আমাদের পরাজয়ের কারণ হলো যুদ্ধ: জেডি ভ্যান্স
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:৫০ এএম
ছবি: সংগৃহীত
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধই ছিল তাদের দলের পরাজয়ের প্রধান কারণ, রিপাবলিকানদের মধ্যবর্তী নির্বাচনে হারের পর দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এ কথা লিখেছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স এ এক দীর্ঘ পোস্টে এই প্রতিক্রিয়া জানান তিনি।
জেডি ভ্যান্স বলেন, “আমাদের পরাজয়ের কারণ হলো যুদ্ধ।”
তিনি আরও বলেন, “সবাই জানে কেন আমরা হেরেছি। আর এখান থেকে আমরা কীভাবে সামনে এগোব, সেটা যে কোনো সৎ আলোচনা থেকেই শুরু হতে হবে”।
এদিকে, ডেমোক্র্যাটদের এই ভূমিধস জয়ের পর রিপাবলিকান দলের ভেতরে কী ধরনের চিন্তা- ভাবনা চলছে, দলটির একজন স্ট্র্যাটেজিস্ট বা কৌশলবিদের কাছে এই প্রশ্ন করেছিল বিবিসি।
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর ট্রাম্প-ভ্যান্স ট্রানজিশন টিমে কাজ করা রিপাবলিকান স্ট্র্যাটেজিস্ট মার্ক বেডনার বিবিসিকে জানান, এটা স্পষ্ট যে তাদের দল “২০২৪ সালে ঐতিহাসিক জয় এনে দেওয়া ট্রাম্পের সেই ভোটার জোটকে এবার উজ্জীবিত করতে পারেনি।”
তিনি বলেন, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার পর ডেমোক্র্যাটরা তাদের সিংহভাগ শক্তি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বিভিন্ন তদন্ত পরিচালনা করতে ব্যয় করবে। এমনকি তার বিরুদ্ধে অভিশংসন বা ইমপিচমেন্টের চেষ্টাও করবে।
“তাদের নিজেদের দলেও অভ্যন্তরীণ কোন্দল রয়েছে, যা সামনে আরো বাড়বে” বলেন বেডনার।
তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “রিপাবলিকানদের এখন এই বাস্তবতার সাথে খাপ খাইয়ে নিতে হবে যে, একাই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে টানার মূল চালিকাশক্তি হতে পারেন না।”
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগের জনমত জরিপগুলোর পূর্বাভাস বলছিল, মঙ্গলবার রাতটা ডেমোক্র্যাটদের ভালোই কাটবে। কিন্তু এই রাত যে তাদের জন্য রীতিমত আনন্দের বন্যা নিয়ে আসবে, বিশ্লেষকদের অনেকেই তা ভাবতে পারেননি।
ডেমোক্র্যাটদের এই নীল জোয়ার প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে তার দ্বিতীয় মেয়াদের শেষ দুই বছরে নতুন এক জটিল রাজনৈতিক বাস্তবতার সামনে ফেলে দিয়েছে।
আরও পড়ুন: মার্কিন নির্বাচনে ইতিহাস গড়লেন মুসলিম তরুণী
প্রতিনিধি পরিষদ ও সেনেট— কংগ্রেসের দুই কক্ষেরই নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে তার দল রিপাবলিকান পার্টি। শুধু কংগ্রেস নয়, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যের গভর্নর নির্বাচনেও ডেমোক্র্যাটদের সাফল্য ভোটের ফলাফলকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান তাদের এক বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে লিখেছে, মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের এই বিপুল বিজয়ের কৃতিত্ব দলের ভেতরের কোনো একটি নির্দিষ্ট অংশের নয়, বরং পুরো দলের।
“তাদের এই জয় এতটাই ব্যাপক ও অভাবনীয় ছিল যে, দলের ভেতরের বিভেদ দিয়ে এর ব্যাখ্যা দেওয়া সম্ভব নয়। এ বছর নির্বাচনে জেতার জন্য ডেমোক্র্যাটদের সবচেয়ে বড় যোগ্যতা ছিল—তারা রিপাবলিকান নন।”
তবে এই বিজয়ের মধ্য দিয়ে ডেমোক্র্যাটদের সামনে যেমন ক্ষমতার নতুন সুযোগ এসেছে, তেমনি ভোটারদের প্রত্যাশা পূরণের কঠিন পরীক্ষাও শুরু হয়েছে।
এই মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল স্বাভাবিকভাবেই ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে আলোচনা বাড়াবে। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ হওয়ার পর রিপাবলিকান পার্টি কাকে সামনে আনবে, তা এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রশ্ন।
এই নির্বাচনে ট্রাম্পের সমর্থিত প্রার্থীদের পরাজয় তার রাজনৈতিক প্রভাবের সীমাবদ্ধতা দেখিয়েছে। দলের প্রার্থী বাছাই ও নির্বাচনি কৌশলে তার ভূমিকা কতটা থাকবে, তা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।
রিপাবলিকানদের মধ্যে ট্রাম্পের সমর্থক এবং তার রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে সংশয়ী অংশের সম্পর্কও নতুন করে আলোচনায় আসতে পারে।
