×

আন্তর্জাতিক

‘যৌনাঙ্গ’ চুরির অভিযোগ, প্রাণ গেল ৮০ জনেরও বেশি

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৩ পিএম

‘যৌনাঙ্গ’ চুরির অভিযোগ, প্রাণ গেল ৮০ জনেরও বেশি

ছবি : সংগৃহীত

গত বছরের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত ‘যৌনাঙ্গ চুরির’ মতো ভিত্তিহীন গুজবকে কেন্দ্র করে আফ্রিকার ছয়টি দেশে ৮০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভুয়া তথ্য ও কুসংস্কারের কারণে এসব দেশে গণপিটুনি ও দলবদ্ধ সহিংসতার ঘটনা বেড়েছে।

বিবিসি গ্লোবাল ডিসইনফরমেশন ইউনিট বিভিন্ন দেশের পুলিশ সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করে জানিয়েছে, হাত দিয়ে স্পর্শ বা পিঠে সামান্য টোকা দিলেই পুরুষের যৌনাঙ্গ সংকুচিত বা অদৃশ্য হয়ে যেতে পারে এমন উদ্ভট গুজবকে কেন্দ্র করে নিরপরাধ মানুষকে হামলার শিকার হতে হয়েছে।

তদন্তে দেখা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও বিভ্রান্তিকর পোস্ট এসব গুজবকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। অপরিচিত কারও সংস্পর্শে আসার পর যৌনাঙ্গ হারিয়ে গেছে বা ছোট হয়ে গেছে এমন অভিযোগ তুলে উত্তেজিত জনতা সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ওপর হামলা চালিয়েছে।

এই গুজবের ভয়াবহতার শিকার হয়েছেন তানজানিয়ার মেকানিক বনিফাস এমগালাও। গত এপ্রিলে গাড়ি বিক্রির কাজে গিয়ে এক বন্ধুকে নিয়ে একটি রেস্তোরাঁয় খাবার খেতে বসেছিলেন তিনি। কিছুক্ষণের মধ্যেই একদল উত্তেজিত মানুষ তাদের টেনেহিঁচড়ে বাইরে নিয়ে মারধর শুরু করে।

এমগালার দাবি, হামলাকারীরা অভিযোগ করছিলেন যে তারা কারও যৌনাঙ্গ চুরি করেছেন। মারধরের একপর্যায়ে তিনি জ্ঞান হারান। দুই দিন পর হাসপাতালে জ্ঞান ফেরার পর জানতে পারেন, তার সঙ্গে থাকা বন্ধু নিহত হয়েছেন। হামলার পর এখনো তিনি পুরোপুরি স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি।

বিবিসির যাচাই করা বিভিন্ন ভিডিওতে একই ধরনের সহিংসতার চিত্র উঠে এসেছে। কয়েকজন ব্যক্তি দাবি করেছেন, অপরিচিত কারও সংস্পর্শে আসার পর তাদের যৌনাঙ্গ বা অণ্ডকোষ অদৃশ্য কিংবা সংকুচিত হয়ে গেছে। এরপর সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ঘিরে ধরে তথাকথিত ‘চুরি যাওয়া’ অঙ্গ ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানানো হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আফ্রিকার কিছু অঞ্চলে দীর্ঘদিনের কুসংস্কার ও জাদুটোনায় বিশ্বাসের কারণে এ ধরনের গুজব সহজে ছড়িয়ে পড়ে। স্মার্টফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সেই গুজবকে আরও দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে।

গত বছর গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে এ ধরনের গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর তা ধীরে ধীরে বুরুন্ডি, জাম্বিয়া, তানজানিয়া, মোজাম্বিক, অ্যাঙ্গোলা, মালাউই ও কেনিয়াসহ বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে।

সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে মোজাম্বিকে। দেশটির পুলিশ জানিয়েছে, মাত্র ছয় সপ্তাহে গুজবকে কেন্দ্র করে ৫৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পুলিশ সদস্য, স্বাস্থ্যকর্মী ও সরকারি চাকরিজীবীও রয়েছেন।

মোজাম্বিকের প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল চাপো এসব গুজবকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, কারও শরীরের কোনো অংশ হঠাৎ হারিয়ে যাওয়ার বিষয়ে কোনো চিকিৎসাগত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

কেনিয়ার কোয়ালে ও মোম্বাসা উপকূলীয় এলাকাতেও একই ধরনের গুজবকে কেন্দ্র করে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন বলছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কিছু কনটেন্ট নির্মাতা ভিউ ও এনগেজমেন্ট বাড়ানোর জন্য এসব বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।

মালাউইতেও একই ধরনের গুজবের জেরে জনতার হামলায় আটজনের মৃত্যু হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, মিথ্যা তথ্য ও কুসংস্কারের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় ছড়িয়ে পড়ছে, যা শেষ পর্যন্ত গণপিটুনির মতো ভয়াবহ ঘটনায় রূপ নিচ্ছে।

বহুজাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটার এক মুখপাত্র জানিয়েছে, নীতিমালা লঙ্ঘনকারী সহিংসতা উসকে দেওয়া কনটেন্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে এ ধরনের ভিডিও ও পোস্ট অনলাইনে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় গুজব নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো তথ্য যাচাই না করে বিশ্বাস ও প্রচার করার প্রবণতা নিরপরাধ মানুষের জীবন কেড়ে নিতে পারে। তাই গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

লংমার্চে বাধা দিলেই রাজপথে বৃহত্তর আন্দোলন

লংমার্চে বাধা দিলেই রাজপথে বৃহত্তর আন্দোলন

রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপের বৈঠক

রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপের বৈঠক

‘যৌনাঙ্গ’ চুরির অভিযোগ, প্রাণ গেল ৮০ জনেরও বেশি

‘যৌনাঙ্গ’ চুরির অভিযোগ, প্রাণ গেল ৮০ জনেরও বেশি

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে একক প্রার্থী ঠিক করে বিজয়ী করতে হবে: এমপি মিলন

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে একক প্রার্থী ঠিক করে বিজয়ী করতে হবে: এমপি মিলন

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App