন ভাঙনের পরিধি বাড়লেও স্থায়ীভাবে তা প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। জরুরি ভিত্তিতে ভাঙনকবলিত এলাকায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান তারা।
এ সময় গাবখান নদীর ভাঙন রোধে দ্রুত উদ্যোগ নিতে ঝালকাঠি পানি উন্নয়ন বোর্ড, স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দারের সহযোগিতা কামনা করেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের দাবি, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে গাবখান নদীর ভাঙনে কেফাইতনগর এলাকার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। তাই জনবসতি ও মসজিদ রক্ষায় দ্রুত নদীভাঙন প্রতিরোধের কাজ শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
