ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে একজোট যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ ও নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর মধ্যে এক ঐতিহাসিক ও নজিরবিহীন সংহতি দেখা দিয়েছে। সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোর ওপর হোয়াইট হাউজের নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের পর এই জোরালো প্রতিবাদ শুরু হয়। নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে গণমাধ্যমগুলো আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি একে অপরের পাশে দাঁড়িয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে ট্রাম্পের সংবাদ কাভারেজেও।
সংবাদের প্রচারে নীরব সমন্বয় ও বর্জনের প্রভাব
সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) থেকে মার্কিন মূলধারার সংবাদমাধ্যমগুলোতে ট্রাম্পের ছবি ও ভিডিওর উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। যদিও কোনো সংবাদমাধ্যমই পুরোপুরি ট্রাম্পের সংবাদ বর্জন করেনি, তবে তার ছবি ও ভিডিও প্রচারে এক ধরনের নীরব সমন্বয় লক্ষ্য করা গেছে।
ফক্স নিউজের উপস্থাপক ব্রেট বেয়ার জানান, জাতিসংঘে ট্রাম্পের বিভিন্ন কর্মসূচি থাকার পরও টেলিভিশন নেটওয়ার্কগুলো সংহতি প্রকাশ করে নিয়মিত প্রেস পুলে সিএনএনের বিকল্প হিসেবে দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানায়। হোয়াইট হাউজ স্থানীয় টিভি স্টেশনগুলোর মালিক গ্রে টিভিসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও সিএনএনের শূন্যস্থান পূরণে কেউ রাজি হয়নি।
ছবি ও অডিও প্রকাশে বয়কট
ট্রাম্পের অনুষ্ঠান ও সফরের ছবি তোলার দায়িত্বে থাকা আলোকচিত্রীদের মধ্যেও এই ঐক্য দৃশ্যমান হয়েছে।
ওয়াশিংটন পোস্ট ও নিউ ইয়র্ক টাইমস: হোয়াইট হাউজের স্টিল ফটোগ্রাফি পুল থেকে তোলা কোনো ছবি প্রকাশ বা বিতরণ না করার সিদ্ধান্ত নেয় এই গণমাধ্যমগুলো। নিষেধাজ্ঞার শিকার হওয়া সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতি সমর্থন জানিয়ে এই যৌথ উদ্যোগ নেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: আরও এক মার্কিন এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত
এপি ও এনপিআর: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) সোমবার প্রেসিডেন্টের কর্মসূচির কোনো ছবি প্রকাশ করেনি। পাশাপাশি পাবলিক রেডিও নেটওয়ার্ক এনপিআর সাময়িকভাবে ট্রাম্পের অনুষ্ঠানের অডিও প্রচার থেকে বিরত থাকে।
হোয়াইট হাউজের সংবাদকর্মীদের কর্মস্থলে একটি পোস্টারও দেখা গেছে, যেখানে লেখা ছিল—‘আই স্ট্যান্ড উইথ এপি, সিএনএন, এমএস নাও, পলিটিকো।’
সাংবাদিক সংগঠন ও সংবাদমাধ্যমের কড়া প্রতিবাদ
ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে পেন্টাগন প্রেস অ্যাসোসিয়েশন, সোসাইটি অব প্রফেশনাল জার্নালিস্টস, নিউইয়র্ক টাইমস ও দ্য আটলান্টিকসহ প্রভাবশালী সব সংগঠন ও সংবাদপ্রতিষ্ঠান অবস্থান নিয়েছে। নিউইয়র্কার, ফিন্যান্সিয়াল টাইমস ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নালসহ শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমগুলো কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টসের (সিপিজে) প্রধান জোডি গিন্সবার্গের উদ্যোগে প্রকাশিত একটি খোলা চিঠিতে স্বাক্ষর করেছে।
চিঠিতে ট্রাম্পের এই নিষেধাজ্ঞাকে ‘বিপজ্জনক নজির’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। জোডি গিন্সবার্গ মন্তব্য করেন, ক্ষমতাসীনদের জবাবদিহির আওতায় আনা মুক্ত সংবাদমাধ্যমের মৌলিক দায়িত্ব; কোনো সরকার ঠিক করে দিতে পারে না যে কোন সংবাদমাধ্যম তাদের বিষয়ে প্রতিবেদন করবে।
প্রতিযোগিতা ভুলে মুক্ত গণমাধ্যমের পক্ষে ঐক্য
যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমগুলো সাধারণত এক্সক্লুসিভ প্রতিবেদন ও দর্শক টানার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত থাকে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতা দূরে সরিয়ে রেখে তারা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রশ্নে এক প্ল্যাটফর্মে এসেছে। হোয়াইট হাউজের এই সিদ্ধান্তের ফলে ভবিষ্যতে অন্য সংবাদমাধ্যমগুলোও একই ধরনের বাধার মুখে পড়তে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই গণমাধ্যমগুলোর এই সম্মিলিত প্রতিরোধ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সূত্র: সিএনএন
